রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিন: মিয়ানমার সরকারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা সফররত মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে শরণার্থী সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানে উপনীত হতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সম্ভাব্য সবকিছুই করা হবে।’

বর্তমান সরকারের শাসনামলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে মিয়ানমার শিক্ষা নিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সুরাইয়া বেগম, পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এবং ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মিয়ো মিন্ট উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির বিশেষ দূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন তিনদিনের সফরে মঙ্গলবার বাংলাদেশে এসেছেন। বুধবার দুপুরে ও বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে অজ্ঞাত সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর নয় সদস্য নিহত হয়। এরপর সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। রাখাইনদের ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যার অভিযোগ ওঠে সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৬৫ হাজার রোহিঙ্গা অত্যাচারের মুখে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তারা কক্সবাজারের নিবন্ধিত আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে।