নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে : ওলামা লীগ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

 ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামিক দল। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একমানববন্ধন তারা এমন মন্তব্য করেন।

 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নতুন পাঠ্যক্রমে ‘ও’ অক্ষরে ‘ওড়না’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে একটি কুচক্রী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওড়না মুসলমানদের ধর্মীয় পোশাক হওয়ায় তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছে। অথচ একই পাঠ্যক্রমে ঋ-তে শেখানো হচ্ছে ‘ঋষি’। র-তে শেখানো হচ্ছে ‘রথ টানি’। এরুপ আরো অনেক হিন্দুয়ানী শব্দ। সেক্ষেত্রে তারা সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ করছেনা। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে ‘ওড়না’ শব্দ থাকায় নাকি লিঙ্গ বৈষম্য হয়েছে। নাস্তিক্যবাদীদের মতে “একেবারে ছোট বয়স থেকে নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি করে এমন কোন শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ নয়।” তাহলে তো স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা ইউনিফর্মও তুলে দিতে হবে! কারণ ছেলে ও মেয়েদের আলাদা ইউনিফর্ম তাদের মধ্যে পার্থক্য তৈরী করছে এবং লিঙ্গ বৈষম্য শিখছে। পাশপাশি ওড়না বিরোধীদের বক্তব্য অনুযায়ী তাহলে মেয়েরা অন্তর্বাস পরাতে পারবেনা। সেলোয়ার কামিজ পরাতে পারবেনা। এভাবেও তো তাহলে লিঙ্গ বৈষম্য তৈরী হয়! নারী ও পুরুষের পার্থক্য তৈরি হয়! নাস্তিক্যবাদীরা কি এগুলো বাদ দিবে? এছাড়া বাংলার নারীদের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া, বঙ্গমাতা ফজিলতুন নেছা, বর্তমান কালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার, কৃষিমন্ত্রী সবাই মাথায় শাড়ি বা ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকেন। এভাবেই তো তারা দেশ চালাচ্ছেন। ওড়না কি তাদের নারী প্রগতিতে কোন অন্তরায় হয়েছে?
বক্তারা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বকীয়তা নিয়ে আমরা চরম আতঙ্কিত। অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তক থেকে সব হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রত্যাহার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে হিন্দু নিয়োগে আধিপত্য বন্ধ করতে হবে। এলক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারী আমরা পাঠ্যপুস্তক ভবন ঘেরাও কর্মসূচী পালন করব।

বক্তারা আরো বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক দেবী থেমিসের মূর্তি স্থাপন বন্ধ করতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়টি নিয়ে পেপার পত্রিকায় বক্তৃতা, বিবৃতি দিচ্ছে এবং মিছিল সমাবেশ করে যাচ্ছে। সরকার সমর্থিত ওলামারাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। অবিলম্বে সরকার বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে মুসলমানদের কোন ধর্মীয় নিদর্শন এখানে স্থাপন করা উচিত ছিল। যাতে সরকারকে আরো জনপ্রিয় ও ধর্মপ্রাণদের সরকার হিসেবে তুলে ধরা যায়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন,  মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ।

বক্তব্য রাখেন, কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ,  হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, মাওলানা মুজিবুর রহমান চিশতিগ, হাফেজ মাওলানা মোস্তফা চৌধুরী বাগেরহাটি হুযূর-সভাপতি বাংলাদেশ এতিমখানা কল্যাণ সমিতি, হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, ডা. সাইফুদ্দীন মিয়াজি, আল্লামা পীরজাদা পীর আলহাজ্জ হাফেয ক্বারী মাওলানা কাজী মাসুদুর রহমান, ডাক্তার মাওলানা মুহম্মদ সাইফুদ্দিন মিয়াজী, মাওলানা আব্দুর রহিম শেরপুরী।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান, আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার।