সমাজবিরোধী দুষ্টু মিডিয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ জোরদার করতে হবে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুনির আহমদ


মুনির আহমদ

২০১৩ সালে স্কুল পাঠ্যবইয়ে নৈতিক ও আদর্শিকভাবে বড় ধরণের পরিবর্তন ঘটানো হয়। তখন স্কুল পাঠ্যবইয়ে সামাজিক চাহিদা অনুপাতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা নৈতিক শিক্ষার ১৭টি জনপ্রিয় গল্প ও কবিতা বাদ দিয়ে তদস্থলে হিন্দু তত্ত্ব ও নাস্তিক্য চিন্তার চরম আপত্তিকর ১২টি গল্প কবিতা সংযুক্ত করা হয়। যেটা ২০১৬ সালের শুরুতে আমাদের নজরে আসে।

‘ও’ দিয়ে ‘ওড়না’ নিয়ে এখন হাউ কাউ করা প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বিবিসি বাংলা, বাংলা নিউজ ওয়ালারা তখন পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন ও প্রণয়নের নিয়ম, অনুমোদন ও নীতিমালা যথাযথভাবে কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল, সে নিয়ে প্রশ্নতুলে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ তো পরের কথা, পাঠ্যবইয়ের সামাজিক চাহিদা বিরোধী এতবড় পরিবর্তন নিয়ে টু শব্দটি পর্যন্ত তারা করেনি। এমনকি ২০১৬ সালে পাঠ্যপুস্তকের চরম আপত্তিকর নতুন সংযোজিত লেখা নিয়ে যখন সারাদেশে দুর্বার প্রতিবাদি আন্দোলন গড়ে ওঠে, তখনও কিন্তু এই মিডিয়াগুলো একদম নিশ্চুপ থেকেছে।

এ বছর যখন ২০১৩ সালের পর নতুন সংযোজিত আমাদের “বিশ্বাস, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী” চরম আপত্তিকর কয়েকটি লেখা বাদ দিয়ে ২০১৩ সালের পূর্ব পর্যন্ত বিদ্যমান থাকা কিছু গল্প ও কবিতা স্কুল পাঠ্যবইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়, তখনই প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বিবিসি, বাংলা নিউজ গংদের জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পাঠ্যপুস্তকের বিতর্কিত লেখা নিয়ে ২০১৬ সালের শুরু থেকে লাখ লাখ অভিভাবক, আলেম ও জনসাধারণের দুর্বার মিছিল, প্রতিবাদ সভা, সাংবাদিক সম্মেলন এসব মিডিয়া এড়িয়ে গেলেও এখন তারা ইসলাম নির্মূলবাদি গুটি কয়েক চুনোপুটির মন্তব্য নিয়েও বিশাল বিশাল সংবাদ ও মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এরা ‘ও’ দিয়ে ‘ওড়না’ লেখায় সাম্প্রাদয়িকতা ও অসামঞ্জস্য খুঁজে শোরগোল পাকায়, কিন্তু ‘র’ দিয়ে ‘রথ টানি’, ‘ত’ দিয়ে ‘তবলা বাজাই’, ‘ঢ’ দিয়ে ‘ঢাক বাজাই’, ‘ঋ’ দিয়ে ‘ঋষি’র মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা ও অসামঞ্জস্য খুঁজে পায় না।

মূলতঃ প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, বিবিসি বাংলা, বাংলা নিউজওয়ালারা সমাজ বিচ্ছিন্ন অতিক্ষুদ্র একটা অংশের মিশন এগিয়ে নিতে কাজ করছে, যাদের লক্ষ্য হচ্ছে নৈতিক আদর্শ ও ইসলামী চেতনাবোধের বিপক্ষে এবং নাস্তিক্যবাদ ও স্বেচ্ছাচারিতার পক্ষে কথা বলে ভোগবাদি সমাজ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করা। মূলতঃ এরা দেশী-বিদেশী আধিপত্যবাদি শক্তির ক্রীড়নক হয়ে কাজ করে এবং নিজেরাও ভোগবাদিতা ও ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করে। এরা শুধুই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার ক্ষতি করছে তা নয়, বরং তারা ইসলামী আদর্শ ও মুসলিম চেতনাবোধেরও ক্ষতি করছে।

সমাজিক চাহিদা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় আদর্শ বিরোধী চিন্তা, মতবাদ ও সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রুখতে হলে, সবার আগে এসকল দুষ্টু মিডিয়ার বিরুদ্ধে আওয়াজ জোরদার করতে হবে।