কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের ঈমান আকীদা বিরোধী তৎপরতা বন্ধ, সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন, পাঠ্যপুস্তকে ইসলাম ধর্মীয় বিষয় সমূহ সংযোজনে বামপন্থীদের নতুন ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং মুসলিম সংস্কৃতি বিরোধী ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলি নিষিদ্ধ করার দাবী জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত নেতৃবৃন্দ।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে খতমে নবুওয়ত শীর্ষক আলোচনা সভায় দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম এ দাবী জানান।

উক্ত আলোচনা সভায় সভপতিত্ব করেন- সংগঠনের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা হাফেজ নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, খেলাফত মজলিশের মহা-সচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান, কোরআন প্রচার সংস্থার সভাপতি মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, খতমে নবুওয়ত সহ-সেক্রেটারী মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী (পীর সাহেব, ছারছীনা), মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, হেফাজতে ইসলাম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামেদী, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, খতমে নবুওয়ত রিয়াদের নেতা মাওলানা আব্দুস সালাম পাটোয়ারী, মাওলানা আবুল হাসেম, মাওলানা আব্দুল মালেক, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা মাসুদ আহমদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, মুফতি ইউসুফ সিদ্দিকী, মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ আরমান, মাওলানা ইলিয়াস আতহারী, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা খালেদ বিন নূর।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রীক দেবীর মূর্তি স্থাপন সংবিধান বিরোধী। এই মূর্তি অপসারণ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি সুপ্রীম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন বন্ধ না করলে দেশের তৌহিদী জনতা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা চলবেনা। ইসলামে যেকোন ধরনের মূর্তি স্থাপন করা হারাম। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আমি মূর্তি ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে মূর্তি স্থাপন করা সরকারকে বিতর্কিত করার হীন প্রচেষ্টা।

বক্তগণ বলেন, সরকার নতুন পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী বিষয় সংযোজন করায় বামপন্থী মিডিয়া এবং নাস্তিক্যবাদী একটি বিশেষ মহল পানি ঘোলা করার ষড়যন্ত করছে। তাদের জানা দরকার পাঠ্যপুস্তকে যেসব প্রবন্ধ কবিতা পূনর্বহাল করা হয়েছে সেগুলো ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পাঠ্য ছিল। এদের চক্রান্ত মোকাবিলায় বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।

প্রধান অতিথির ভাষণে মাওলানা আশরাফ আলী বলেন, খতমে নবুওয়ত আকীদায় ফাটল ধরাতে বৃটিশরা ভন্ড গোলাম আহমদকে দিয়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের জন্ম দিয়েছে। আহমদিয়া মুসলিম জামাত নাম দিয়ে তারা দেশের সরল প্রাণ তৌহিদী জনতাকে ঈমান হারা করছে। কাদিয়ানরা রাসূল (সাঃ) কে শেষ নবী মানে না। যারা রাসূল (সাঃ) কে শেষ নবী স্বীকার করেনা ইসলামী শরীয়তে তারা কাফের। তাই রাষ্ট্রীয়ভাবে এদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

মাওলানা নুর হোসেন কাসেমী বলেন, খতমে নবুওয়ত দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এটা আমাদের ঈমানী আন্দোলন। সবাইকে ঈমান আকীদার হেফাজতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরী।

মাওলানা আতাউল্লাহ বলেন, খতমে নবুওয়্যাতের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হবে। আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের চক্রান্ত সফল হবেনা।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের সকল ওলামা মাশায়েখ ও মুফতিগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাদিয়ানীরা কাফের ও অমুসলিম। তারা ইসলামের বিরুদ্ধ নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এদের সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণার ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। তিনি সারাদেশে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ কোর্সের কর্মসূচী ঘোষণা করেন।