বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম হয়ে কাশ্মীরের মুজাহিদীন কমান্ডারের মেয়ের নজির স্থাপন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম হয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন কাশ্মীরের মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহানের মেয়ে শাহিরা আহমেদ।

কাশ্মীরের ত্রাল জেলার দাদসারা গ্রামেই বাস করেন শাহিরা আহমেদ। এই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবারই জানা। বুরহানের মৃত্যুর ঘটনা কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদের আবহকে ফের উস্কে দেয়।

সেই সময় বহু স্কুলের দরজাই বন্ধ হয়ে যায় অশান্ত পরিবেশের কারণে। তার মধ্যেও শাহিরা আহমেদের এই সাফল্য চোখে পড়ার মতো।

কাশ্মীরের এই শাহিরা আহমেদের সঙ্গে পিতা বুরহান ওয়ানির মিল হচ্ছে, দুজনেই একই স্কুলের পড়ুয়া। তবে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদের বীজ বপনকারী হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির একেবারে বিপরীত কাজ করে দেখিয়েছেন এই শাহিরা আহমেদের।

বুরহান ওয়ানির যেখানে কাশ্মীরকে অশান্ত করার জন্য হাতে তুলে নিয়েছিল বন্দুক আর সেখানে তার-ই মেয়ে শাহিরা আহমেদ হাতে তুলে নিয়েছেন বই। বই হাতে এই মেয়ে শুধু নিজের স্কুল নয় গোটা রাজ্যকেই গৌরবান্বিত করেছেন।

শাহিরা আহমেদ দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন, তাও আবার ৫০০ নম্বর এর মধ্যে ৪৯৮ নম্বর পেয়ে। যা গোটা রাজ্যের সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

উল্লেখ করার বিষয় হচ্ছে, বুরহানের মৃত্যুর পর গত বছরের জুলাই মাস থেকে প্রায় পাঁচ মাস স্কুলের পাঠদান ছিল বন্ধ, তা সত্ত্বেও এই সাফল্য দেখিয়েছেন শাহিরা আহমেদ।

কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন শাহিরা? দিনের ২৪ ঘণ্টাই যেখানে মসজিদের মাইকে চিৎকার ভেসে আসে, সেখানে তার এই ফলাফল সবাইকে অবাক করেছে।

সমস্ত প্রতিকুল অবস্থাকে জীবনের অঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করে শাহিরা আহমেদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতির মধ্যেই আমি বড় হয়েছি। আমি শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই মনোযোগ দিয়েছি। ঠিক করেই রেখেছিলাম, আমাকে পড়তেই হবে। কোনো কিছুই সেই ইচ্ছাকে টলাতে পারেনি।’