তাত্ত্বিক নাস্তিকতা নয়, মানহীন ধর্মবিদ্বেষই বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুফতী হারুন ইজহার (কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক হেফাজতে ইসলাম)


হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের প্রাক্কালে ২০১৩ সালে নাস্তিক্যবাদের উপর বিশাল একটি কর্মশালা আয়োজন করেছিলাম ইসলামী রেনেসাঁর উদ্যোগে।

নাস্তিকতা প্রশ্নে চিন্তাবিবর্জিত আমাদের ইসলামী রাজনীতি যে ধুয়াশাচ্ছন্ন পথ দিয়ে এগুচ্ছে সে পটভূমিতে অভিনব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন জয়যাত্রা শুরু করেছে বাঁশখালীর কিছু উদ্যমী, শিক্ষিত কওমী তরুণ যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন মাও.মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পুকুরিয়াবী।

আক্বায়েদ সম্মেলনটিতে যোগ দিয়ে আওয়ামি লীগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নারায়ে তাকবীর শ্লোগান তুলে গর্জে উঠলেন ‘নাস্তিকের আস্তানা অত্র এলাকায় থাকবেনা’ বলে। আন্দোলনকে রাজনীতিকরণ না করে প্রজ্ঞার মাধ্যমে স্থানীয় নাস্তিকদের তারা একঘরে করে ফেলতে পেরেছেন। হেলাল সাহেবর নেতৃত্বাধীন সচেতন তরুণরা এমনভাবে আদর্শিক মেরুকরণ তৈরী করেছেন যাতে স্থানীয় আওয়ামি লীগ পরিপূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে গিয়ে নাস্তিকদেরকে তাওহিদী হুংকারের মুখে একা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

জাতীয় দিগন্ত বাদ দিয়ে আমি মফস্বলে ঢুকে পড়লাম নাকি? না। আমি একটি নজির উপাস্থাপন করছি। আমাদের নাস্তিকতাবিরোধি সংগ্রাম তার আদর্শিক প্রাণ ও রুপ হারিয়ে যখন রাজনৈতিক অভিপ্রায়ের শিকারে পরিণত হল তখন থেকেই জনগন আমাদের নৈতিক দুর্বলতার জায়গাটি চিহ্নত করে ফেলে। আর শত্রুরা হয়ে উঠে বে পরওয়া যা আওয়ামি লীগ আর শাহবাগের দাম্পত্যপ্রণয় পর্যন্ত গড়ায়।

বাংলাদেশে তৃণমুল আওয়ামী রাজনীতি নাস্তিকতার সাথে যায় না। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামিলীগ পারিপার্শ্বিক উগ্রবাদী সেক্যুলার বলয়ে অনেকটা আবদ্ধ। তাই বলে কি হয়েছে! আামাদের সে নৈতিক দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞার মুরোদ নেই কেন যার দ্বারা আমরা আওয়ামি লীগের ঘাড়ে স্থাপন করা নাস্তিকের বন্দুক ধড়াস করে মাটিতে ফেলে দিতে পারি।

(খ) নাস্তিকতাবিরোধী সংগ্রামের সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য তাকে আমাদের মৌলিক পাঠের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। কওমী মাদ্রাসার সিলেবাসের কিতাব ‘শরহে আক্বায়েদ’র পাঠকে আল্লামা থানবীর ‘আল ইন্তিবাহাতে’র আলোকে সাজাতে হবে। ইলমুল কালাম কাদীমের সাথে ইলমুল কালাম জাদিদের সমন্বয় না ঘটাতে পারলে ঐসব কেবল প্রৌঢ় নারীর প্রসাদনই থেকে যাবে। আধুনিক ইরতিদাদের বসন্তকালে তা বরাবরই অকার্যকর।
প্রাতিষ্ঠনিক পাঠের পাশাপশি বিশ শতকের ইসলামী স্কলারদের বই গুলোকে পাঠচক্র ও কর্মশালার মাধ্যমে অনুশীলনে নিয়ে আসতে হবে।

(গ) নাস্তিকতা/Athiesm আর ধর্মবিদ্বেষ/Antipathies এদুটোর ভিন্নতা আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের কর্মে ও পর্যালোচনায়। আহমদ শরিফ যতটা ধর্মবিদ্বেষী তার চেয়ে বেশি ছিলেন নাস্তিক। পক্ষান্তরে শাহরিয়ার কবির গং যতটা না নাস্তিক তার চেয়ে বেশি ধর্মবিদ্বেষী। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চের এরাই নেপথ্য নায়ক।

তাত্ত্বিক নাস্তিকতা নয়, মানহীন ধর্মবিদ্বেষই বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক।

ফেসবুক থেকে