দুধের গল্প!

দুধের গল্প!

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


মুহাম্মাদ নাজমুল ইসলাম


বহু আগেকার গল্প। হজরত মাওলানা রফী উদ্দীন রাহ. মুহতামিম থাকাবস্থায় দেওবন্দে একটা বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটে। একবার একটা ছাত্র মাদরাসার বোর্ডিং থেকে খাবার উঠিয়ে সে খানার পাত্রটি নিয়ে সোজা চলে আসলো মাওলানার রফী উদ্দীন সাহেব’র কাছে।এসে বলতে শুরু করলো এই শুরবা কি খাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে?নাকি ওজু করার জন্য। এটা তো একদম খাবারের উপযোগী-ই না।

এটা একটা শুরবা হলো!শুধুই তো টাটকা পানি দেখা যাচ্ছে।এটা কেমনে খাবো?এর দ্বারা তো ওজু করা যাবে! তার এ অভিযোগ শুনার পর রফী উদ্দীন সাহেব খুব দূরদৃষ্টি দিয়ে তার চেহারার দিকে অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন।তারপর বললেন; এই ছেলেটা সত্যিকারার্থে দারুল উলূম দেওবন্দে’র রেজিস্টারভুক্ত কোনো ছাত্র না।

এ কথা শুনে উপস্থিত ছাত্র উস্তাদ সবাই তাক লেগে গেলো। আসলে বিষয়টা কি! হজরত কেমনে একটা ছেলেকে বিশ্বাসের সাথে মাদরসার ছাত্রই না বলে অস্বীকার করে বসলেন। কারণ কি?

সবাই কিছুটা উদ্যত হয়ে মাদরাসার রেজিস্টারবুকে ওর নাম খুঁজাখুঁজি শুরো করলো। কিন্তু সত্যিকারই দেখা গেলো বাস্তবে-ই ও দারুল উলূমের ছাত্র না। ধোঁকাবাজি করে বোর্ডিং লিস্টে নিজের নাম লিখিয়ে খাবার খাচ্ছে।

এবার সকল ছাত্র উস্তাদ হজরতের কাছে এর রহস্য জানতে চাইলেন যে, কেমনে আপনি একদম বিশ্বাসের সাথে বললেন ও দারুল উলূমের ছাত্র না। তখন রফী উদ্দীন সাহেব বললেন আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম হুজুর সা. নিজ হাতে দুধ বিতরণ করছেন আর ছাত্ররা নিজ নিজ পাত্র দিয়ে দুধ সংগ্রহ করছে।

আলহামদুলিল্লাহ্‌! সেদিন যারাই দুধ সংগ্রহ করেছে সবার চেহারাই আমার কাছে পরিচিত। এমনকি যারাই দারুল উলূমে ভর্তি হয় সঙ্গে সঙ্গেই আমি তাদের চেহারাগুলি চিনে ফেলি। এজন্য খানা সম্পর্কে ওর অভিযোগ করার পর আমি যখন গভীর দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম, মনে হলো অকে তো সেদিন আমি রাসূল সা.’র হাত থেকে দুধ সংগ্রহ করতে দেখি নি। সুতরাং ও দারুল উলূমের ছাত্র না।
এজন্যই আমি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথেই বলেছিলাম ও প্রকৃতপক্ষে দারুল উলূমের রেজিস্টারভুক্ত ছাত্র না।

উল্লেখ্য যে, অনেক আগেকার গল্প। দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে একবার শাহ রফিউদ্দীন রাহ. স্বপ্নে দেখলেন যে দারুল উলূমের নিকটবর্তী কূপ দুধে ভর্তি হয়ে গেছে। এবং হুজুর সাল্লাল্ললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পেয়ালা দিয়ে উক্ত দুধ বন্টন করছেন। কেহ বড় পাত্র দিয়ে দুধ নিচ্ছে। আবার কেহ কেহ ছোট ছোট পাত্র দিয়ে দুধ নিচ্ছে। ঘুম থেকে জাগার পর হজরত এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করলেন এভাবে যে, এখানে দুধ দারা উদ্দেশ্য হলো, ইলম। সুতরাং কেয়ামত অবধি যারাই এখানে পড়তে আসবে প্রত্যেকে-ই নিজ নিজ মেহনতের উপর ইলম লাভে ধন্য হবে। এই পাত্রের মতো। কেউ কম কেউ বেশী।

(সূত্র:মুবাশশারাতে দারুল উলূম পৃ:৪৭)