অবিলম্বে মূর্তি অপসারণ ও অবৈধ ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে হবে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (ফাইল ছবি)

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে লেডি জাষ্টিজ-এর মূর্তি স্থাপনকে পশ্চিমা সংস্কৃতি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টান অধ্যুষিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের সামনে সর্বোচ্চ প্রণেতা হিসেবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর নাম লিপিবদ্ধ থাকলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সুপ্রিমকোর্টের সামনে গ্রীক দেবী লেডি জাস্টিস-এর মুর্তি স্থাপন করে মুসলিম সাংস্কৃতিক চেতনা ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংস্কৃতির মানে হচ্ছে আত্মপরিচয়। মানুষের বিশ্বাস, আচরণ ও জ্ঞানের সমন্বিত প্যাটার্নকে বলা হয় সংস্কৃতি। ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম ও বিশ্বাস, রীতি-নীতি, সামাজিক মুল্যবোধ, উৎসব, শিল্পকর্ম ও আইন-কানুন প্রভৃতি সবকিছু নিয়েই সংস্কৃতি। লেডি জাষ্টিজ-এর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগণের সাংস্কৃতিক কোন অনুষঙ্গেরই অংশ নয়।

তিনি অবিলম্বে সুপ্রিমকোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জান-মাল দিয়ে হলেও ঈমান রক্ষায় ইসলামী জনতা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে, যা সরকারের জন্য শুভ হবে না।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইন ২০০৬ অনুযায়ী ভারতীয় টিভি চ্যানেলসহ সকল অশ্লীল বিদেশী চ্যানেল নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। কেনান এসকল ধারাগুলোতে উল্লেখ আছে হিংসাত্মক, সন্ত্রাস, বিদ্বেষ ও অপরাধ সম্বলিত কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, সামাজিক, ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জতীয় সংহতি এবং রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তি পরিপন্থি কোন অনুষ্ঠান প্রচার করা যাবে না। অথচ উল্লেখিত শর্তসমূহ পরিপূর্ণ লঙ্গণ করে অনুমোদনহীন বর্তমান অশ্লীল ভারতীয় চ্যানেলসমূহ প্রচারিত হচ্ছে। কাজেই এগুলো বন্ধ করতে হবে।
আজ বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরী সভায় তিনি একথা বলেন।

মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব- অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, সহকারি মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান. নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী প্রমুখ।