যুক্তরাষ্ট্রের পুড়িয়ে দেয়া মসজিদ আবারও নির্মাণের ঘোষণা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে পুড়িয়ে দেয়া মসজিদটি আবারও নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় মুসলমানরা।

মসজিদটি নির্মাণের জন্য সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল চেয়ে আবেদন জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছয় লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ যোগাড় হয়েছে।

অনলাইনে গণচাঁদার মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে মুসলমানদের পাশাপাশি ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিকদেরও অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি মুসলিম দেশের শরণার্থীদের প্রবেশ ও নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ওইদিন দিবাগত রাত ২টায় দক্ষিণ-পূর্ব টেক্সাসের ‘ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার’ নামের মসজিদটি পুড়িয়ে দেয়া হয়।

‘বাইবেল প্রধান’ নামে পরিচিত উগ্র খ্রিস্টান অধ্যূষিত এলাকাটিতে ২০০০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এর এক বছর পরেই টুইন টাওয়ারে হামলার ঘটনার ঘটেছিল।

তবে এ মসজিদে আগুনের ঘটনায় ভিক্টোরিয়া শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার তৈরি হয়েছে। মসজিদটির কমকর্তাদের সহানুভূতি জানিয়েছেন অন্য ধর্মের সাধারণ মানুষ এবং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ের প্রতিনিধিরা।

এ ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মুসলমানরাও মসজিদটির সামনে ছুটে আসেন।

 

‘ভিক্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টারের প্রেসিডেন্ট শহীদ হাশমি আল জাজিরাকে বলেন, শনিবার সকালে মসজিদটি পুড়তে দেখে আমরা শোকাহত হয়ে পড়ি।

তবে জনগণের কাছ থেকে সহানুভূতি এবং সহযোগিতা পেয়ে অভিভূত হাশমি। তিনি বলেন, যেভাবে হ্রদয়গ্রাহী সাড়া পাচ্ছি তা অবিশ্বাস্য। আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।

চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ মসজিদটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সাড়ে আট লাখ ডলার তহবিল যোগাড় হয়ে যাবে বলেও জানান হাশমি। যার ভবনে মসজিদটি স্থাপন করা হয়েছে এরই মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ভবন মালিক মসজিদ পুননির্মাণে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং ভবন পুননির্মাণের অনুমতি লাভ বাকি আছে। এরপরই মসজিদটি নির্মাণ শুরু হয়ে যাবে।

হাশমি বলছেন, ইনশাল্লাহ আগামী রমজান আমরা নতুন মসজিদেই পালন করব।

এদিকে মসজিদে আগুন লাগার কারণ এখনও জানাতে পারেনি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ভিক্টোরিয়া অগ্নিনির্বাপক দফতর। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) ভিক্টোরিয়া পুলিশ, অগ্নিনির্বাপক দফতর ও অ্যালকোহল-টোব্যাকো-আগ্নেয়াস্ত্র বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে।