দেশব্যাপী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের স্মারকলিপি কর্মসূচী পালন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবীতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় ও দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান বিচারতির কাছে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় প্রধান বিচারপতির বরাবরে দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি পেশ করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ ।

স্মারকলিপি কর্মসূচী পূর্ব ঘোষিত হওয়ায় প্রধান বিচারপতির নিকট স্মারকলিপি প্রদানের জন্য প্রতিনিধি দল সকাল সাড়ে এগার টায় দলীয় কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে গোয়েন্দা লোকজন দলটিকে অনুসরণ করে। প্রতিনিধি দল হাইকোর্ট মাজার গেইটের সামনে গেলে অপেক্ষমান পুলিশ টিম প্রতিনিধি দলকে গেটের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।

এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে তার সহকারী রেজিস্টার মিনহাজুল আবেদীন মাজার গেইটে এসে তাদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, অফিস ও বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলালা, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুল হক, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাওলানা এনামুল হক মূছা, কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা হাবীবুল্লাহ হারুনুর রশীদ ।

কর্মসূচী অনুযায়ি বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেন, মাওলান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দলের নায়েবে আমীর ও সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা রেজাউল করীম জালালীর নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আজিজ, সহ-সভাপতি মাওলানা জাহিদ উদ্দীন চৌধুরী প্রমুখ।

একই দাবীতে নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল্লাহ এর নেতৃত্বে আরো ছিলেন মহানগর নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক প্রমূখ।

স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দীন হায়দার ।

নোয়াখালীতে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম মামুনের নেতৃত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফুল্লাহ, মাওলানা আব্দুর রহীম বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা খালেদ মাহমুদ, মাওলানা আবু সাঈদ, মাওলানা উমর ফারুকসহ নেতৃবৃন্দ। কুমিল্লা পূর্ব জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুনিরুল ইসলামের এর নেতৃত্বে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এসময় আরো উপস্থিত , পূর্ব জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বাশারত ভূইয়া, মহানগর সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, জেরা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শাহাজলাল প্রমূখ।

ফেনীতে স্মারকলিপি প্রদান করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফেনী জেলার সভাপতি মাওলানা জসিম উদ্দীনের নেতৃত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমির হোসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূর নবী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মাওলানা সাঈদ, মাওলানা রেজওয়ানুল্লাহ প্রমূখ । একই দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস খুলনা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ সাঈদুর রহমানে নেতৃত্বে জেলা ও মহাগর নেতৃবৃন্দ জেরা প্রশাসকের নিকট প্রধান বিচার পতির স্মারকলিপি দিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শহিদুল ইসলাম, মুফতী ওয়ালি উল্লাহ, মাওলানা মাহফুজুর রহমান। একই দাবীতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন দলের জেলা সভাপতি মাওলানা ইসমাঈল নুরপুরীর নেতৃত্বে জেলা নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ- সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মাওলানা ওলিউল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, মাওলানা সোলাইমান প্রমূখ। একই দাবীতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন দলের জেলা সভাপতি মুফতী হাবীবুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিনিয়র সহ:সভাপতি আব্দুল মন্নান মিটিপুরী, সহ-সভাপতি মাওলানা ওলিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুদ্দীন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাওলানা ফজলুর রহমান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা আব্দুল আজিজ প্রমূখ।

চাঁদপুর জেলা সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হোসাইনের নেতৃত্বে জেলার নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাকী, এডভোকেট আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক মুফতী আমিনুল্লাহ বিন নূরী প্রমূখ।

হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিনা আলমের মাধ্যমে প্রধান বিচার পতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকব মাওলানা আনোয়ার আলীর নেতৃত্বে জেলা নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সাধারণ মাওলানা নোমান আহমদ, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আশিকুর রহমান, ছাত্র মজলিস জেলা সাধারণ সম্পাদক ফাবাস্সির আহমদ, নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হাসান প্রমূখ।

সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা নুর উদ্দীনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা সৈয়দ মুনসিফ আলী, মাওলানা মুহিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহিদ আহমদ প্রমূখ।

বি-বাড়িয়া জেলায় স্মারকলিপি পেশ করেছেন জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আজীজ এর নেতৃতে জেলা নেতৃবৃন্দ।

এ সময় ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মঈনুল ইসলাম খন্দকার, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম। কিশোরগঞ্জ জেলার সভাপতি শায়খুল হাদীস মাওলানা আব্দুল করীমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জেলা নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জোবায়ের আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উসমান গণি, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা আবু হানিফ প্রমূখ।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন দলের জেলা সাধারন সম্পাদক মাওলানা মিছবাহুল ইসলামের নেতৃত্বে জেলা নেতৃবৃন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বায়তুল সম্পাদক মুফতি শফীকুল ইসলাম, মাওলানা আজিজুল হক, আবু রায়হান প্রমূখ।
স্মারকলিপিতে দলের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাছাড়া বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছেন, আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ সা.। তিনি পৃথিবীতে এসে মূর্তিকে ধ্বংস করেছেন, এমনকি যুগে যুগে নবীগণ মূর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতদের দেশ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে কোনো মূর্তি স্থাপন করা যায় না। পৃথিবীর কোনো মুসলিম দেশ এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সামনেও আইন প্রণেতার প্রতীক হিসেবে কোনো মূর্তি ও ভাষ্কর্যের অস্তিত্ব নেই। তাই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূর্তি স্থাপন মেনে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
স্মারকলিপিতে তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো তাদের ঈমান। এ ঈমান রক্ষার ক্ষেত্রে মুসলমানগণ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকে, মূর্তি স্থাপন ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক। তাই মুসলমানরা মূর্তি স্থাপন মেনে নিতে পারে না। জীবন সম্পদ দিয়ে হলেও ঈমান রক্ষার জন্য মুসলমানদেরকে মূর্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হয়। এ বিষয়ে আপসের কোনো সুযোগ ইসলাম দেয়নি। তাই মহামান্য প্রধান বিচারপতি, আপনি একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখিত বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে মূর্তি অপসারণের ব্যবস্তা নিবেন।