সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে কোন ভাবেই গ্রীকদেবীর মূর্তি থাকতে পারে না: আল্লামা কাসেমী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমীর আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী

সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে কোন ভাবেই গ্রীকদেবীর মূর্তি থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর আমীর আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী।

তিনি বলেন, মসজিদের নগরীর প্রাণকেন্দ্র সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনে গ্রীকদেবীর মূর্তি স্থাপন ৯৫ ভাগ মুসলমানের সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক কালচার। এদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক সর্বোচ্চ বিচারালয়। পাশেই দেশের প্রধান ঈদ জামাত এর জাতীয় ঈদগাহ। যেখানে দেশের সর্বস্থরে জনগনের পাশাপাশি দেশ বিদেশের ভিভিআইপি নাগরিকগণ দুই ঈদের জামাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাথে নামাজ আদায় করেন। সুতরাং এই পবিত্র স্থানে কোন ভাবেই ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রতিক গ্রীকদেবীর মূর্তি থাকতে পারে না। বাংলাদেশের ঘোষণা পত্রের কোন জায়গায় মূর্তি সংস্কৃতির উল্লেখ নেই। বরং মানবিক মর্যাদা , সাম্য ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৯৫ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জনগণ গর্জে উঠার আগেই মূর্তি নামক এ আবর্জনা অপসারনের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান ।

গতকাল বিকাল ৩টায় পল্টনস্থ জমিয়ত কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীলদের এক জরুরী পরামর্শ সভায় সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা কাসেমী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মূর্তি স্থাপন এর সাথে ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দূরতম কোন সর্ম্পক নেই। যারা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বুলি আউড়ায় তারা দেশের মাটি মানুষের চেতনার সাথে পরিচিত নয়। তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এবং দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছে। তারা একটি বিশেষ মহল ও দেশের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। বাংলার সচেতন স্বাধীন চেতা ঈমান দীপ্ত তৌহিদী জনতা তাদের শয়তানী মিশন ছিন্ন ভিন্ন করে দিবে ইনশাআল্লাহ।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে সরকার ও দেশের মানুষের শুভ বুদ্ধি উদয়ের জন্য পরিস্থিতি বেশামাল হওয়ার পূর্বেই হেফাজতের সম্মানীত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী মূর্তি অপসারনের দিকনির্দেশনা মূলক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাহা অত্যন্ত সময় উপযোগী আমরা জাতির পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানাই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলাম দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা, জনগণের জান মালের নিরাপত্তা, নারীদের ইসলাম সম্মত অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ঘুষখোর, দূর্নীতিবাজ ও মতলববাজদের কবল থেকে দেশের সম্পদ রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলে। শিক্ষা সংষ্কৃতিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের আবেগ ও অনুভূতির কথা বলে।

নেতৃবৃন্দ আরো  বলেন, হযরত শাহজালাল ও শাহপরানের বাংলাদেশে গৌড়গবিন্দের সংস্কৃতি চলতে দেয়া যায় না। হেফাজতের দাবীতে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন করে সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। দেশ ও দেশের মানুষ ধর্মীয় সংষ্কৃতি রক্ষায় মাঠে নামার পূর্বেই শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী সহ দেশের আলেম সমাজের পরামর্শ মেনে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে মূর্তি অপসারন করে ঈমানদারিত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। অন্যথায় জনগণ ঈমানের তাকিদে রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নাস্তিক মুরতাদদের দোসর শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অজয় রায় চৌধুরী ও সুলতানা কামাল গংদের হেফাজতের দাবীর নিন্দা প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা জানাই। এদেশের মানুষ তাদেরকে একটি বিশেষ বলয়ের চর হিসেবে চিনে। আর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।

মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সভাপতি ড. ঈসা শাহিদী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান পেশওয়ারী, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, খেলাফত আন্দোলনের যুগ্মমহাসচিব মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা ফযলুল করীম কাসেমী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান, মুফতি মনির হোসাইন, মাওলানা জায়নুল আবেদীন, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা শরীফুল্লাহ, মাওলানা তোফায়েল গাজালি ।