রোহিঙ্গা মুসলমানের জন্য সাহায্য নিয়ে মালয়েশিয়ান জাহাজ মিয়ানমারে পৌঁছেছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানের জন্য দুই হাজার ৩০০ টন সাহায্য নিয়ে মালয়েশিয়ান একটি জাহাজ ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে। কাপড়, চিকিৎসা সামগ্রী ও খাবার নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ‘নটিক্যাল আলীয়া’ করে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক নগরীর থিলাওয়া বন্দরে পৌঁছেন।

ডকইয়ার্ডের বাইরে কয়েক ডজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও অন্যরা জাতীয় পতাকার সাথে ‘রোহিঙ্গাদের না’ লিখিত ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
ইয়াঙ্গুন শাখার প্যাট্রিয়টিক মিয়ানমার মঙ্কস ইউনিয়নের ভিক্ষু থুসেইট্টা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা তাদের জানাতে চাই, এখানে কোনো রোহিঙ্গা নেই।’ মিয়ানমার ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করছে যদিও এদের অনেকে মিয়ানমারের মাটিতে বংশ পরম্পরায় বাস করে আসছে। প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে এসেছে অভিযোগ করে এই বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করছে।

গত অক্টোবর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশবিক অত্যাচারে মিয়ানমারের শত শত রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ বলছে, ‘রোহিঙ্গাদের অনেকেই জাতিগত নির্মূলের শিকার হয়েছে।’ সহিংসতা শুরু হয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের আক্রমণে সীমান্তে ৯ পুলিশকে হত্যার পর। পরে যৌন নিপীড়ন ও খুনের দুর্দশার গল্প নিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে যায় প্রতিবেশী বাংলাদেশে।

গ্রুপ ফর্টিফাই রাইটস’র নির্বাহী পরিচালক ম্যাথু স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, ‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ঠুরতা, মারাত্মক অপরাধ সংগঠনের দলিল আমাদের হাতে আছে।’ স্মিথ বলছিলেন, ‘আমরা হত্যার দলিল তৈরি করছি, আমরা গণধর্ষণের দলিল তৈরি করছি… গলা বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে, দেহ আগুনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে, গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে এমন দলিল আমরা তৈরি করছি।’
মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণের তিক্ত সমালোচনা হচ্ছে। মিয়ানমার প্রথমে সাহায্য সামগ্রীর জাহাজ তার পানিসীমায় প্রবেশ করতে দিতে প্রত্যাখ্যান করে এবং রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটুয়িতে যেতে বাধা প্রদান করে।

আল জাজিরার ইয়ারা বউ মেলহেম ইয়াঙ্গুন থেকে জানিয়েছেন, জাহাজ থেকে সাহায্য নামানো হবে এবং সেখান থেকে মিয়ানমার সরকারের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ‘আমরা যা জেনেছি, এখান থেকে একটি উড়োজাহাজে করে সাহায্য সামগ্রী সিটুয়িতে নেয়া হবে, যেখান থেকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা খুব কাছে… এই সাহায্যগুলো রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধদের মধ্যে বিতরণ করা হবে’ বলছিলেন তিনি।

তবে কোনো পরিস্কার নির্দেশনা নেই যে সাহায্যগুলো রোহিঙ্গাদের কাছে পৌঁছাবেই। কারণ অক্টোবরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে এলাকাটি সিল করে দেয়া হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে ধর্ষণ, নির্যাতন এবং রোহিঙ্গাদের গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ করার একদিন পরই এ সাহায্য এলো।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা শত শত মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা বলেন, আর্মি জাতি নির্মুলের ভয়াল নীতি নিয়েছে। তবে মিয়ানমার বিদেশী মিডিয়া ও অধিকার বাস্তবায়নকারী দলের অভিযোগ ‘ভুয়া খবর’ বলে বাতিল করে দিয়েছে এবং ওই অঞ্চলে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা