সাগর-রুনি হত্যার ৫ বছর: ‘৪৮ ঘণ্টা’ পার হলেও উদঘাটন হয়নি রহস্য

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ হল আজ।

পাঁচ বছর আগে ২০১২ সালের এইদিনে ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাড়িতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া যায়। ঐসময় ঘটনাস্থলে এসে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন পুলিশকে তদন্তের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। সেই ৪৮ ঘণ্টা আজ পাঁচ বছরে পড়লো।

পাঁচ বছরে ৪৬ বার সময় নিয়েও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের পর ডিবি’র তদন্তের ব্যর্থতা স্বীকার। এরপর এখন মামলার তদন্তের কাজ করছে এলিট ফোর্স র‌্যাবের তদন্ত সংস্থা।

ভুক্তভোগী পরিবার বলছে, ‘সরকার চাইলে আমরা বিচার পাবো এ বিশ্বাসেই বেঁচে আছি।’

সাগরের মা বলেন, যখন পাঁচ বছরেও আমার সাগর রুনির তদন্ত শেষ হল না। যারা কিছুই খুঁজে পেলো না, সেসব তদন্তকারীদের ওপর আমার কোনো আস্থা নেই। একমাত্র সরকার চাইলেই আমি আর আমার নাতি বিচার পাবো, এই বিশ্বাস নিয়েই বেঁচে আছি।

তিনি আরও বলেন, কারও প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই, আর কারও কাছে বিচার চাইবোও না, উপরওয়ালার কাছে শুধু বিচার দিয়ে গেলাম।

এদিকে, নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির কবর জিয়ারত করেছে তাদের একমাত্র ছেলে মেঘ। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় আজিমপুর কবরস্থানে দুই মামাকে সঙ্গে নিয়ে সে কবর জিয়ারত করতে যায়। কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের খুনিদের বিচার চেয়ে মেঘ বলে, ‘চোরগুলোর যেন শাস্তি হয়’।

কবর জিয়ারত শেষে রুনির ভাই নওশের রুমান মামলার অগ্রগতির সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনও অগ্রগতির কথাই আমাদের জানানো হচ্ছে না। ‘বছরের পর বছর ধরে অগ্রগতি হচ্ছে’ বলা ছাড়া আর কিছুই জানায়নি র‌্যাব। অলৌকিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে, এছাড়া আর কিছু আশা করা যায় না।’

তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখানে দুটি জিনিস হতে পারে। এমন গুরুত্বপূর্ণ কেউ জড়িত যার জন্য মামলাটি ধামাচাপা পড়ে রয়েছে। অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অদক্ষতার কারণে মামলার তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এত বড় একটি ঘটনার কোনও সুরাহা না হওয়ায় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। সরকার বা দেশের মানুষের জন্য এটা লজ্জাজনক।’