মান্দা প্রসাদপুর কৃষি ব্যাংক শাখায় ঘুষ ছাড়া মেলে না ঋণ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

নওগাঁর মান্দায় উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারের বিশেষায়িত ব্যাংক রাজশাহী কৃষি ব্যাংক প্রসাদপুর শাখা ব্যবস্থাপকের ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্যে ও তার অনুগত দালালদের খপ্পরে পড়ে নানা নির্যাতন-অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে অবহেলিত কৃষক সমাজসহ বিভিন্ন প্রকার ঋণগ্রহিতারা। দালালাদের দাপটে একপ্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীসহ কৃষকরা। কৃষকদের সহ সব ধরণের ঋণ পেতে হলে ঐ শাখা ব্যবস্থাপক ও তার অনুগত দালালদের না ধরলে সর্বোপরি মোটা অংকের ঘুষ না দিলে কোন ঋণ মেলে না বলে বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাস হয় না ঋণের কোন ফাইল ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কৃষি ব্যাংক প্রসাদপুর শাখা ব্যবস্থাপক আহমেদ আলী অত্র শাখায় গত ৩১/০৮/২০১৬ তারিখে যোগদানের পর থেকে কৃষকদের সহ অন্যান্য ঋণ দিতে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এতে লাখ প্রতি তিনি নগদ ২৫-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন। এ কাজে তিনি অলিখিত (ফাঁকা) চেকও নেন। অলিখিত চেক নেয়ার কোন বিধান না থাকলেও তিনি তার দূর্নীতিকে জায়েজ করতে এ অন্যায় কাজ করতে পিছপা হচ্ছেন না।

সাধারণ জনগণ নিজে ব্যাংকে গেলে ঋণ পান না। অথচ এসব দালালদের ধরে গেলে সব সমস্যার সমাধান মুর্হুতের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। তার এসব দূর্নীতির কাজে এলাকার বেশ কয়েক দালাল রয়েছে। যাদের সাহায্য তিনি এসব অপকর্ম করে থাকেন। এরা হলেন উপজেলার হলুদঘর গ্রামের মাহবুবুর রহমান, পরানপুর গ্রামের মন্টু,আহাদ, রনাহার গ্রামের তাছির উদ্দিন,গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার,পারইনাতপুর গ্রামের আবদুস সালাম, খাগড়া গ্রামের বাবলু,অফিসের ঝাড়–দার ও কামাকুড়ি গ্রামের সোহেল, নিয়ামতপুর উপজেলার আয়নাল,বড়পই গ্রামের আয়েজ ।

এদের মধ্যে রোববার বেলা তিনটার দিকে শাখার নিচে আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম মন্ডলের সাথে দালাল আতাউর ও বাবলুর বাক-বিতন্ডা শুরু হলে ঘটনাটি বেশ আলোচিত হতে শুরু করে। শাখা ব্যবস্থাপক ঐসব দালালদের সাথে অফিসে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায়। অফিসের কাজে নজর না দিয়ে তিনি শুধু টাকা কামায়ের ধান্ধাবাজীতে ব্যস্ত থাকেন। অবহেলিত জনগণের ঋণের কোন সুরাহা করার সময় পান না।

এক সূত্র মতে, অত্র শাখায় এ মওসুমে গত ৪ ফ্রেরুয়ারী পর্যন্ত শস্যখাতে ২২৩ জনের মধ্যে ১কোটি ৭২লাখ ১৭হাজার টাকা, গরু পালন খাতে ২৬ জনের মধ্যে ২১লাখ ৯৪ হাজার টাকা, সিসি ঋণ ৭০ জনের মধ্যে ১কোটি ৯৪লাখ ৪০হাজার টাকা, এসএমই খাতে ৪৮ জনের মধ্যে ৪৮ লাখ ৭৪ হাজার ও অন্যান্য খাতে ১৫ জনের মধ্যে ৭লাখ ১৩ হাজার টাকাসহ মোট ৩৯২ জনের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য ঋণ প্রায় ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাকি প্রায় ২ কোটি টাকা বিতরণে শাখা ব্যবস্থাপক প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে বন্ধকী দলিল নিতে কোন ফি ধার্য না থাকলেও প্রতি দলিল বাবদ নেয়া হয় ৫০০ থেকে ১০০০টাকা, শস্য ঋণ ফরম ৫০০টাকা, সিসি ফরম ৫০০টাকা, বীমা বাবদ প্রতি লাখে ২০০০টাকা। তাছাড়া গাভী পালনের ঋণ নিতে কোন বীমা করার প্রয়োজন না থাকলেও বীমা বাবদ জোরপূর্বক নেয়া হয় ২০০০ টাকা। গত ২-৩ মাসের মধ্যে এসব অবৈধ ফি থেকেই হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ২/৩ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণ গ্রহীতাদের নিকট থেকেও মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে আদায়যোগ্য ঋণগুলোও আদায়ের জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে যারা ঘুষ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করছেন তাদেরকে সাইজ করতে সব রকমের ব্যবস্থা নিতে পিছপা হচ্ছেন না। মাইকিং করে এলাকার মানুষকে অতিষ্ট করে তুলছেন। তার খুঁটির জোর কোথায়?

এব্যাপারে শাখা ব্যবস্থাপক আহম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে অত্র শাখায় প্রায় ৪০০ জনের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। কিছু অনিয়ম থাকতে পারে। তবে সব ঘটনা সত্য নয় বলে এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য,এর আগে উক্ত শাখার ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন সচ্ছভাবে কাজ করায় ঐ সব দালালদের হাতে নানা সময়ে নাজেহাল হয়েছেন। টিকতে না পেরে তাকেও অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি বদলি হয়ে যাবার সময় ঐসব দালালরা সমবেত হয়ে শাখার নিচের তলায় রাস্তার ধারে মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেছে বলেও চা ল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ কর্মকান্ড ও অপকর্ম অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে ভূক্তভোগিসহ সচেতন মহলের দাবী। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা আশু প্রয়োজন।