রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের উদ্যোগ: জাতিসংঘের উদ্বেগ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি একটি মানবিক সংকট। তাই পর্যটন শহর কক্সবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ওখানে তাদের শুধু পুনর্বাসন না, জীবিকাও নিশ্চিত করা হবে।

আজ (রোববার) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী এলাকায় একটি সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার যত দিন রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না, তত দিন তাদের ঠেঙ্গারচরে মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কক্সবাজার একটি স্বাস্থ্যকর স্থান। এখানে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে আসেন। এখানে অতিরিক্ত কয়েক লাখ রোহিঙ্গার চাপ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা ও সংকট সৃষ্টি করছে। তা ছাড়া এখানে অতিরিক্ত রোহিঙ্গা রাখার জায়গাও নেই। এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া জরুরি।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সাধারণ সম্পাদক জনাব জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, রোহিঙ্গাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে   সরকারের এ উদ্যোগের ফলে  শরণার্থীদের মাঝে ব্যাপক আতংক দেখা দিয়েছে। তারা বলছে, এ দেশ স্থায়ীভাবে থাকার জন্য তারা আসেনি। মিয়ানমার সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তারা অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। এখন আবার মরার জন্য তারা কেউ জনবসতিহীন  ও বসবাসের  অনুপোযোগী  চরে যাবে না।

সম্প্রতি কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমন এবং তাদের নানা  অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এ কারণে শরণার্থীদের জন্য নতুন জায়গা খোঁজার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার ধারাবাহিকতায় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একাংশকে স্থানান্তরের জন্য হাতিয়া দ্বীপের কাছাকাছি নতুন দ্বীপ ঠেংগারচরকে প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হয়েছে।

তবে, কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠেংগারচর দ্বীপে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই দ্বীপে স্থানান্তরের কারণে তাদের জীবন আরো বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। জাতিসংঘ মনে করছে, ঠেংগারচর দ্বীপ এখনো বসবাসের উপযোগী নয়। কাজেই সেখানে রোহিঙ্গাদের ঠেলে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। কারণ, বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের ঘটনায় কয়েকফুট পানির নিচে চলে যায় ঠেংগারচর দ্বীপটি।

আট বছর আগে এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠে। এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার একর। ঠেংগারচর দ্বীপটি হাতিয়া দ্বীপ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।  বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে স্পিডবোটে এই দ্বীপটিতে যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে। জায়গাটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ। জনবসতিহীন  এলাকাটি কর্দমাক্ত।  বর্ষা মৌসুমে দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় সেখানে দ্বিগুণ পরিমাণ বৃষ্টি হয়ে থাকে। এ ছাড়া জলদস্যুদের উৎপাত তো রয়েছেই।

সেখানকার পরিবেশ বসবাসের উপযোগী কিনা তা যৌথভাবে খতিয়ে দেখছে ভূমি মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। এছাড়া কক্সবাজার ও নোয়াখালী প্রশাসনও এ ব্যাপারে সব  ধরনের সহযোগিতা করছে।

এর আগে ২০১৫ সালে মানবশূন্য ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার প্রথম প্রস্তাব ওঠে। সেই সময়ই তা মানবাধিকারকর্মীদের তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞরা এই প্রস্তাবকে অবাস্তব বলে মন্তব্য করেন।

পার্সটুডে