প্রেম-ভালোবাসা বৈধতার সহীহ দলিল

প্রেম-ভালোবাসা বৈধতার সহীহ দলিল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ওমর ফারুক সাহিল
পরিচালক : ঐশীস্বর

 


প্রেম-ভালোবাসা অবশ্যই হৃদয়ের টান-আকর্ষণ, চমৎকার মধুময় শব্দ এটি । অনেকে এ প্রেম ভালোবাসার কথা শুনলেই মুখে ভেংচি কাটেন। নাক সিটকান। তির্যক উক্তি করেন। অথচ ‘ভালোবাসা’ পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর কোমল দুরন্ত মানবিক অনুভূতি। তাই বিষয়টা আড়চোখে দেখা মোটেই ঠিক নয়। প্রেম-ভালোবাসা আল্লাহ তা’য়ালার মহাদান। ভালোবাসা ছাড়া দুনিয়া আখেরাত সবই অচল।

পবিত্র কোরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা করেছেন:
“আল্লাহর কুদরতের অন্যতম একটি নিদর্শন হল, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তোমাদের মধ্যে প্রেম-ভালোবাসা ও মায়া-মমতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন রয়েছে। চিন্তাশীল লোকদের জন্য”।

হাদীস: হাদীস শরীফে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে:
ভালোবাসা আল্লাহর একটি সৃষ্টি। একে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা এর একশো ভাগের নিরানব্বই ভাগ নিজের জন্য রেখে বাকি একভাগ গোটা মাখলুকের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। এই একভাগের বিনিময়ে পরস্পর-পরস্পরে ভালোবাসা, আত্মীয়স্বজনের ভালবাসা। এমনকি পশুপাখি ও জীবজন্তুর মধ্যে ভালোবাসা পরিলক্ষিত হয়।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য। আজ সে আল্লাহ প্রদত্ত বৈধ ও নির্মল প্রেম-ভালবাসা বাদ দিয়ে মানুষ অশ্লীল ও অবৈধ প্রেম-ভালোবাসায় লিপ্ত হয়ে বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনা করে বেড়াচ্ছে এবং সেই জাহেলি যুগের মতো অন্ধকারের অতল গহবরে নিমজ্জিত হচ্ছে।

বড় দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আজ বাংলাদেশেও সেই ধ্বংসাত্মক ভালবাসাকে পুঁজি করে প্রতিবছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি কে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। পাশ্চাত্যে এ দিবসকে খুব জাঁকজমক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন করা হয়।

‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ এর ইতিহাস

ষোড়শ শতাব্দী থেকে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের সময় রোমান সেনাবাহিনীতে বিবাহিতরা যোগ দিতে পারতো না। কারণ তারা সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ হওয়ার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি এড়িয়ে যেত এবং তাদের দেবদেবীর পূজা-অর্চনা বন্ধ করে দিত। এসব দিকে লক্ষ করে ক্লডিয়াস অবিবাহিত যুবক সৈন্যদের বিবাহ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু রোমান এক ধর্মযাজক ” সেন্ট ভ্যালেন্টাইন” সম্রাট ক্লডিয়াসের নির্দেশ অমান্য করে অনেক জুটির গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করেন। এমন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্লডিয়াসের সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইন কে আটক করে। এ ঘটনায় অনেকে ফুল দিয়ে ভ্যালেন্টাইন এর বন্ধু হয়ে যায়। গার্ড কন্যাও ভ্যালেন্টাইন কে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে।

কারো কারো মতে ভ্যালেন্টাইন ছিলেন একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক। সে সময় রোমানরা দেবদেবীর পূজা করতো। তখন খৃষ্টান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস ভ্যালেন্টাইন কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। ভ্যালেন্টাইন যখন জেলে বন্ধি ছিলেন তখন ছোটছোট ছোটছোট ছেলেমেয়েরা জেলের জানালা দিয়ে তার প্রতি ভালোবাসা কথা বলে চিঠি ছুড়ে মারত। বন্ধি অবস্থাতেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের দৃষ্টি ফেরান চিকিৎসা করে। মৃত্যুর দিন ভ্যালেন্টাইন মেয়েটিকে লিখে যান ‘Love From Your Valentine’ আর এদিনটিই ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি।

বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন

১১৯৩ সালে সর্বপ্রথম এদিনটিকে চাকচিক্য রূপ ও রসপূর্ণ করে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা প্রচার করে জানা যায়। বর্তমানেতো বহু সাময়িকীতে এদিনকে উপলক্ষ করে নানা ধরনের প্রেমের উত্তেজনাকর লেখালেখি চলছে। টিভি চ্যানেল গুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার মহড়া। খুব বেশিদিন এ দিবসটির সাথে আমাদের পরিচয় হয়নি যদিও। অথচ এর বিস্তৃতি বাড়ছে অতি দ্রুত। যা প্রতিনিয়ত আমাদের তরুণ সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের যে সমস্ত দেশে ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে তা কোন ভাবেই বৈধ হতে পারেনা। এ ভালোবাসার নামে চলছে তরুণ-তরুণী ও যুবক-যুবতিদের অবাধ সম্পর্ক, দৈহিক নষ্টামি ও নোংরামি। এটা আমাদের সমাজ, সম্ভ্রম, ঈমান আক্বীদা ও নৈতিকতা ধ্বংস করে ভয়ানক অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। অতএব সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য পরিপূর্ণ প্রচেষ্টা চালাতে হবে সকলেরই।