ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের পদত্যাগ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মাইকেল ফ্লিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। রাশিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে গোপন যোগাযোগ করেছেন -এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেন।

সোমবার রাতে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ফ্লিনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জেনারেল কিথ কেলোগ নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তাকে ফ্লিনের জায়গায় অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে ফ্লিন বলেছেন, “আমি অসাবধানতাবশত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্স এবং অন্য কর্মকর্তাদেরকে অসুম্পূর্ণ তথ্য দিয়েছিলাম। আমি এজন্য আন্তরিকভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সের কাছে ক্ষমা চাইছি এবং তারা আমার ক্ষমা চাওয়াকে গ্রহণ করেছেন।”

গত মাসে বিচার মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিল যে, আমেরিকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে ফ্লিন মিথ্যা কথা বলেছেন এবং তাতে মস্কোর কাছে তিনি প্রতারিত হতে পারেন। গতকাল এ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাইকেল ফ্লিন পদত্যাগ করেন।

ফ্লিন রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ফোনে মস্কোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া প্রসঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথের আগে তিনি ওই আলোচনা করেন। ওই সময়ের সেই আলোচনাকে আইন ভঙ্গ করার অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ তখনও ট্রাম্প সরকার শপথ নেয় নি এবং ফ্লিন তখন একজন সাধারণ নাগরিক যিনি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কোনো বিদেশী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন না।

ফ্লিন ছিলেন চরম ইসলাম-বিদ্বেষী ব্যক্তি এবং কিছুদিন আগে তিনি ইসলামকে ‘মারাত্মক ক্যান্সার’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

মাইকেল ফ্লিন এমন সময় পদত্যাগ করলেন যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাত মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে দেশে-বিদেশে চরম সমালোচনার মুখে রয়েছেন এবং মার্কিন ফেডারেল আদালত তার ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে। এছাড়া, আমেরিকা থেকে অবৈধ অভিবাসী উচ্ছেদ এবং মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়েও জটিলতায় পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

পার্সটুডে