আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম’র ব্যবহার হবে দূরভিসন্ধিমূলক: রিজভী

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ই-ভোটিং ব্যবস্থার কথা বলছেন তা নিঃসন্দেহে দূরভিসন্ধিমূলক বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইভিএমের ব্যবহার হবে জনগণের ভোটকে স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে জালিয়াতি করার প্রচেষ্টা মাত্র। এটি প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি ভেল্কিবাজীরই বর্ধিত প্রকাশ।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

রিজভী বলেন, ১/১১-এর সময় সাবেক সিইসি এটিএম শামসুল হুদা ইভিএম চালুর প্রস্তাব করেছিলেন। তখন বুয়েটসহ কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ এবং প্রায় সব রাজনৈতিক দল সেটির বিরোধীতা করেছিল। সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদও এই পদ্ধতিটি চালুর জোর প্রচেষ্টা চালায়। পরীক্ষামূলকভাবে ২০১০ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়। ওই সময়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে আপত্তি তোলায় ইভিএম নিয়ে কাজী রকিবউদ্দিন ইভিএম চালু থেকে সরে আসে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও যারা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণের নিয়ম চালু করেছিল, কিন্তু এই ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় তারা সেটি বন্ধ করে দেয়। কারণ এই পদ্ধতি দুর থেকে হ্যাক করা সম্ভব বলেই স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে সেসব দেশে। ভারত, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ ই-ভোটিং পদ্ধতি চালু করলেও এটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

রিজভী বলেন, বাংলাদেশে এখনো অনেক মানুষ নিরক্ষর। এতো টেকনিক্যাল বিষয় উপলব্ধি করা বা বোঝা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। এই পদ্ধতিতে ই-ভোটিংয়ের সার্ভার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সুতরাং সরকারের জন্য ভোট ম্যানিপুলেট করা খুবই সহজ হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই শতাব্দিরও বেশি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করে থাকে।