ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের খণ্ডযুদ্ধ চলছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের খণ্ডযুদ্ধ চলছে। গেল তিনদিনে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের হান্ডওয়ারা, বন্দীপোর ও কুলগামে তিনটি আলাদা আলাদা খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে। স্বাধীনতাকামীদের পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে অন্তত ছজন ভারতীয় সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত হয়েছেন অন্তত ১০জন স্বাধীনতাকামী মুজাহিদীন।

ভারতীয় সরকার ও সেনাপ্রধান যাদেরকে সন্ত্রাসী বলছেন, কাশ্মীরের জনগণের কাছে তারা স্বাধীনতাকামী। ফলে সেনা অভিযানের নামে কাশ্মীরিদের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণ সর্বদা সোচ্চার। যখনই সেনা অভিযানের চেষ্টা চলে তখনোই তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এভাবেই কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের দীর্ঘ আন্দোলন চলছে।

এদিকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যে সব বেসামরিক লোক সেনাবাহিনীর কথিত সন্ত্রাসী দমন অভিযানে বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত।

কাশ্মীরে যারা সন্ত্রাসীদের পালাতে সাহায্য করছেন, কিংবা পাকিস্তান ও আইএস-এর পতাকা প্রদর্শন করছেন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করতে ভারতীয় সেনারা এখন থেকে আর দুবার ভাববে না- সেনাপ্রধান এ কথা বলার পর কাশ্মীরে ও তার বাইরে অনেকেই বলছেন এ ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য করা তার সমীচিন হয়নি।

তবে নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণে তার কথায় কোনো ভুল নেই বলেও অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞর অভিমত।

যে স্থানীয় যুবকরা স্বাধীনতাকামীদের সাহায্য করবে সেনাবাহিনী তাদের দেশবিরোধী শক্তি বলেও চিহ্নিত করবে বলে জেনারেল রাওয়াত জানিয়ে দিয়েছেন।

তার এই বক্তব্য সামনে আসার পর খোদ কাশ্মীরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। শ্রীনগরে গ্লোবাল ইয়ুথ ফেডারেশন নামে একটি এনজিও চালান স্থানীয় যুবক তৌসিফ রায়না, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সেনাপ্রধান এই কথাগুলো না-বললেই ভাল করতেন।

তৌসিফ রায়নার মতে এই বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক – কারণ এই কথাগুলো সেনাপ্রধানের নয়, রাজ্য সরকার বা রাজ্য পুলিশের বলা উচিত।

তিনি বলছিলেন, ‘সেনাবাহিনী কেন এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে? এতে কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। আমরা বুঝতে পারছি কাশ্মীরের পরিস্থিতি সেনাবাহিনী থেকে স্থানীয় মানুষ – সবার জন্যই খুব উত্তপ্ত, কিন্তু এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্য শুধু লোকের রাগ আর উষ্মাই বাড়াবে।’

এদিকে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর কাশ্মীরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গোটা উপত্যকা জুড়ে চরম উত্তেজনা অব্যাহত আছে।
এমন বক্তব্য বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরি তরুণ ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। এতে নিন্দা-ক্ষোভে সরব হয়েছেন সেখানকার রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতাকামীরা।