স্বাধীনতা পুরস্কার যেন অনেকটা – ‘অামরা অার মামুরা: বাকি সব হতচ্ছড়া’

মুজতবা খন্দকারমুজতবা খোন্দকার

বাকিসব না হয় মেনে নিলাম।কারো কারো নাম মনে নিলাম কিনা সেটা অবশ্য একটা প্রশ্ন। কিন্তু বন্যাজি! কিভাবে পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার?।বলা হচ্ছে সংস্কৃতি জগতে তার অসামান্য অবদান রয়েছে কি সেই অসামান্য অবদান? কেউ কি তার ফিরিস্তি বলবেন? অামার জানা নেই।

ওপার বাংলা শান্তিনিকেতন থেকে সংগিতের ওপর পড়াশোনা করেছেন,পড়াশুনা বললে বোধ করি একটু বেশী শোনাবে রবীন্দ্র সংগীত শিখে এসেছেন।গানের স্কুল করেছেন বাংলাদেশে। উৎসব পার্বনে বেশীরভাগ সময় দেখা যায় কলকাতায়। তিনি কি কলিম শরাফি কিম্বা ওয়াহিদুল হক কিম্বা সনজিদা খাতুনের চেয়ে বেশী অবদান রেখেছেন? বন্যাজির গানের সংগঠন কি ছায়ানট থেকে বড়! (অাওয়ামী ঘরানার কিছু নাম বললাম।বাকিদের কথা না হয় থাক।)

অামাদের দেশের চল হচ্ছে যে দল ক্ষমতায় অবদান বড় হোক না হোক,নিজের সমর্থকদের পুরস্কার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি রেওয়াজ ভেঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছিলেন। তাছাড়া এসব পদক তো তার অামলেই প্রবর্তিত হয়েছিলো।

রবীন্দ্রনাথ অামিও পছন্দ করি। অামার খুব কাছের বন্ধুরাও পছন্দ করেন। এলিট শ্রেনীর ঘরে কখনো কখনো হিজ মাষ্টার ভযেজের সেই কুকুর মার্কা হারিয়ে যাওয়া রেকর্ডে গ্রামোফোনে শোনা যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, চীন্ময়,সাগর সেনের কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত।এটা যতটানা প্রানের টানে তার চেয়ে বেশী নিজেকে সংস্কৃতমনা প্রমানে। রবীন্দ্রনাথ তাই সারাজীবন একটি শ্রেনীর হয়ে অাছেন.. বিশেষ করে শাসক শ্রেনীর। নিজের সামন্তবাদ তিনি সামন্তবাদিদের কাছে পৌছেছেন অাম জনতা যতটানা লালন গ্রহন করেছে,যতটানা শাহ অাবদুল করিম,হাসন রাজা,নজরুলকে গ্রহন করেছে রবীন্দ্রনাথকে নয় শুধু জাতীয় সংগীত ছাড়া।

রবীন্দ্র সংগীত কখনো ষোল কোটি মানুষের দেশের অামজনতার গান নয়। স্বাধীনতা কিন্তু অামজনতার প্রানের বিনিময়ে অর্জিত। বন্যাজি প্রতিনিধিত্ব করেন ওই শ্রেনীর। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে রেনেসা অানেনি। শুধু রবীন্দ্রনাথ শুনলেই সংস্কৃতমনা হওয়া যায়না… এসব পুরস্কার দেখেছি এতদিন তাদের ভাগ্যে জুটতো… যারা সমাজে, কর্মে গুনে অন্যন্য। তারা সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন,যা দৃশ্যমান। কিন্তু বন্যাজির কি অবদান… অাট দশটা পুরস্কারের মতন স্বাধীনতা পুরস্কার নয় বলে কথাগুলো বলা।এর সাথে অামাদের অাবেগ জড়িত….। সরকার কি তাদের সমর্থক অার কোন কির্তিময়ী নারী খুজে পেলোনা সংস্কৃতি জগতে! যে বন্যাকে এই মহান পদকে ভুষিত করতে হলো…

একবার মনে অাছে… চ্যানেলে অাইতে এক সকালে বন্যার গান শুনে (সেদিন তার জন্মদিন ছিলো বোধ করি) প্রধানমন্ত্রী নিজে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন… তখন খালেদাজিয়া অবরুদ্ধ, দেশে তখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি…। সেই সকালে প্রধানমন্ত্রীর বন্যাকে টেলিফোন অন্য সব খবরকে ছাপিয়ে গিয়েছিলো।

ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দ কত সহজেই রাষ্ট্রিয় ক্ষেত্রে অনুদিত হয় এদেশে,এই বাংলাদেশে…. কবে অামরা নির্মোহ হবো।সার্বজনীন হবো কিম্বা হতে পারবো!

ফেসবুক থেকে নেয়া