বদলে যাওয়া তরুণদের গল্প ; নাচ গান ছেড়ে ইসলামী সংগীতের আয়োজন

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আব্দুল্লাহ মারুফ :   উঠতি বয়সের তরুণরা প্রতি বছর যাত্রা-গানের আয়োজন করত এলাকায়। দূরদূরান্ত থেকে মেয়েছেলেদের এনে গভীর রাত পর্যন্ত নাচানাচি আর গানবাজনার আসর বসাত। এলাকার লোকজন ও মুরুব্বীরা তাদের নির্দেশ দিত এসব না করার জন্য। কিন্তু কে শুনে কার কথা, তারা আরো বড়সড় আয়োজন করে আমোদ-ফুর্তি করত।

দীর্ঘ কয়েকবছর যাবৎ এই ছিলো মুক্তাগাছা থানাধীন সত্রাশিয়া গ্রামের কানাই বটতল এলাকার চিত্র। এবার হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই ছেলেগুলোই আয়োজন করেছে ইসলামি সঙ্গীত অনুষ্ঠান। শুধু তাই নয়, নূরে মদীনা‘ নামে একটি সংগঠন করে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে সমাজে ভালো কাজ করার।

যেই ছেলেগুলো উসৃঙ্খল আর বখাটে ছিলো, হঠাৎ তাদের পরিবর্তন! কৌতূহল জাগল নানান মানুষের মনে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল হাজী আরফান আলী মাদরাসার মুহতামিম, মাওলানা রেজাউল করিম সাহেবের প্রচেষ্টায় তাদের এই পরিবর্তন।

প্রতিবেদক তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ছেলেগুলো খুব উসৃঙ্খল ছিল। বাজে নেশা করে বুদ হয়ে পড়ে থাকত রাতদিন। যাত্রা-গানের আয়োজন করে এলাকার লোকদের অতিষ্ঠ করে তোলত। কারো কথাই মান্য করত না। আমাকে দেখলে আবার সালাম-কালাম দিত। আমি ওদেরকে কাছে ডেকে এনে একটু একটু বোঝাতে লাগলাম। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ ওদের বুঝ দিয়েছেন। নাচগান ছেড়ে ইসলামি অনুষ্ঠান করেছে।

এদিকে তাদের সংগঠন ‘নূরে মদীনা’র দায়িত্বশীল আহমদ আলী জানায়, ইসলামি অনুষ্ঠান করে তার হৃদয়ে খুব আনন্দ অনুভব হচ্ছে। তার ভাষায়’ আমার হে রহম ভালা লাগতাছে। গানের অনুষ্ঠান করলে ভালা লাগত। কিন্তু মুনে শান্তি পাইতাম না। অহম মুনে অনেক শান্তি পাইতাছি। হেইডা আছিন চখের আনন্দ। আর এইডা অন্তরের শান্তি।’

এলাকাবাসী জানায়, একঝাঁক সুরের পাখি মহান রবের গুণকীর্তন করে তাদের অন্তর ঠাণ্ডা করেছে। রিদওয়ানুল্লাহ মারুফের চমৎকার উপস্থাপনায় সেই অনুষ্ঠানে মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন -শিল্পী খন্দকার হারুনূর রশীদ, জায়নুল আবেদীন জিহাদী, মুরশিদ আলম, ইলিয়াস মাদানী, নুরুজ্জামান, মুহসিন মুহিব, হাবীবুল্লাহ ও ইলিয়াস আজিজীসহ আত্তাগলীবের শিল্পীববৃন্দ।

এলাকার চেয়ারম্যান জনাব আকবর আলী সাহেব উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনন্দ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে নূরে মদীনার সদস্য সংখ্যা পনেরজন। সবাই তরুণ। সি. এন.জি বা অটো রিক্সার চালক অনেকে। কেউ কেউ আবার অধ্যয়নরত। এলাকাবাসী তাদের বর্তমান কাজকর্মে খুব সন্তুষ্ট। সবাইকে সন্তুষ্ট রেখে ওরা আগত দিনগুলো অতিবাহিত করুক এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার বিজ্ঞজনদের।