একুশে ফেব্রুয়ারি ; আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |


 

সুলাইমান আহমদ হুজাইফা
সম্পাদক: সিলেটের ধ্বনি


 

ভাষা সষ্টার তুলনাহীন সৃষ্টি। ভাষা মানুষকে দানকৃত নেয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভাষার মাধ্যমে আমরা আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি। প্রত্যেক জাতিকে আল্লহ স্ব স্ব ভাষা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। ভাষা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ ‘আল্লাহ বলেন, আমি প্রেরন করিনি কোন রাসূলকে তবে তাহার কওমের ভাষা জ্ঞান দিয়ে। যাতে তিনি বয়ান করতে পারেন তাদের উদ্দেশ্যে। (সূরা ইব্রাহীম ৪)

আমাদের ভাষা বাংলা। ১৯৫২ সালের এদেশে ফেব্রুয়ারী বাংলার সৈনিকরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আনেন ভাষার অধিকার। ব্রিটিশ থেকে পাকিস্থান আমল পর্যন্ত মাতৃভাষা হিসাবে বাংলার বিরুদ্বে ষড়যন্ত্র অব্যাহত ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পূর্ব থেকেই বাংলা ভাষাকে লড়াইয়ে নামতে হয় উর্দুর প্রতিপক্ষ হিসাবে। অনেক সংগ্রাম-লড়াই করে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারী ভাষা অধিকার ছিনিয়ে আনা হয়।

তাইতো কবি বলেন “আমার ভাইয়ের রক্তে রঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভূলতে পারি“ সত্যি আমদের জন্য একুশ স্মৃতি পাতায় মহান দিবস। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন ভারতে যেমন হিন্দি রাষ্ট ভাষা হতে যাচ্ছে তেমনই পাকিস্তানেও রাষ্ট ভাষা উর্দু হওয়া উচিত্। সাথে সাথে প্রতিবাদ করেছিলেন ড.মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, তিনি বলেছিলেন অধিকাংশ জনসংখ্যার ভাষা হিসাবে বাংলা রাষ্ট ভাষা হওয়া উচিত্। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর দেখা যায় কোন অঞ্চলের ভাষা র্উদুু নয়।

পাকিস্তান জন্মেও মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম সাপ্তাহে করাচি শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রি ফজলুর রহমানের উদ্দ্যোগে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট ভাষা করার একটি প্রস্তব পাস করে নেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল ৬ ডিসেম্বর ঢাকার রাজপথে তত্কালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজ এর বিরুদ্বে তীব্র প্রতিবাদ করে। ১৯৪৮ সালের ১১ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত লাগাতার সংগ্রামের ফসল হিসাবে তত্কালীন পূর্বাংলার মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ছাত্র সমাজের কাছে আত্মপক্ষ সমর্পন করেছিলেন এবং রাষ্ট ভাষা হিসাবে বাংলার মর্যাদার প্রশ্নটি মেনে নিয়েছিলেন।

কিন্তু ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী ঢাকায় পল্টন ময়দানে পূর্বাংলার মূখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনই মুসলিমলীগের ভাষন দিতে গিয়ে আবার ভাষা বিদ্রোহী কথা বলেন। তিনি বলেন একমাত্র র্উদুই হবে পাকিস্তানের রাষ্টভাষা। যার প্রতিবাদ হয়েছিল ভয়াবহ। এবছর একুশ ফেব্রুয়ারী ছাত্র সমাজ তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো সে চেতনার প্রস্তাবনা পাস করেছে, ১৯৫২ সালে তত্কালীন ভাষা সৈনিকরা সেই প্রেরনাকেই সবার সামনে উপস্থাপন করেছিল। সে থেকে প্রতিষ্ঠা পায় বাংলা ভাষা। সেই মহান ত্যাগের ফলে একুশে ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ইউনেস্কো ২০০০ সালে সারা বিশ্বে একযোগে একুশে ফেব্রুয়ারী কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে তত্পর লাভ করে।
সেই রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারী প্রতি বছরে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে উত্সাহিত করে। একুশ আসলেই সালাম,রফিক,বরকত,জব্বার কথা স্বরণ হয়। প্রেরনা যোগায়। ভাষা আন্দোলন একটি উজ্জল ইতিহাস। কিন্তু আমরা কি ভাষাকে আগের মত মূল্যায়ন করি।কত ত্যাগ-কুরবানীর বিনিময়ে ভাষা অধিকার পেয়েছি তা কি আমরা কি ভাবি। আমাদের ভাবা উচিত। শুধু একুশ আসলে শহীদ মিনারে পুষ্প অর্পনের মধ্যে সীমাবদ্ব থাকলে চলবে না। ভাষার সম্মান মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। কবি কাজী নজরুল,ফররুখের মত সাজিয়ে তুলতে হবে বাংলার ভূষণ। ভাষাকে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে অধ্যায়ন করতে হবে বাংলার সোনালী ইতিহাস। আকড়ে ধরতে হবে ঐতিয্য। বিশ্বের কাছে চমত্কার ফুটিয়ে তুলতে হবে ভাষাকে। উপস্থাপন করতে হবে অনন্য রুপে। স্বরণ করতে হবে কবির ভাষায় “বাংলা আমার মাতৃভাষা খোদার শেরা দান“