সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা কমলেও বিএসএফের ওপর আক্রমণ বেড়েছে: কে কে শর্মা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

বিজিবি এবং বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা দাবি করেছেন, “প্রাণঘাতী নয়- এমন কৌশল অবলম্বন করার ফলে মৃত্যুর ঘটনা কমিয়ে আনা গেলেও অপরাধীদের দ্বারা বিএসএফের সদস্যদের ওপর আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।”

ঢাকায় বিজিবি এবং বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৪৪তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার পিলখানায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।  গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সীমান্ত সম্মেলন শুরু হয়। বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দল সম্মেলনে অংশ নেন। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন ২৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এতে উভয় বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উভয় দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশন, বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

তিন দিনের বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়বস্ত নিয়ে লিখিত বক্তব‌্য উপস্থাপন করেন বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোহসিন রেজা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব‌্যে বলা হয়, “বিজিবি মহাপরিচালক বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি করা ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিএসএফ কর্তৃক সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও ভারতীয় নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।”

সীমান্তে মৃত্যু শূন‌্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে গবাদি পশু ও মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় সমম্বিত যৌথ টহল এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ কর্তৃক যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হন।

বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা হত্যার ক্ষেত্রে যৌথভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শনাক্তকরণ ও মূল্যায়নের বিষয়ে দু পক্ষ সম্মত হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বাংলাদেশে সম্ভাব্য অবস্থান প্রসঙ্গে বিএসএফ প্রধান কে কে শর্মা সহযোগিতা চাইলে বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনও তার ভূমি অন্য কোনও পক্ষকে বা কোনও রাষ্ট্রের শত্রুপক্ষকে ব্যবহারের সুযোগ দেয় না।’

সীমান্তে হত্যার ঘটনা বিজিবি এবং বিএসএফ যৌথভাবে তদন্ত করবে- এমন প্রস্তাব থেকে ফিরে আসার বিষয়ে বিজিবি প্রধান আবুল হোসেন বলেন, “কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত বিএসএফ বা বিজিবি করতে পারে না। তদন্ত করে উভয় দেশের পুলিশ।”

বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, পরিবেশ দূষণ রোধে ভারতের আগরতলা প্রান্তে এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি) এবং বাংলাদেশের আখাউড়া প্রান্তে বক্স কলভার্টসহ ড্রেইনেজ নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে। একই সাথে এই স্থানটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এবং জয়েন্ট রিট্রিট সেরিমনির জন্য উপযুক্ত করে গড়ে ‍তোলা হবে।

উভয় মহাপরিচালক সীমান্ত হাটের সংখ্যা বাড়ানো এবং সীমান্ত পর্যটন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালকে সুপারিশ করতে সম্মত হয়।

পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, অনুশীলন, দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ, কায়কিং, র‌্যাফটিং, সাইক্লিং, রোয়িং, মাউন্টেইন ক্লাইম্বিং ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণেও মতৈক‌্য হয় সম্মেলনে।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সম্মেলন হবে নয়াদিল্লিতে।

পার্সটুডে