যুবলীগের কোন্দল: প্রতিদ্বন্দ্বীর বাবা মাকে মারধর, বোনকে ধর্ষণ

ধর্ষণআধপিত্য বিস্তারের জেরে এক যুবলীগ নেতার বাবাকে বাজারে বেদম মারধরের পর বাড়িতে এসে তার মাকেও মারধর শুরু হয়। এ সময় মাকে বাঁচাতে চেষ্টা করলে ১৩ বছর বয়সী শিশুকে ধানক্ষেতে নিয়ে দলবেঁধে ধষর্ণ করে যুবলীগেরই আরেক নেতার লোকজন। তারা ধর্ষিতা মেয়েটির আট বছর বয়সী বোন ও সাত বছর বয়সী ভাইকেও অপহরণ করেছে।

শনিবার গভীর রাতে নোয়াখালী কোম্পানীঞ্জ উপজেলার গাংচিল গ্রামে এমন বর্বরোচিত ঘটনার জন্ম দেয় যুবলীগ নেতা স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোজাম্মেল সিকদার ও তার মোজাম্মেল বাহিনীর সদস্যরা।

জানা গেছে, শনিবার রাত ১১ টায় উপজেলার গাংচিল গ্রামের কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নদীভাঙ্গন কবলীত এলাকা ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড এর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোজাম্মেল সিকদার ও ০৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় গ্রুপের ২০জন আহত হয়। তাদেরকে কোম্পানীগঞ্জ ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এরপর মোজাম্মেল সিকদার ও তার সহযোগী ৩০-৩৫ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিপক্ষ ০৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইসমাইলের বাবা মোস্তফা মিয়া হাসেম বাজারের দোকান ভাঙচুর করে নগদ এক লক্ষ টাকা লুট করে এবং মোস্তফাকে বেদম মারধর করে।

পরে মোজাম্মেল বাহিনী সংঘবদ্ধ হয়ে ইসমাইলের বাড়িতে গিয়ে তার বসতঘর, আশ্রাফ আলীর বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে ইসমাইলকে না পেয়ে তার মা ছেমনা খাতুনকে বেদম মারধর করে। ইসমাইলের বোন গাংচিল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী (১৩) বাধা দিলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধান খেতে নিয়ে গণধর্ষণ করে মোজাম্মেল বাহিনী।

ইসমাইলের মা ছেমনা খাতুন অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর আমার দুই সন্তান পলি আক্তার (৮), ইমাম উদ্দিনকে (১৩) কে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।’

এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবলীগ ক্যাডার ইসমাইল (৩৫) ও তার লোকজন মোজাম্মেল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড খলিল (৪০) ও ফারুককে (৩৯) পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতদেরকে নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে সুধারাম থানা পুলিশ মোজাম্মেলকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের সংবাদ পেয়ে কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সাজেদুর রহমান সাজিদ জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।