এবার বাংলাদেশে মৃত ব্যক্তির সাথে সেলফি প্রকাশ!

Facebook_Selfiবাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মৃত ব্যক্তির সাথে সেলফি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছে তিনজন কিশোর। রোববার রাতে ছবিটির স্ক্রিনশর্ট ফেসবুকে প্রকাশ করে ধিক জানিয়েছেন সাংবাদিক সন্দীপন বসু মুন্না। তিনি লিখেছেন, “এই আমার ফেইসবুক প্রজন্ম!! ছবিটা দেখে শিউরে উঠেছি।”

ছবিতে দেখা যায় তিনজন কিশোর তাঁদের মৃত নানার সাথে সেলফি উঠে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে ফেসবুকে। সেখানে তারা লিখেছে, “যাকে নিয়ে এত মজা করতাম, যাকে ঘিরে ছিল আমাদের হাঁসিখুশি, যার সাথে কথা না বলে থাকতাম না; সে হল আমার নানা। তিনি আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমরা তোমায় ভুলবো না। Miss u so much Nana bhai”. তবে সেলফিদাতার নাম বাদ রেখে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে। ছবির তথ্য অনুসারে গেল বছর ১৫ নভেম্বর ভোর ৬টা ১ মিনিটে সেলফিটি ফেসবুকে আপ করা হয়।

এর আগে গত বছর জুলাই মাসে সৌদি আরবের মদিনায় এক কিশোর তার মৃত দাদার সাথে সেলফি উঠে ফেসবুকে প্রকাশ করলে সারা পৃথিবীজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সে সময় বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোও সংবাদটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করে। প্রকাশিত সংবাদের তথ্য অনুযায়ী সেই কিশোর নাক-মুখ বাঁকিয়ে জিহ্বা বের করে তোলা সেলফিটির ক্যাপশন দিয়েছিল ‘বিদায়, দাদা’ (গুডবাই, গ্র্যান্ডফাদার), ‘ফিলিং’ জানানো হয়েছিল, ‘স্যাড’।

তৎকালীন ডেইলি মেইল জানিয়েছিল, সেলফিটি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করার পর হতভম্ব হয়ে পড়েন অন্য সামাজিক যোগাযোগকারীরা। তারা এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি নালিশও জমা পড়ে। নালিশটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করে মদিনার সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, হাসপাতালে প্রবেশ করে ওই তরুণকে সেলফি তুলে দেওয়ার সুযোগ কারা দিলেন তাদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

মদিনার পাবলিক রিলেশন ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আবদুল রাজাক হাফেদ বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই কিশোর যা করেছেন, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, জঘণ্যও।’ সৌদ আল-হারবি নামে এক আইনজীবী বলেন, ওই কিশোরকে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণের দায়ে শাস্তি না দিলে অন্যরা এ ধরনের আচরণ করতে ভয় পাবে না। তবে এতো কিছু নিয়ে যখন বিশ্ব মিডিয়া সরব তার ঠিক পাঁচ মাসের (নভেম্বর ২০১৫) মাথায় বাংলাদেশেও একই কাণ্ড ঘটাতে অনেকে হতভম্ব হয়েছেন।Selfi