ইসলামী ছাত্রসমাজের সভাপতি মাসউদ খানের সাক্ষাৎকার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ। বাংলাদেশের কওমী ঘরানার প্রথম ইসলামী ছাত্র সংগঠন। আজ থেকে ৪৭ বছর পূর্বে অর্থাৎ পাকিস্তান আমলে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের যৌথ উদ্যোগে ১৯৬৯ সালে ৩ সেপ্টেম্বরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমল থেকে আজ পর্যন্ত এই ধর্মপ্রাণ পূর্ব জনপদে ইসলামবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে এবং সর্বত্র দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে মাঠে, ময়দানে ও রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের একটি উজ্জ্বল ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠন। অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের মতো অধ্যাপক এবং হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর মতো বড় বড় যোগ্য নেতা গড়ে উঠেছিলেন ইসলামী ছাত্রসমাজের সাংগঠনিক ছায়াতলে। আজ এই গর্বিত ও ঐতিহ্যবাহী সগঠনটির বর্তমান সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খানের সাথে সংগঠনটির বর্তমান হালহাকিকত ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক সাইয়েদ মাহফুজ খন্দকার।


মাহফুজ খন্দকার: ইসলামী ছাত্রসমাজ-একটি ঐতিহ্যের সংগঠন, গৌরবের সংগঠন। নানান চড়াই উৎরাই পেরেয়ে আজও টিকে আছে। বর্তমানে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আপনি। সংগঠনের বর্তমান অবস্থা কেমন?

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। গৌরবময় ধারাবাহিকতার ৪৭ বছর অতিক্রম করতে চলেছে। নানা চড়াই-উৎরাই এবং অসংখ্য প্রতিকূলতা জয় করে আমরা এখনো দেশের একটি অন্যতম ছাত্র সংগঠনের মজবুত কাঠামোতে দ-ায়মান। বর্তমান অবস্থার প্রকৃত চিত্র তুুলে ধরা প্রতিবেদন সাপেক্ষ বিষয়। সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায়, যে দেশের সকল বিভাগ, মহানগর ও উল্লেখযোগ্য জেলাসমূহের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ইউনিভার্সিটিতে আমাদের সাংগঠনিক তৎপরতা চলমান আছে এবং তা গতিশীল করতে আমাদের পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

মাহফুজ খন্দকার: ইতিহাস থেকে জানা যায় ছাত্রসমাজ দেশের সর্বপ্রাচীন কওমী ঘরানার ছাত্র সংগঠন। এক সময় রাজপথ কাঁপিয়েছে এই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু বর্তমান অবস্থা ভিন্ন। এর কারণ কী বলে আপনি মনে করেন?

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: সংগঠনটি একেবারেই তৎপরতাহীন কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে নেই। দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রর বৃহত্তর প্রয়োজনে ইসলামী ছাত্রসমাজ বার বার রাজপথে নামছে, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নানান কর্মসূচি পালন করে গণ-সচেতনতা সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। শাসকগোষ্ঠির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলনে মুখর রয়েছে। আজ দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, আদর্শগত নীতি-নৈতিকতার অভাব, দলীয় লেজুড়বৃত্তি-সর্বোপরি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার অভাবে পরিস্থিতির ব্যাপক পট-পরিবর্তনে রাজনৈতিক ময়দানে একটা অনাকাক্সিক্ষত স্থবির পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে মেধাবী ও যোগ্য ছাত্ররা রাজনীতির প্রতি অনীহ হচ্ছে। প্রয়োজনমতো যথেষ্ট যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। এটা শুধু ইসলামী ছাত্রসমাজ নয় অপারাপর সকল সংগঠনের অবস্থাও তথৈবচ। তাছাড়া আমাদের মুরুব্বি সংগঠনগুলোতে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, অনৈক্য ও গ্রুপিং দীর্ঘ সময় যাবত চলতে থাকাও আমাদের মনোবলে একটা প্রভাব ফেলছে আমাদের অনেককেই হতাশ করছে। তবুও আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট সকল ইস্যুতে সমকালীন সময়ে ঘরোয়া ও মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। জাতীয় দৈনিকসমূহে বিবৃতি বক্তব্য প্রচার হচ্ছে, শিক্ষানীতি, শিক্ষা আইন, রোহিঙ্গা নির্যাতন, খাদিজাকে হত্যা প্রচেষ্টা এবং সর্বশেষ মূর্তি ইস্যুতে আমরা রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল, মানব বন্ধন, ইত্যাদী কর্মসূচি পালন করেছি। তা-ও আবার আটটি ইসলামী ছাত্র সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য গঠনে ইসলামী ছাত্রসমাজ নেতৃত্ব পর্যায়ে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে।

মাহফুজ খন্দকার: আপনি বললেন আপনাদের মুরব্বি সংগঠন; অর্থাৎ উপমহাদেশের প্রাচীন ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির বিভিন্ন সমস্যার কারণে আপনার সংগঠন, অর্থাৎ ইসলামী ছাত্রসমাজের ওপর প্রভাব পড়েছে। এটা হতে পারে, তবে আমি জানতে চাইছি, বর্তমানে আপনারা কীভাবে কাজ করছেন এবং পার্টির বিষয়ে কী চিন্তা ভাবনা করছেন?

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে গত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬ তারিখ আমাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত করার পর আমি সারাদেশে এর সাংগঠনিক জেলাসমূহ সফর করি এবং মুরুব্বী সংগঠন নেজামে ইসলাম নানাদল উপদলে বিভক্ত থাকলেও ছাত্রসমাজের সকল জেলা ও মহানগর কমিটি আমার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে, এটা একটা বিরল ও ঐতিহাসিক ঘটনা এবং আমার জন্য গর্বের বিষয় বলেই আমি বিশ্বাস করি। বর্তমানেও ইসলামী ছাত্রসমাজের কোথাও অন্য কোন গ্রুপের অস্তিত্ব নেই। আর দেখুন, আমরা নেজামে ইসলাম পার্টিতেও অনুরূপ ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করি এবং হৃদয় দিয়ে কামনা করি। কিন্তু জাতীয় রাজনীতির নানান মেরুকরণ, জোটগত রাজনীতির জটিল মারপ্যাঁচ, এবং বিশেষ করে কয়েকজন স্বার্থান্ধ আদর্শহীন, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত হীন মানসিকতার লোক এই ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা। ছাত্র সংগঠনে থেকে এই সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এটা একান্তভাবে সংশ্লিষ্ঠ বয়োজৈষ্ঠ্যদের ব্যাপার। তবুও আমারা দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা সুযোগ পেলে ঐক্যের তাকিদ ও প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করাতে পিছপা হই না। বিচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চলছে; হয়তো খুব দ্রুত কিংবা একটু দেরিতে হলেও ঐক্য হবে বলে আশা রাখি। এই আশা সারাক্ষণ বুকে তীব্রভাবে লালন করে চলছি, আপনার এবং ইনসাফের মাধ্যমে সকলের কাছে দোয়া চাই।

মাহফুজ খন্দকার: ছাত্রসমাজের সাবেক দায়িত্বশীলদের সাথে আপনাদের যোগাযোগ কেমন? তারা কি আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন?

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: ছাত্রসমাজের সাবেক দায়িত্বশীলদের প্রায় সকলের সাথেই আমার যোগাযোগ ও সু-সম্পর্ক আছে, তারা আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। কিন্তু মূল সমস্যাটা হলো, মূল সংগঠনের প্রভাব তো সবখানেই সক্রিয়। সাংগঠনিক অনৈক্যের দরুন সকলের সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ নেই, এবং ইচ্ছা থাকলেও সবাই সহযোগিতা করতেও পারছেন না। এটা আমাদের জন্য খুবই অনাকাক্সিক্ষত ও দুর্ভাগ্যজনক।

মাহফুজ খন্দকার: সংগঠনের আগামী দিনের পরিকল্পনার বিষয় যদি জানাতেন।

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ একটা সূূদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ধীরগতিতে হলেও সংগঠনকে একটা মজবুত কাঠামোতে রূপদানের লক্ষ্যে অবিরাম কাজ চলছে। তৃণমূলের মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে থানা জেলা ও মহানগর পর্যন্ত একটা শক্তিশালী সাংগঠনিক টিম গঠন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। সংগঠনের সকল স্তরে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে যোগ্য ও মেধাবী ছাত্রদের সু-সংগঠিত করার এবং নেতৃত্বে নিয়ে আসার কিছু বাস্তব পদক্ষেপ আমরা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছি। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে, মাঝখানে বেশ কিছু সময় সংগঠনে স্বাভাবিক ধারা ব্যাহত হয়েছে, শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুতরাং আমরা সকল অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার মূলোৎপাটন করে সুস্থ ও সুন্দর সমৃদ্ধ সংগঠন গড়ে তুলতে সাবেকদের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় এক মহাপরিকল্পনা কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় আছি। আশা করছি, খুব শীঘ্রই ইসলামী ছাত্রসমাজের এক অসাধারণ সমৃদ্ধ ও কাঙ্খিত অবয়বে নতুন মাত্রা পাবে ইনশা আল্লাহ।

মাহফুজ খন্দকার: এবার একটু আপনার বিষয় আসি; ছাত্র রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেন কিভাবে?

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: আমি একটা সচেতন ফ্যামেলীতে জন্মগ্রহণ করি। ছোটবেলায় দেখেছি, পারিবারিকভাবে আমার বাবা চাচারা রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। আমার দুই চাচা মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আবার বাবা-মা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিস্থিতি এবং দেশ ও ইসলাম নিয়ে অনেক চিন্তা ও পর্যালোচনা করতেন। খুব ছোট হওয়ায় আমি সব কিছু বুঝতাম না, কিন্তুু প্রচুর প্রশ্ন করে বিরক্ত করতাম আশেপাশের সবাইকে। ইসলামের জন্য যেকোন উপায়ে কাজ করার সুযোগ খুঁজতাম। কী কী উপায়ে কিছু করা যায় ভাবতাম। মিটিং মিছিল হলে যারাই করুক আগ্রহ নিয়ে ছুটে যেতাম। একটু চঞ্চল প্রকৃতির থাকায় পাকা পাকা কথা বলে বড়দের খুব বিরক্ত করতাম। হেফজখানায় পড়াকালীন এক সংগঠনের দাওয়াত পাই। তুমুল আগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদগ্রীব ছিলাম। খুব যাওয়া আসা করতাম, বই পুস্তক পড়তাম, ফরম পূরণ করার আগে সবাইকে বলে বেড়াতাম, প্রশ্ন করতাম। পরে জানলাম ঐ সংগঠনের বিষয়ে আলেম -উলামাদের আপত্তি আছে। মন খারাপ করে যাওয়া বন্ধ করলাম। এরপর থেকে একটি খাঁটি ও গ্রহণযোগ্য সংগঠনের খোঁজ করতাম। হেফজ শেষ করে উর্দু দুসরী কিতাব পড়াকালীন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের দাওয়াত পাই এবং তার হক্কানিয়্যত সম্পর্কে নিশ্চিত হই। সেই থেকে ইসলামী ছাত্রসমাজ আমার ঠিকানা, আমার ভালোবাসা, আমার আত্মার স্পন্দন।

মাহফুজ খন্দকার: আপনি সভাপতির পদের আগে সংগঠনের মহাসচিব ছিলেন। আপনার সভাপতি ছিলেন হেফাজতের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। মহাসচিব থাকাকালীন বিষয় নিয়ে কিছু বলুন।

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজ সংগঠন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিদের সমন্বয়ে গঠিত মজলিশে শুরা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আমি কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সচিব থাকাকালীন আজিজুল হক ইসলামাবাদী কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। মজলিশে শুরার বৈঠকে তিনি সার্বিক পেক্ষাপট বিবেচনায় দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য সভাপতি মনোনীত হন এবং ড. অধ্যাপক আ.ফ.ম খালিদ হোসেনের প্রস্তাবনায় এবং সকল শুরা সদস্য মহোদয়গণের সমর্থনে আমি অধমকে মহসচিব এর দায়িত্ব দেয়া হয়। মুহতারাম আজিজুল হক ইসলামাবাদী আমার অত্যান্ত শ্রদ্ধেয়, আমি তার খুবই স্নেহের ছিলাম, আমাকে তিনি সব সময় খুবই সহযোগিতা করতেন, আমার দুর্বলতা আন্তরিকতা ও যত্ন দিয়ে শোধরে দিতেন। আমাদের একটা বড় গর্বের বিষয় ছিল দায়িত্ব পালনের সময় কখনই আমাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি তো দূরে থাক নূন্যতম মতের অমিলও হয় নি। তিনি আজ হেফাজতে ইসলামের মতো বিশাল সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক এটা আমার এবং ছাত্রসমাজের সকলের জন্য খুবই গর্বের। আমি মুহতারামের দীর্ঘ নেক হায়াৎ ও প্রভূত কল্যাণ কামনা করি।

মাহফুজ খন্দকার: ইসলামী ছাত্র সংগঠনগুলো ইসলামী ছাত্র ঐক্য নামে আপনারা একটা প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলেন। বর্তমানে আপনি এর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্লাটফর্মের বিষয় জানতে চাইছি।

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: সর্বদলীয় ইসলামী ছাত্র ঐক্য বাংলাদের শীর্ষ ৮টি ইসলামী ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম বৈঠক ২০১৬ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমার সভপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এটা ছিলো একটা ইস্যুভিত্তিক ঐক্য। শিক্ষানীতি ২০১০ ও প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬ বাতিল এবং ইসলামবিদ্বেষী পাঠ্যসূচি সংশোধনের দাবিতেই আমাদের এই ঐক্য। আমরা এই দাবিতে ঢাকাসহ অনান্য বিভাগেও নানা আন্দোলন করেছি এবং এই দাবিতে শেষপর্যন্ত রাজপথে কর্মসূচির উপর ছিলাম। আমাদের যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পাঠ্যপুস্তকে পূর্বাবস্থা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এখনো আমাদের ঐক্য অটুট আছে। নতুন আরও কিছু ইস্যু যোগ করার বিষয়টি প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আলোচনা ও যাচাই বাছাই চলছে। জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদের বিকল্প নেই।  আমরা আশা রাখি, আমাদের মধ্যে ঐক্য বজায় থাকলে সরকার ইসলাম বিদ্বেষী সকল সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।

মাহফুজ খন্দকার: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খান: আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।