কওমী সনদের সরকারী স্বীকৃতি; কী ভাবছেন সিলেটের আলেমরা?

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

দেওবন্দের মূলনীতি বজায় রেখে কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসকে সরকারিভাবে মাস্টার্সের (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি বিষয়ে এম.এ সমমান) সমমান দেওয়া হয়েছে। গণভবনে ঐক্যবদ্ধ ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে জাতীয় এক অনুষ্ঠানে স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষণার আলোকে ১৩ এপ্রিল কওমি শিক্ষা সনদের মান প্রদান করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় অভিন্ন প্রশ্নে সম্মিলিত পরীক্ষার কথা। প্রজ্ঞাপনের আলোকে আজ ১৬ এপ্রিল দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় স্বীকৃতি বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বীকৃতি নানান বিষয় নিয়ে সিলেট জেলার বিশিষ্ট দুই আলেমের সাথে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন সুলাইমান আহমদ হুজাইফা।

মাওলানা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইলয়াস। সিলেটের অন্যতম প্রধান দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র জামেয়া নূরীয়া ইসলামীয়া ভার্থখলার সিনিয়র মুহাদ্দিস। স্বীকৃত বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “কওমি মাদরাসা সনদের মান আমাদের নাগরিক অধিকার। এ ব্যপারে নিজস্ব স্বকীয়তা ও সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অনেক উলামায়ে কেরামের মধ্যে আশঙ্কা ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে আমি মনে করি এ শঙ্কা আর নেই। তবে তা বাস্তবায়নের পথে সাপ-বিচ্ছু, হিংসুক-নিন্দুকের কালো থাবার সম্ভাবনা আছে, সতর্কতার সাথে আমাদের এগুতে হবে।”
অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সরকার এই স্বীকৃতির মাধ্যমে কওমী মাদরাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাতে পারে, আপনি কি এমন কিছু ভাবছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা শামসুদ্দীন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা এবং উলামায়ে কেরামদের মধ্যে ঐক্য থাকলে বাম-রাম সকলের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে ইনশা আল্লাহ”।

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ঘরের ভিতর আগুন জ্বললে ফায়দা নেবে বিদ্বেষীরা।”

তথাকথিত সুন্নীগোষ্ঠি কওমি সনদের স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং কর্মসূচি দিয়েছে, এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মূলত এরা কখনও কওমীদের কল্যাণ চায় না, এদের কাজই হচ্ছে ভাল কাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। স্বীকৃতির বিষয়ে উনাদের কর্মসূচি সীমালঙ্গনের পর্যায়ে, সাথে প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার শামিল।”

শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফী’র ছবি ভ্যাঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছনে মাওলানা শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইলয়াস। ইতিমধ্যে তিনি তার এই ইচ্ছের কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও জানয়েছেন। এ বিষয় বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয় মাওলানা শামসুদ্দীনের কাছে। তিনি বলেন, “হেফাজতে ইসলামের আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী আমাদের ঐক্যের প্রতিক, সর্বজনীন শ্রদ্ধার পাত্র। উনাকে নিয়ে ভ্যাঙ্গ করে আমাদের সকলের হৃদয়ে আঘাত করেছে তা আমরা মেনে নিতে পারি না। সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভ্যাঙ্গ করা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল। আমি সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতেছি এবং তথ্যগুলো সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি, তথ্য পেলেই আমি মানহানীর মামলা করব।”

সিলেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ও সিলেট জেলা হেফাজতের সেক্রেটারি মাওলানা মুশতাক আহমদ খান। স্বীকৃতি বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকলের ঐক্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছেন, তার মধ্যে আশা করি কল্যাণ আছে। তবে কিছু ক্ষতিরও সম্ভাবনা আছে যদি ব্যবস্থাপনায় ভূল হয়।

আপনি গনভবনে উলামা সম্মেলনে ছিলেন কিনা। এছাড়াও অনেকে বলছেন, স্বীকৃতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে সিলেটের উলামাদের কাউকে তেমন তৎপর দেখা যায় নি, বেফাকের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি প্রিন্সিপাল হাবীবকেও দর্শক দেখা গেছে। এসব বিষয় জানতে চাইলে মাওলানা মুশতাক আহমদ খান স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে বলেন, সিলেটের উলামারা যথেষ্ট তৎপর ছিলেন। আর প্রিন্সিপাল সাহেব দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় এবং উনি বিলম্ব করে উপস্থিত হওয়াতে মঞ্চে আসন পাননি।

সরকার এই স্বীকৃতির মাধ্যমে কওমী মাদরাসাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালাতে পারে, অনেকের এমন শঙ্কার ব্যপারে জানতে চাইলে মাওলানা খান বলেন, “এই পর্যন্ত যতটুকু এগিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে না সরকারের এধরনের কোন ইচ্ছা আছে। তাছাড়া প্রজ্ঞাপনেও স্পষ্ট রয়েছে দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতির আলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।”

তথাকথিত সুন্নীগোষ্ঠি কওমি সনদের স্বীকৃতির ঘোষণার বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিয়ামত পর্যন্ত হকের বিরুদ্ধে বাতিল থাকবে, অতিতেও এরা দুশমনি করেছে, এখনও করছে। তবে এদের বিরোধীতায় আমাদের কিছু আসে যায় না। এদের বিষয়গুলোকে আমরা কখন গুরুত্ব দেই নি, সতরাং এনিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যথা নেই।