স্বীকৃতি ঘোষণায় কথিত বামরা হিংসা ও বিদ্বেষের আগুনে জ্বলছে : মুফতী ফয়জুল্লাহ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-কে নিয়ে বেশকিছু জাতীয় দৈনিকে বিভ্রান্তিমূলক কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে এই আধ্যাত্মিক সংগঠনটাকে রাজনৈতিক দল বা গুষ্টি হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে একটি পত্রিকা হেফাজত নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধন চেয়েছে মর্মেও খবর প্রকাশ করে! এসব বিষয় নিয়ে ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে কথা বলেছেন, সংগঠনটির যুগ্ম-মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ

মুফতী ফয়জুল্লার মতে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার পর থেকেই মূলত এর বিরোধীরা হেফাজত ও শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, হেফাজত ও কওমী মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি এক বিষয় নয়।

মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের সমমান দেওয়ার স্বীকৃতি ঘোষণায় হিংসা ও বিদ্বেষের আগুন জ্বলছে বাম ও কথিত প্রগতিশীলদের ঘরে ঘরে। কিন্তু তাদের এই চিৎকার চেঁচামেচি ও ফুৎকারে কি নিভে যাবে যুগ যুগ ধরে প্রজ্বলিত এই আলোকমশাল! ইসলামবিদ্বেষীরা এখন খেই হারিয়ে কখনো হেফাজতে ইসলামকে টেনে আনছে এই প্রক্রিয়ায়। হেফাজতে ইসলাম এবং কওমির স্বীকৃতি কখনো এক নয়। একটি হচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি যা আমাদের অধিকার, আর হেফাজতে ইসলাম হচ্ছে এ দেশের গণমানুষের ঈমান ও আকিদা সংরক্ষণে আমাদের দায়িত্ব, যা আমাদের কাছে নবীর উত্তরাধিকার। দুটো বিষয়কে এক করে যারা পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন, তারা নিজেরাই এ ঘোলা পানিতে হাবুডুবু খেয়ে মরবেন, পৃথিবীতে টিকে থাকবে কেবল যা কিছু সত্য ও সুন্দর।’

পত্রিকাগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয় জানতে চাইলে মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘কতিপয় ইসলাম বিদ্বেষী তাদের বিষাক্ত দন্ত, নখর আর পেশি শক্তি দিয়ে ইসলামী শক্তিকে রক্তাক্ত ও আহত করতে চায়। মহামান্য আমীরে হেফাজত, শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতে ইসলাম, এবং হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বকে তারা বিতর্কিত করতে চায় তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে। কিছু কথিত সাংবাদিক, নিষ্ঠাবান হলুদ সাংবাদিকতার প্রদর্শনী করে যাচ্ছে এখানে ওখানে সব খানে। জঘন্যমিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, আজগুবি সব খবর পরিবেশন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির সব রকম চেষ্টাই করে যাচ্ছে অনবরত।’

হেফাজতে ইসলাম রাজনীতিতে আসবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঈমানী, দীনি, আত্মশুদ্ধিমূলক, দেশ জাতি, মানবতার কল্যাণকামী সংগঠন। হেফাজত রাজনৈতিক দল নয়, রাজনীতির সাথে এর নুন্যতম সংশ্লিষ্টতা নেই। তাই হেফাজত নির্বাচনমুখী চিন্তা ভাবনা নেই এবং নির্বাচন করার প্রশ্নই উঠে না। হলুদ সাংবাদিকতার নতুন নজির স্থাপন করে চলেছে এক শ্রেণীর নাস্তিক্যবাদী মিডিয়া। তারাই হেফাজতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।’

মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, দেশের আলেম উলামা ইসলামের সত্যিকারের অনুসারী। তাঁরাই হচ্ছেন, মানবতার অতন্দ্র প্রহরী। তাঁরা মানুষের কল্যাণের জন্য তাগুতের বিরুদ্ধে লড়াই করে। জুলম, শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। দুঃখী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে। তাঁদের নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলী নিষ্কলুষ, শুভ্র,সুন্দর। তাঁদের ব্যক্তিত্বের সৌরভ সমাজ ও পরিবেশকে করে সুরভিত।