প্রচণ্ড পায়ে ব্যথা নিয়ে আদালতে পৌঁছেছেন খালেদা জিয়া

প্রচণ্ড পায়ে ব্যথা নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে আদালতে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোমবার বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তিনি ঢাকা মহানগর সিনিয়র জজ আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে তার আত্মপক্ষ সমর্থন ও হাজিরার দিন ধার্য রয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রচণ্ড পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। তিনি ভালো করে হাঁটতে ও দাঁড়াতে পারছেন না। বসলে উঠতে পারছেন না। এর মধ্যেই আজকে তাঁকে আদালতে হাজির হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় গাড়িতে বসে থাকতেও তাঁর অনেক কষ্ট হয়েছে।

০টার দিকে খালেদা জিয়া তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। ১১টা ৩৫ মিনিটে পুরান ঢাকার আদালতে পৌঁছান।  বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তিনি আদালত কক্ষে পৌঁছান। আইনজীবীরা তাঁকে একটি চেয়ারে বসতে দেন। বিচারক এজলাসে বসলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা উঠে দাঁড়ান।

এ সময় খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় এতটাই কাবু ছিলেন যে, তিনি তখন চেষ্টা করেও চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে পারেননি।

পরে বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার এ ব্যাপারে আদালতকে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পায়ের ব্যথায় প্রচণ্ড অসুস্থ। তিনি বসতে-উঠতে বা হাঁটতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। তাই তিনি দাঁড়াতে পারছেন না। এত অসুস্থতা নিয়েও তিনি শুধু আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজ আদালতে হাজির হয়েছেন।’

আদালত তখন বলেন, ‘ঠিক আছে।’

এর পর জমির উদ্দিন সরকার আদালতে এ মামলা সাময়িক স্থগিতের জন্য আবেদন জানান। তিনি জানান, এ মামলার বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইেকার্টে আবেদন করা হয়েছে। সেটি এখন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিন সপ্তাহের জন্য মামলাটি এখানে শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন করছি। এ অবস্থায়, এখানে এই মামলার শুনানি করা ঠিক হবে না।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদ।

২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী (পলাতক) ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান (পলাতক)।