ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান

মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ


হাদীস ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী দাড়ি রাখা ওয়াজিব। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি রাখার আদেশ করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোঁচ কাটার ও দাড়ি লম্বা করার আদেশ করেছেন।’
إنه أمر بإحفاء الشوارب وإعفاء اللحية
-সহীহ মুসলিম ১/১২৯
বিভিন্ন হাদীসে আদেশের শব্দগুলোও বর্ণিত হয়েছে। যেমন-
خالفوا المشركين، وفروا اللحى واحفوا الشوارب
মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি বাড়াও ও মোচ কাট।’
(আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে বুখারী ২/৮৭৫)
خالفوا المشركين، واحفوا الشوارب وأوفوا اللحى
মুশরিকদের বিরোধিতা কর এবং মোচ কাট ও দাড়ি পূর্ণ কর।’ (ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে মুসলিম ১/১২৯)
انهكوا الشوارب واعفوا اللحى
মোচ উত্তমরূপে কাট এবং দাড়ি লম্বা কর। (ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে বুখারী ২/৮৭৫)
جزوا الشوارب وارخوا ا للحى، خالفوا المجوس
মোচ কাট ও দাড়ি ঝুলিয়ে দাও, অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা কর।’ (আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে মুসলিম ১/১২৯)

উপরের হাদীসগুলোতে চারটি শব্দ পাওয়া গেল :
ارخوا ـ اعفوا ـ أوفوا ـ وفروا
এই সবগুলো শব্দ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা ও পূর্ণ দাড়ি রাখার আদেশ করেছেন। সুতরাং এভাবেই দাড়ি রাখা ওয়াজিব।



এখানে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা দরকার : ১. দাড়ির বিধানটি শরীয়তের একটি মৌলিক ও সাধারণ বিধান। একে নিছক আরবীয় রীতি বা বিশেষ স্থান-কালের মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি।

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফের বাণী সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।

এক. উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দশটি বিষয় ‘ফিতরাতে’র অন্তর্ভুক্ত : মোচ কাটা, দাড়ি লম্বা রাখা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, চামড়ার ভাঁজের জায়গাগুলো ধৌত করা, বগলের নীচের চুল তুলে ফেলা, নাভীর নীচের চুল মুন্ডানো, (বাথরুমের প্রয়োজন পূরণের পর) পানি দ্বারা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। বর্ণনাকারী বলেন, দশম বিষয়টি আমি ভুলে গেছি, যদি না তা হয় ‘কুলি করা।’-সহীহ মুসলিম
আরবীতে ‘ফিতরাত’ শব্দের অর্থ স্বভাব। আল্লাহ রাববুল আলামীন যে উত্তম মানবীয় স্বভাব সৃষ্টি করেছেন তার সর্বোত্তম নিদর্শন নবী ও রাসূলগণ। এ কারণে ‘ফিতরাত’ শব্দটির অর্থ করা হয়েছে আদর্শ ও অনুকরণীয় স্বভাব, তথা নবী ও রাসূলগণের স্বভাব।
তো হাদীস শরীফ থেকে বোঝা যাচ্ছে, মোচ কাটা ও দাড়ি রাখাই হচ্ছে পুরুষের স্বাভাবিক অবস্থা এবং সকল নবী-রাসূলের সুন্নাহ ও আদর্শ, যাঁদের অনুসরণের আদেশ কুরআন মজীদে করা হয়েছে।


এই হাদীস থেকে আরো বোঝা যায়, দাড়ি মুন্ডানো হচ্ছে একটি বিকৃতি, কিন্তু ব্যাপক বিস্তারের কারণে অন্য অনেক বিকৃতির মতো এটাও এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে; বরং পুরুষের শ্মশ্রূমন্ডিত স্বাভাবিক রূপটিই এখন দ্বিধা ও সংকোচের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিকৃতির সূত্রও আমরা কুরআন মজীদে পাই।
কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা শিরকের বিষয়ে কঠিনভাবে সাবধান করেছেন এবং শিরকে লিপ্ত লোকদের সম্পর্কে বলেছেন যে, এরা আসলে শয়তানের (অনুগত ও শয়তানের) কাছে প্রার্থনা করে। এরপর শয়তান যে মানবজাতির চরম শত্রু সে বিষয়ে বান্দাদেরকে সাবধান করেছেন। এ প্রসঙ্গে শয়তানের একটা উদ্ধত ঘোষণাও আল্লাহ তাআলা বান্দাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

(তরজমা) আর সে (আল্লাহকে) বলেছিল, আমি তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্ধারিত এক অংশকে নিয়ে নেব।
এবং আমি তাদেরকে সরল পথ হতে নিশ্চিতভাবে বিচ্যুত করব, তাদেরকে অনেক আশা-ভরসা দেব, এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা চতুষ্পদ জন্তুর কান চিরে ফেলবে। এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে শয়তানকে বন্ধু বানায়, সে সুস্পষ্ট লোকসানের মধ্যে পড়ে যায়।
সে তো তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তাদেরকে আশা-আকাঙ্খায় লিপ্ত করে। (প্রকৃতপক্ষে) শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। তাদের সকলের ঠিকানা জাহান্নাম। তারা তা থেকে বাঁচার জন্য পালানোর কোনো পথ পাবে না।
যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে আমি তাদেরকে এমন সব বাগানে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। এটা আল্লাহর ওয়াদা, যা সত্য। আর আল্লাহর কথার চেয়ে আর কার কথা বেশি সত্য হতে পারে?-সূরা নিসা : ১১৮-১২২
এবং তাদেরকে আদেশ করব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।’

 

আয়াতের এ অংশের আলোচনায় আল্লামা শাববীর আহমদ উসমানী রাহ. বলেছেন,

‘দাড়ি মুন্ডানোও এ আকৃতি পরিবর্তনের মধ্যে পড়ে।’ (দেখুন : তাফসীরে উসমানী (মূল) পৃ. ১২৫; (অনুবাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১/৪৪৬)
হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রাহ.ও আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করার প্রসঙ্গে বলেছেন,

এটা ফাসেকী কাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত। যেমন দাড়ি মুন্ডানো, শরীরে উল্কি আঁকা ইত্যাদি।-তাফসীরে বয়ানুল কুরআন ১/২/১৫৭

দুই. দাড়ির বিধান যে একটি মৌলিক বিধান তা ঐসব হাদীস থেকেও বোঝা যায়, যেখানে সরাসরি একে আল্লাহর আদেশ বা দ্বীনের অংশ বলা হয়েছে।
বিখ্যাত তাবেয়ী ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. বলেন, জনৈক অগ্নিপূজক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসেছিল। তার দাড়ি মুন্ডানো ছিল ও মোচ লম্বা ছিল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এটা কী?’ সে বলল, ‘এটা আমাদের ধর্মের নিয়ম।’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

‘কিন্তু আমাদের দ্বীনের বিধান, আমরা মোচ কাটব ও দাড়ি লম্বা রাখব।’

جاء رجل من المجوس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قد حلق اللحية وأطال شاربه فقال له النبي صلى الله عليه وسلم ما هذا؟ قال : هذا في ديننا، قال : لكن في ديننا أن نجز الشارب وأن نعفي اللحية.
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১৬-১১৭, হাদীস : ২৬০১৩
উল্লেখ্য, পারস্য সম্রাটের উদ্দেশে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্র পাঠিয়েছিলেন। এ ঘটনা সহীহ বুখারীতে আছে। ইমাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ রাহ.-এর সূত্রেই তা বর্ণিত হয়েছে।
তবে সেখানে তা আছে সংক্ষেপে। এ ঘটনা বিস্তারিতভাবে আছে ইতিহাসের কিতাবে। ইমাম ইবনে জারীর তবারী রাহ. যায়েদ ইবনে আবী হাবীব রাহ.-এর সূত্রে তা বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে, ইয়েমেনের শাসকের পক্ষ থেকে দু’জন লোক আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এল। তাদের দাড়ি মুন্ডানো ছিল এবং মোচ লম্বা ছিল। তাদের চেহারার দিকে তাকাতেও আল্লাহর রাসূলের কষ্ট হচ্ছিল। তিনি তাদেরকে বললেন,

তোমাদের মরণ হোক! এ কাজ করতে কে তোমাদেরকে বলেছে? তারা বলল, আমাদের প্রভু (কিসরা) আমাদেরকে আদেশ করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কিন্তু আমার রব আমাকে আদেশ করেছেন, দাড়ি লম্বা রাখার ও মোচ খাটো করার।

ولكن ربي أمرني بإعفاء لحيتي وقص شاربي
-আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৪৫৯-৪৬০
২. কোনো কোনো হাদীসে দাড়ি লম্বা রাখার আদেশের সাথে মুশরিকদের বিরোধিতার কথাও বলা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, দাড়ি যেমন শরীয়তের একটি বিধান তেমনি তা মুসলমানের পরিচয়-চিহ্ন, যার দ্বারা মুমিন-মুসলমানকে প্রথম দৃষ্টিতেই আলাদা করে চেনা যাবে। এটি মুসলমানের জাতীয় চেতনাবাহী একটি বিষয়।
অমুসলিমদের সাথে স্বাতন্ত্র রক্ষা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান। বেশ-ভূষা, পর্ব-উৎসব, আইন-আদালত, শিক্ষা-সংস্কৃতি-এককথায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে মুসলিম-স্বাতন্ত্র রক্ষা করা অপরিহার্য। আর তা হবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে ইসলামী আদর্শের অনুসরণ ও অনৈসলামিক রীতি-নীতি পরিহারের মাধ্যমে। এ কারণে উপরোক্ত হাদীসসমূহে মুশরিক-মাজূস ও ইয়াহুদ-নাসারার বিরোধিতার যে আদেশ করা হয়েছে তা দাড়ির বিধানটিকে আরো তাকীদ করেছে এবং ভিন্ন মাত্রা দান করেছে।
বর্তমান সময়ে এর গুরুত্ব অনেক বেশি এবং ছওয়াব ও ফযীলতও ইনশাআল্লাহ অনেক বেশি। কারণ অমুসলিমদের বিকৃতি এখন মুসলমানদের মাঝেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেক ভালো মানুষও শুধু সমাজের অনুকরণ করতে গিয়ে এই বিকৃতিকে গ্রহণ করেছে। এটা নিঃসন্দেহে ‘ফাসাদুল উম্মাহ’ বা উম্মতের অধঃপতন ও আদর্শত্যাগের একটি দৃষ্টান্ত। সুতরাং এ সময় দাড়ি রাখা অর্থ-উম্মতের আদর্শত্যাগের সময় রাসূলের সুন্নাহ ও আদর্শের একটি অংশের উপর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। এভাবে এই সময়ে যারা আল্লাহর রাসূলের আদর্শকে ধারণ করবেন এবং তাঁর পূর্ণ অনুসারী হবেন ইনশাআল্লাহ তারা শহীদের মর্যাদা লাভ করবেন। আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
من تمسك بسنتي عند فساد أمتي فله أجر شهيد
আমার উম্মতের ফাসাদ (আদর্শত্যাগের) সময় যে আমার সুন্নাহ (আদর্শ)কে ধারণ করবে সে শহীদের মর্তবা লাভ করবে।


৩. এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কাটার সুযোগ শরীয়তে রয়েছে। হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. ও হযরত আবু হুরায়রা রা. এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কেটেছেন।
আবু যুরআ রাহ. বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাঁর দাড়ি মুঠ করে ধরতেন। এরপর এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৩/১১২, হাদীস : ২৫৯৯২; ২৫৯৯৯
নাফে রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কেটে ফেলতেন।-প্রাগুক্ত হাদীস : ২৫৯৯৭
হাসান বসরী রাহ. বলেন, তাঁরা (সাহাবা-তাবেয়ীগণ) মুষ্ঠির অতিরিক্ত দাড়ি কাটার অবকাশ দিতেন।-প্রাগুক্ত ১৩/১১২, হাদীস : ২৫৯৯৫
কিন্তু কোনো সহীহ বর্ণনায় এক মুষ্ঠির ভিতরে দাড়ি কাটার কোনো অবকাশ পাওয়া যায় না।
সাহাবা-তাবেয়ীনের এই আমলকে পূর্বোক্ত মারফূ হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা যায়। সুতরাং এ বিষয়ের হাদীস ও আছার থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব, কেটে বা ছেটে এক মুষ্ঠির চেয়ে কম রাখার অবকাশ শরীয়তে নেই।
কোনো কোনো বন্ধুকে দেখা যায়, হজ্ব থেকে ফিরে দাড়ি রাখেন, কিন্তু এক মুষ্ঠির কম কিংবা তার চেয়েও ছোট ছোট। এর দ্বারা দাড়ি রাখার বিধান পালন হয় না। আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে যখন দাড়ি রাখার প্রেরণা সৃষ্টি হয়েছে তখন এমনভাবেই রাখা উচিত, যা তাঁর নিকটে মকবুল হবে। অন্যথায় বিষয়টি এই দাঁড়াবে যে, এতদিন শয়তান একভাবে বিভ্রান্ত করেছিল এখন অন্যভাবে বিভ্রান্ত করল।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাড়ি

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা মোবারক ছিল ঘন শ্মশ্রুমন্ডিত। তাঁর দাড়ি ছিল বুকের এক পার্শ্ব থেকে অন্য পার্শ্ব পর্যন্ত বিস্তৃত। কিছু হাদীসের আরবী পাঠ এই
كان النبي صلى الله عليه وسلم كث اللحية رواه الترمذي في شمائله وأحمد في مسنده قال الشيخ أحمد شاكر إسناده صحيح وفي رواية : كان عظيم اللحية رواه أحمد في مسنده قال الشيخ أحمد شاكر : إسناده صحيح

সুতরাং দেশী বা বিদেশী কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণীর অনুকরণের পরিবর্তে আমাদের কর্তব্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুকরণ করা। কারণ আমরা তো তাঁরই উম্মত।
সবশেষে একটি অনুভূতির কথা বলি। কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদের একজন মুসল্লী ইন্তেকাল করলেন। ইন্তেকালের আগে তিনি কিডনির রোগে বেশ কষ্ট পেয়েছিলেন। আমরা কয়েকজন তাকে দেখতে গেলাম। প্রথম দর্শনেই একটি স্নিগ্ধ অনুভূতি আমাদেরকে আচ্ছন্ন করল। তাঁকে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। গোটা দেহ সাদা চাদরে ঢাকা। শুধু মুখটি খোলা ছিল। সফেদ দাড়ি শোভিত তাঁর প্রশান্ত মুখটি দেখে আমার মনে হয়েছিল তিনি এক শান্তিময় জীবনের দিকে যাত্রা করেছেন! (আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।)
মেহেরবান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতি বানিয়ে দিন। আমীন।