৮ এপ্রিল ৪ ঘন্টা কারাবাস ও হরতালের কিছু স্মৃতি

  মুহাম্মাদ ইরফান সোলাইমান


মুহাম্মাদ ইরফান সোলাইমান
মুহাম্মাদ ইরফান সোলাইমান

৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের লং-মার্চে যোগ দিতে অনেক বাধা ডিঙ্গিয়ে যেতে হয়।আল্লাহর শোকর, অংশগ্রহণের তৌফিক হয়েছে। লং-মার্চ পরবর্তী সমাবেশে যখন হরতালের ঘোষাণা হয় তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম।সমাবেশে তখন এলাকার কিছু সাথী উপস্থিত, সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম এবার হরতাল পালন করবো ইনশা আল্লাহ।

এই সিদ্ধান্ত ছিল কেবল কয়েক জনের।আমাদের রাউজান থানা এমন, যেখানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন ভিন্ন মতের তেমন কোন অবস্থান কিংবা রাজপথে নামার সাহস নেয়।তাই রাউজানে হরতাল পালনের বিষয়টি খুব জটিল।

পরবর্তী এলাকায় এসে বেশ কিছু তরুণ-যুবক এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের উপর একমত হয়ে অটল থাকে।
আলহামদুলিল্লাহ ৮ তারিখ সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে ভাবতে লাগলাম কিভাবে হরতার পালন করা যায়।অবশেষে বের হলাম। সবাইকে জমায়েতের আপ্রাণ চেষ্টা চলছে…….।

এলাকার ভিতরে আমরা স্লোগান দিয়ে ঘুরে আসলাম। ইতিমধ্যে সাথী জমায়েত হয়েছে ২০ জনের মত। পার্শ্ববরতী এলাকার সাথে যোগাযোগ করলে তারাও আসে।

পুলিশ প্রশাসন একবার বাধা দেয়। তা ডিঙ্গিয়ে গন্তব্য স্থান গহিরা চৌমুহনীতে পৌঁছি।অবস্থানের সময় প্রায় ১২.৩০ মিনিটে দিকে পশ্চিম দিক থেকে টুপি-দাড়ি বিহীন একটি অবাধ্য মিছিল এসে রাউজান মুন্সিরঘাটায় যাওয়ার চেষ্টা করে।

আমাদের আমির না আগাতে বললেও তারা সরকারদলীয় নেতাদের বিভিন্ন ব্যানার ও দোকান পাট ভাংচুর চালায়।

আমরা আমিরের কথা মতে রয়ে গেলাম যথাস্থানে। ইতিপূর্বে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা আমাদের অবস্থানে হামলার প্রায় প্রস্তুতও ছিল। তারপরেও দ্বীন বুঝে আছে এমন কিছু ব্যক্তি সেখানে ছিল, তাই আক্রমণের চেষ্টা করে নি।

যখন অবাধ্য মিছিলটি দেখলো তখন আমাদের উপর তাদের ক্ষোভ বেড়ে গেলো। তখন তাদের অবস্থা দেখে, আমির সাহেব আমের সরে যাওয়া ইঙ্গিত দিলে আমরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করি।

অবস্থান থেকে একটু দূরে আসতেই শুনতে পাচ্ছিলাম অবৈধ গুলা-গুলির ঠুস-ঠাস শব্দ। আমরা দু’জন এক সাথে হয়ে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বাড়ীর দিকে রওনা হই।

মাঝ-পথে গুন্ডাবাহিনী গুন্ডার মত পে পো – পে পো করে গাড়ীর আওয়াজ শুতে পাচ্ছিলাম।সাথী ভাই শওকত ও আমি দুআর আমল করতে থাকি।

ঐ মূহুর্তে সন্ত্রাসীরা আমাদের ঘেরাও করে আক্রমণ করে।সন্ত্রাসীদের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রাস্তা থেকে বিলে পড়ে যাই। পরে গুন্ডা বাহিনী F_Z বাইক করে আমাকে থানায় দিয়ে যায়।

থানায় গিয়ে দেখি অন্যান্য সাথীদের তুলনায় আমারতো কিছুই হয়নি। মুফাসসিল সহ অন্যান্য সাথীদের মাথা পেটে গেছে।আরো মারাত্মক ভাবে আহত।

আল্লাহর মেহেরবানিতে মামলা হয়নি। ৪-৫ ঘন্টা পর মুক্তি পাই।

আল্লাহ আমি অধমকে এমন একটা পরীক্ষায় পতিত করেছেন।তবে শোকরিয়া এ পরীক্ষা আগের চেয়ে বেশী সাহস হয়েছে।

মৃত্যু একদিন আসবে। আল্লাহ না করুন, হয়তো ঈমানদার হয়ে মৃত্যু না হতে পারে। তাই শাহাদা তো সকলের কাম্য। সব সময় মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ মৃত্যুটা যেনো শহিদী মৃত্য হয়।

ফেসবুক থেকে