ওরাল সেক্স বিকৃত রূচির আরেকটি ধারা

ওমর শাহ


সেক্স এক প্রাকৃতিক নিয়মধারা। সেক্সকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। মানুষ সমাজ থেকে পশু সমাজেও এ ধারা চালু রয়েছে। প্রজনন বৃদ্ধির জন্যই সৃষ্টিকর্তা এ ধারা তৈরি করে দিয়েছেন। তবে পশু সমাজ ও মানুষসমাজের মাঝে এ সেক্স উপভোগের নির্দিষ্ট সীমা রেখা আছে। পশু সমাজে সেক্স অবাধ থাকলেও মানুষ সমাজে সেক্স রুচিবোধ ও শালীনতার সঙ্গে করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেক্স হতে হবে নিরাপদ ও জীবনের কল্যাণময় উদ্দেশ্যের জন্য। সেক্সকে বিপরীত পথে ব্যবহার ফলে এর কল্যাণ ও উপভোগের চেয়ে ক্ষতির দিকটিই বেশি।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ সমাজে সেক্সকে বিকৃত করে উপভোগ করার ধারাও চালু আছে। সৃষ্টির সূচনা থেকেই এ ধারা চালু ছিল। সমকামিতা, বহুগামিতা, ব্যাভিচারের ফলে সৃষ্টিকর্তার আযাবের সম্মুখীনও হতে হয়েছে বহু জাতিকে। ধ্বংস হয়ে গেছে বহু জনপদ। তবে সৃষ্টিকর্তার সব আজাবই প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ শাস্তিও আছে আল্লাহর আইনে। এইডস, ক্যান্সার ও গনোরিয়ার মতো বিরল রোগেরও জন্ম হচ্ছে। যেগুলোর যৌনচারের কারণে হচ্ছে বলে চিকিৎসকদের দাবি। ওরাল সেক্স এমনই এক যৌনাচারভিত্তিক পদ্ধতি যা থেকে গনোরিয়ার জন্ম হচ্ছে। ভয়ঙ্কর জীবননাশের মুখোমুখি হচ্ছে মানুষ।

ওরাল সেক্স (মুখমেহন) মূলত এমনই এক নিষিদ্ধ পদ্ধতি যা ইসলামে সরাসরি হারাম ঘোষণা না হলেও বৈধতাও দেয়নি। একটি অপছন্দনীয় ও মাকরূহে তাহরিমী বলে মুফতিয়ে কেরাম ফতোয়া দিয়েছেন। মানবিক বিবেচনায়ও এ পদ্ধতিতে বৈধতা দেওয়ার কোন যুক্তি নেই। পশ্চিমা বিশ্বের ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ ও ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শারীরিক সংসর্গের সময় সঙ্গীদের সঙ্গে ওরাল সেক্স করেন। ফলে ভয়ংকর মাত্রায় গনোরিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে জন্মনিরোধক (কনডম) ব্যবহারে অনীহা বাড়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌনতার মাধ্যমে ছড়ানো এই রোগের সংক্রমণ শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিককে প্রতিরোধ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই রোগ নিরাময়ে কার্যকরী নতুন ওষুধ খুব বেশি নেই। এ কারণে বিষয়টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষ যৌনতার মাধ্যমে সংক্রমণজনিত এ রোগে আক্রান্ত হয়। আর এর কারণে কেউ বন্ধ্যাও হয়ে যেতে পারে। ৭৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে ডব্লিউএইচও বলছে, গনোরিয়া ভয়াবহভাবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ থিওডোরা উয়ি বলেন, জাপান, ফ্রান্স ও স্পেনে কমপক্ষে তিনটি ঘটনা পাওয়া গেছে, যেখানে গনোরিয়া রোগটি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নেইসেরিয়া গনোরিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণেই মানুষের এই গনোরিয়া রোগটি হয়ে থাকে। এটা স্বাভাবিক যৌনতা, ওরাল সেক্স ও পায়ুকামের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগ হলে যৌনাঙ্গ থেকে সবুজ বা হলুদাভ পুঁজের মতো বের হতে পারে, প্র¯্রাবের সময় জ্বালাপোড়া এবং নারীদের ক্ষেত্রে ঋতু¯্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে প্রায় একজন ও তিন-চতুর্থাংশ নারীদের এবং সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ সহজে শনাক্ত করা যায় না। এ রোগ প্রতিরোধ করা না গেলে বন্ধ্যত্ব হয়ে যেতে পারে। আর গর্ভাবস্থায় এ রোগের সংক্রমণ হলে তা শিশুর শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ওরাল সেক্সের ব্যাপারে ইসলাম
আগেও বলা হয়েছে ওরাল সেক্স খুবই অপছন্দনীয় পর্যায়ের কাজ। যদিও কেউ কেউ এটিকে বৈধ বলে দাবি করেন। কিন্তু সাধারণ বিবেচনায় এ কাজটি বৈধতার কোনো যুক্তি নেই। যোনিপথ থেকে নির্গত নাপাক ধাতু মুখে নেওয়া কীভাবে বৈধ হতে পারে। এ নাপাকি কাপড় কিংবা শরীরের কোথাও লেগে গেলে ধোয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখের ভেতরে এ নাপাকি চলে যাওয়ার কারণেই গনোরিয়ার মতো জটিল রোগের সৃষ্টি বলে চিকিৎসকদের দাবি। আর ইসলাম এসব অকল্যাণকর কাজের প্রতি কখনোই উৎসাহ দিতে পারে না। স্বামী বা স্ত্রী পরস্পর যৌনাঙ্গে মুখ দেয়া নোংরামি এবং পশুত্বেরও নিদর্শন। এমনটি করা মাকরুহে তাহরীমী। [ফাতওয়ায়ে মাহমুদয়িা-২৯/১৪২}


ফেসবুক থেকে