আমাদের পূর্ব পূরুষরা দাড়ি ছাড়া হইলেন কিরূপে ?

আরিফুল ইসলাম


তারাগুনিয়ার জমিদার রামনারায়ন বাবু , পুড়ার কৃষ্ন দেব , নগড় পুড়ার গৌরদেব চৌধূরী , তাদের জমিদারী এলাকায় ৫টি নোটিশ জারি করলেন ।

(১) দাড়ির উপর আড়াই টাকা ফি (২) কাঁচা মসজিদ নির্মাণের উপর পাঁচশত টাকা ও পাকা মসজিদ নির্মাণের উপর এক সহস্র টাকা ফি (৩) আরবী নাম রাখলে পঞ্চাশ টাকা ফি (৪) গোহত্যা করলে দক্ষিণ হস্ত কাটিয়া দেয়া হইবে (৫) তিতুমীরকে নিজ বাড়ীতে স্থান দিলে ভিটা হতে উচ্ছেদ করা হবে ।” (গোলাম আহমদ মর্তুজার “ইতিহাসের ইতিহাস” বইয়ে এবং আব্দুল মওদুদের “ওহাবী আন্দেলন” , আব্দুল গফুর সিদ্দিকীর “শহীদ তিতুমীর”)

আওয়ামিলীগের শুরু হতে আওয়ামি রাজনীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত জনাব আবুল মনসুর আহমদের “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর” বইয়ের ১ম খন্ডের (৫ম সংস্করণ) ১৪ পৃষ্ঠা লিখেছেন , “আরেকটা ব্যাপার আমাকে খুবই পীড়া দিত । জমিদাররা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব প্রজার কাছ থনেই কালীপূজার মাথট (এক ধরনের কর) আদায় করিতেন । এটা খাজনার সাথে আদায় করা হইত । খাজনার মতই বাধ্যতামূলক ছিল ।

তিতুমীরের আন্দোলন হয় ১৮৩১ সালে । সেই সময় হিসাব করলে বাংলাপিডিয়ার তথ্য মতে এক টাকায় চাল পাওয়া যেত ২৫- ৩০ কেজি। তাহলে আড়াই টাকায় প্রায় ৬৫ কেজির মত। এতএব এই পরিমান কর দিয়ে দাড়ি রাখা প্রায় অসম্ভবই ছিল।

১৯০১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত চালের মূল্য মোটামুটি টাকায় ১০-১২ কেজিতে বিদ্যমান ছিল। (সুত্র বাংলাপিডিয়া)

এবার আপনিই বলুন, মুসলামান দাড়ি কিভাবে রাখে ? আড়াই টাকা মানে প্রায় প্রায় ৬৫ কেজির মত চালের সমমান। যা তৎকালীন একজন উচ্চ মধ্যবিত্তের জন্যও কষ্টকর ছিল। উপর বিলেতে গিয়ে ইংরেজী কালচার শিক্ষা, দাড়ি ছাড়লে বৃটিশ রাজের বা হিন্দু জমিদারদের চাকরী। তার উপর বাধ্যতামূলক হিন্দুদের পূজার জন্য কর দেওয়া।

মজার বিষয় হল আমাদের অসাম্প্রদায়িক খ্যাত জমিদার রবীন্দ্রনাথও পূজা বাবদ মুসলিম প্রজা থেকে কর আদায় করতেন। এবং তার করের পরিমান অন্য জমিদার থেকে প্রায় দ্বিগুন ছিল।


ফেসবুক থেকে


Notice: Undefined index: email in /home/insaf24cp/public_html/wp-content/plugins/simple-social-share/simple-social-share.php on line 74