শূরা বৈঠককে কেন্দ্র করে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানিয়েছে হাটহাজারী মাদ্রাসা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

গত ১৫ জুলাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মজলিসে শূরার বৈঠককে কেন্দ্র করে কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে মিথ্যা, কাল্পনিক ও অলীক সংবাদ পরিবেশনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

আজ (রবিবার) দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতী ও শিক্ষাপরিচালক আল্লামা মুফতী নূর আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক আমাদের সময় এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হেফাজত আমীর শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং তাঁর কনিষ্ঠপুত্র মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানীকে সংশ্লিষ্ট করে গত ১৫ ও ১৬ জুলাই যেসব সংবাদ পরিবেশন করেছে, সেটাকে নির্জলা মিথ্যাচার, বিদ্বেষপ্রসূত, কাল্পনিক ও উদ্ভট বললেও কম বলা হবে। সংশ্লিষ্ট পত্রিকাসমূহ হাটহাজারী মাদ্রাসার শূরা বৈঠককে কেন্দ্র করে যেসব রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তাতে সাংবাদিকতার ন্যূনতম নিয়ম ও রীতি-নীতির কোনটাই অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি বলেন, কারো সম্মান ও সুনামের সাথে জড়িত বিষয়ে রিপোর্ট করতে হলে জানা গেছে, শোনা গেছে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক, গোপনসূত্রে প্রকাশ, ধারণা করা যাচ্ছে বা অনুসন্ধানে জানা যায় ইত্যাদি কখনোই গ্রহণযোগ্য সূত্র হতে পারে না। কারো মর্যাদা ও সুনামহানির অধিকার বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন কাউকে দেয়নি, এটা ফৌজদারী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। মূলতঃ দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা রিপোর্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পত্রিকাসমূহ তাদের ইসলাম, ওলামা-মাশায়েখ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিদ্বেষী রূপটাই প্রকাশ করে দিয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশেই দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শূরা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নিয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে কোন বিরূপ আলোচনা তো নেই, বরং শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এর দূরদর্শীতা ও বিচক্ষণতায় সকলেই মুগ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া হাটহাজারী মাদ্রাসা ক্যাম্পাস সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সকলের জন্যই সবসময় উন্মুক্ত থাকে। যে কেউ যে কোন সময় এই মাদ্রাসা পরিদর্শন করতে পারেন এবং যে কারো সাথেই কথা বলার সুযোগ লাভ করেন। হাটহাজারী মাদ্রাসার শূরা বৈঠককে নিয়ে রিপোর্ট করতে হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের তো দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল, মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে এসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও শিক্ষক মহোদয়গণের সাথে কথা বলে এবং তাদের বক্তব্য নিয়ে রিপোর্ট তৈরী করা। অথচ তারা এইসব নিয়মের কোন তোয়াক্কাই করেননি। তাছাড়া পত্রিকা কর্তৃপক্ষও এ ধরণের রিপোর্ট প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট তৈরিতে যথাযথ শর্ত পুরণ করা হয়েছে কিনা, সেটা বিবেচনা করেনি।

বিবৃতিতে আল্লামা মুফতী নূর আহমদ বলেন, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং তাঁর কনিষ্ঠপুত্র মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানীকে নিয়ে কাল্পনিক, মিথ্যা, বিদ্বেষপ্রসূত ও মনগড়া মানহানিকর সংবাদ পরিবেশনার জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক ও রিপোর্টারকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আমরা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দিকটা বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবো।

অন্যদিকে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব ও প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী নূর আহমদ  বলেন, ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ ব্যক্তিগত পর্যায়ে কাউকে কাউকে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার আভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে পরামর্শ, অভিমতদান ও মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি এমন মন্তব্যকে উম্মুল মাদারেসখ্যাত দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটির আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপচেষ্টা বলে আখ্যায়িত করে সংশ্লিষ সকলকে এ ধরণের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাসমূহের প্রাণকেন্দ্র। এর সুনাম ও সুখ্যাতি বজায় রাখতে সকলকে সচেতন হতে হবে। কারো কোন পরামর্শ ও অভিমত থাকলে সেটা নিয়ে সরাসরি এসে আলাপ করার সুযোগ রয়েছে।