পুলিশ পরিচয়ে তুলে নেওয়া দুই শিবির নেতার লাশ উদ্ধার

13007092ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌরসভা শিবিরের সভাপতি আবুজর গিফারি (২২) ও কে সি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও শিবির নেতা শামীম (২০) কে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্বশান থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে যশোর কতোয়ালি থানার পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহত আবুজর গিফারীর চাচাতো ভাই পাননু মিয়া ও শামিমের ভাই তাজনিম হুসাইন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুইটি আবুজর ও শামিমের বলে সনাক্ত করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার চাপালী গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে যশোর এমএম কলেজের ছাত্র আবুজর গিফারিকে গত ১৮ মার্চ জুম্মার পড়ে বাড়ি ফেরার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজ সন্তানের উদ্ধারের দাবিতে আবুজরের বাবা সেলুনকর্মী নুর ইসলাম গত ২৪ মার্চ ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তার ছেলেকে নিয়ে গেছে। ২৫ দিন পর আজ বুধবার তার গুলিবিদ্ধ লাশ পায় যায়।

এদিকে ২৪ মার্চ বিকেলে একই উপজেলার বাকুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজের অনার্সের ছাত্র ও শিবির নেতা শামীম হোসেন (২০) কে একই ভাবে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯ দিন পর তার লাশও আবুজর গিফারির সঙ্গে পাওয়া যায়।

এ নিয়ে শিবির ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এবং বিবৃতির মাধ্যমে দুই নেতার সন্ধান দাবি করা হলেও বিষয়টি পুলিশ আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ করেছিল ছাত্রশিবির। গণমাধ্যমে পাঠানো ছাত্রশিবির ও নিহত দুইজনের পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক বিবৃতির মাধ্যমে দুই জনের জীবন নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। অবশেষে আজ বুধবার যশোরে তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে।

যশোর কতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন দুই যুবকের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, বুধবার সকালে যশোরের হৈবতপুর মৌজার বিরামপুর শ্বশান এলাকায় অজ্ঞাত দুই যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে। লাশ দুইটি উদ্ধারের পর যশোর মর্গে এসে নিহতদের স্বজনরা লাশ দুইটি আবুজর গিফারি ও শামিম হোসেনের বলে সনাক্ত করেন।

তিনি আরো জানান, নিহতরা শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে পুলিশ পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানান।

এদিকে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, আমি শুনেছি কালীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই যুবকের লাশ যশোরে পাওয়া গেছে। তিনি আরো জানান, আমার থানার কোনো পুলিশ এ ঘটনার সাথে কোন ভাবেই জড়িত ছিল না।