বনী ইসরাইলের নবী সুলাইমান আ. এর বানানো ‘মসজিদে আকসা’ মুসলমানদের কী করে হয়?

বনী ইসরাইলের নবী সুলাইমান আ. এর বানানো ‘মসজিদে আকসা’ মুসলমানদের কী করে হয়?

 

মাওলানা হাসান জামীল


"%</pপ্রশ্নটি কারো জন্যে আপত্তির, কারো জন্যে কৌতূহলের, কেউ বা প্রশ্ন করেন জানতে।
স্বঘোষিত কনভার্টেড ক্রিশ্চিয়ান আসলে ইসলাম বিদ্বেষী এক নাস্তিক এ প্রশ্ন তুলেছে আমার এক পোস্টের জবাবে।
প্রশ্নটির উত্তর হয়ত তারও জানা, কিন্তু সহজ সরল মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতেই তার এমন প্রশ্ন।

প্রশ্নটির উত্তর জানতে আসুন একটু ভিন্ন আলোচনায় যাই।
প্রথমে মুসলমানদের পরিচয় জানা দরকার; মুসলমান কারা। মুসলমান হচ্ছে সমস্ত ঈমানদারগণ; যারা রবে বিশ্বাসী হয়ে তাঁর সমস্ত হুকুম আহকাম মানবে, তাঁর পাঠানো নবীকে গ্রহণ করবে আদর্শ হিসেবে, তাঁর উপর অবতীর্ণ কিতাবকে গ্রহণ করবে জীবন বিধান হিসেবে। শুধু উম্মতে মোহাম্মদীই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলমান নন।
স্বয়ং নবী ইব্রাহীম আ. রবের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তাঁকে এবংতাঁর সন্তানদেরকে মুসলিম বানিয়ে দেন, (সূরা বাকারাহ, ১২৮)।
বনি ইসরাইল মানে ইসরাইলের সন্তান। ইসরাইল হযরত ইয়াকুব আ.-র নাম, হিব্রু ভাষা, অর্থ আল্লাহর বান্দা, তাঁর পরবর্তি বংশধররাই বনী ইসরাইল।
হযরত ইয়াকুব আ. যখন জীবন সায়াহ্নে, তখন এক প্রশ্নের জবাবে তাঁর সন্তানরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, (সূরা বাকারাহ, ১৩৩)।
ইয়াহুদী আর বনী ইসরাইল এক নয়, ইয়াহুদী বনী ইসরাইলের একটা অংশ, হযরত মূসা আ.-র উম্মত।
কুরআনপূর্ব সমস্ত কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে নির্দিষ্ট যুগ, অঞ্চল এবং জাতির জন্য, ফলে সেইসব উম্মতরা পরিচিত হয়েছেন নিজ জাতীয়তা দিয়েই, মুসলিম হিসেবে নয়।
যেমন হযরত ঈসা আ. বলেছেন: আমাকে কেবল ইসরাইল বংশের হারান মেষদের নিকটই পাঠানো হয়েছে (মথি, ১৫:২৫)
তিনি তাঁর ১২ জন শিষ্যকে ধর্ম প্রচারের কাজে পাঠানোর সময় আদেশ দিয়েছিলেন যে, “তোমরা অ-ইয়াহুদিদের নিকট বা শমরীয়দের কোন গ্রামে যেও না, বরং ইসরাইল জাতির হারান মেষদের নিকট যেও” (মথি, ১০:৬)।

কিন্তু কুরআনকে আল্লাহ কোন নির্দিষ্ট জাতি, অঞ্চল বা কালের জন্যে পাঠাননি, কুরআন সার্বজনীন, সর্বকালীন।
কুরআনের নবীকে আল্লাহ সমস্ত জগতবাসীর জন্য রাসূল ও রহমত বলেছেন (সূরা আরাফ-১৫৮, সূরা আম্বিয়া-১০৭)
তাওহীদের বিশ্বাসই হচ্ছে ইসলাম, যার অনুসারী সবযুগের নবী এবং তাঁর অনুসারীগণ, তবে তারা মুসলমান হিসেবে পরিচিতি পান নি, যৌক্তিক কারণে বিভিন্ন নামে তারা পরিচিত হয়েছেন।

কোন যুগের নবীকে অস্বীকার বা অমান্য করে কেউ মুসলমান থাকতে পারে না। কাজেই প্রত্যেক নবী এবং তার অনুসারীগণই মুসলমান। নতুন নবী আসার পর তাঁকে অমান্য করলে তার গোষ্ঠীগত নাম ঠিক থাকলেও তাকে মুসলমান বলা যাবে না।
যেমন হযরত ঈসা আ.-এর আগমনের পর ইয়াহুদীরা আর বৈধ ধার্মিক থাকেনি, গোষ্ঠীগত নামটি থেকে গেলেও শরীয়ত অমান্যকারী বেঈমান হিসেবেই তারা আল্লাহর কাছে স্বীকৃত।

ঠিক নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের পর পৃথিবীর আর কোন ধর্মই বৈধ থাকেনি, কারণ তিনি গোটা জাহানের নবী। তাঁর উম্মতরাই বর্তমান মুসলমান।

এবার আসুন প্রশ্নের বিষয়ে, বাইতুল মোকাদ্দাস কার তৈরি, এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার বৈধ মালিকানা কাদের?
বাইতুল মোকাদ্দাস নবী সুলাইমান আ. বানিয়েছেন, এবং কেয়ামত পর্যন্ত তার বৈধ মালিকানা থাকবে বৈধ ধার্মিকদের হাতে।
কেয়ামত পর্যন্ত এর বৈধ মালিকানা উম্মতে মোহাম্মদির, কারণ শেষ নবীর উম্মতরাই সর্বশেষ উম্মত।
মুসলমানরা দখলদার নয়, এটা ধর্মীয় উত্তরাধিকার।

আজকে শেষ নবী যদি মূসা আ. হতেন, তবে অবশ্যই এর বৈধ মালিকানা ইয়াহুদীদেরই থাকতো।
শেষ নবীর উম্মতরা নবী ইব্রাহীম আ.কর্তৃক রেখে দেওয়া নাম ‘মুসলমান’ পরিচয়ে বেঁচে থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত (সূরা হজ্ব, ৭৮)।
আর কোন জাতি নিজেদের মুসলমান দাবী করার সুযোগ নেই।
কারণ কেয়ামতের আগে আর কোন নবী আসবেন না।

সুতরাং কেয়ামত পর্যন্ত সমস্ত ধর্মীয়স্থাপনার উত্তরাধিকার সূত্রে বৈধ মালিক একমাত্র মুসলামান।
বাইতুল মোকাদ্দাস আমাদের, আমরা দখলদার নই। ইয়াহুদী, ঈসাইসহ পৃথিবীর সব ধর্মের মানুষরা মুসলমান তথা প্রকৃত ধার্মিক হয়ে এর দখল বুঝে নিক আমাদের কোন আপত্তি নেই।


ফেসবুক থেকে