হাটহাজারী মাদরাসা পরিদর্শন করলেন আল-আজহার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক

বিশ্বের সর্বপ্রাচীন ও খ্যাতিমান মিসরের আল-আজহার ইসলামী ইউনিভার্সিটির আইন ও শরিয়াহ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইয়ালা আহমদ সিদ্দীক আব্দুল মুনইম আজ (২৬ জুলাই) বুধবার সকাল ১০টায় জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী পরিদর্শনে আসেন । এ সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান জামিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নূরুল ইসলাম ও মাওলানা আনওয়ার শাহ আল-আযহারী।
তিনি জামিয়ার দারুল হাদীস মিলনায়তনসহ বিভিন্ন বিভাগ, ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেন।

এ সময় তিনি জামিয়ার বহুমুখী শিক্ষাকার্যক্রম ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। পরিদর্শন শেষে ড. আব্দুল মুনইম জামিয়ার মেহমানখানায় বিশ্রাম নেন।

আল-আজহার ইউনিভার্সিটির সম্মানিত অতিথির জন্য দুপুরে জামিয়ার পক্ষ থেকে বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করা হয়।এরপর তিনি জামিয়ার প্রধান জামে মসজিদ বায়তুল কারীমে যোহরের নামায আদায় করেন।

নামায শেষে জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর সহযোগী পরিচালক ও শায়খুল হাদীস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী উপস্থিত হাজার হাজার ছাত্র ও মুসল্লীদের সাথে ড. আব্দুল মুনইমকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং আরবী ভাষায় তাঁর সম্মানে আল্লামা বাবুনগরী কিছু বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামিয়ার শিক্ষা পরিচালক ও প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী নূর আহমদ, জামিয়ার শিক্ষক মাওলানা জহিরুল হক, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আনওয়ার শাহ আযহারী এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ, মাওলানা এনামুল হক।
এ সময় পবিত্র কুরআন থেকে সুললিত কণ্ঠে তিনি কিছু আয়াত তিলাওয়াত করে শোনান।

এরপর আল্লামা জুনাইদ বাবুনরগরীর পক্ষ থেকে ড. আব্দুল মুনইমের শানে আরবী ভাষায় লিখিত বিশেষ মানপত্র পাঠ করে শোনান মাওলানা আনওয়ার শাহ আল-আযহারী। এ সময় জামে আল-আযহারের সম্মানিত অধ্যাপক ড. আব্দুল মুনইম আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারপর মিসরীয় অধ্যাপক জামিয়ার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে উপদেশমূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, জামিয়া দারুল উলূম হাটহাজারীকে আমি অনেক আগে থেকেই জানি। তবে এইবারই প্রথম দেখলাম। বাংলাদেশে যে এত বিশাল পরিসরে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র রয়েছে, এটা না দেখলে বুূঝতে পারতাম না। এখানকার শিক্ষক ও ছাত্রদের সুন্নাতী লেবাস ও চালচলন আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি দারুল উলূম হাটহাজারীর সার্বিক উন্নতি কামনা করে দোয়া করেন।

বক্তব্যে তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সুন্নাতের উপর চলবেন। শিরক, বিদআত পরিত্যাগ করবেন। কেউ কেউ ইসলামের অপব্যাখ্যা করে মুসলমানদের জামাতে বিদআতি কর্মকান্ড চালু করার হীন চেষ্টা করছে। এসব বিদআত পরিত্যাগের বিষয়ে আপনাদেরকে কাজ করতে হবে। তিনি এ পর্যায়ে তাক্বলীদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করে বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, ইমামদের মধ্যে চার ইমামই গুরুত্বপূর্ণ। এদের যে কাউকে অনুসরণ করতে হবে। এই চার ইমামের মধ্যে হযরত ইমাম আবু হানীফা (রাহ.) ছিলেন সবচেয়ে মর্যাদাবান ইমাম। তিনি ইলমে ফিক্বাহর উপর ব্যাপক গবেষণা করে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণনা করেছেন। আমনারা সবচেয়ে ভাগ্যবান যে, আপনারা এই মর্যাদাবান ইমাম আবু হানীফার অনুসারী। তিনি বলেন, গায়রে মুকাল্লিদ, তারা শরীয়তে নানা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। নিজেদের খেয়াল-খুশীমতো হাদীস বর্ণনা করছে ও সুবিধামত হাদীসের উপর আমল করছে।

তিনি বলেন, এসব গায়রে মুকাল্লিদরা মুসলিম জনসমাজের জন্য আরো নানা সমস্যা ও উপদ্রব তৈরি করছে।
আরবী ভাষায় ড. আব্দুল মুনইমের দীর্ঘ বক্তব্য শেষে জামিয়ার শিক্ষাপরিচালক ও প্রধান মুফতী আল্লামা মুফতী নূর আহমদ মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় জামিয়া সুবিশাল বায়তুল করীম জামে মসজিদের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ছাত্র ও মুসল্লীরা মুগ্ধ হয়ে বয়ান শুনেন ও মুনাজাতে শরীক হন।
এরপর আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনাইদ বাবুনগরী ড. আব্দুল মুনইমকে জামিয়ার শিক্ষকবৃন্দের সাথে পরিচয় করে দেন।