‘এ্যাই লাশ কয়টা পড়ছে? – লাশ যত পড়ে ততো ভাল’

বিএনপি সময়-অসময়১৫ ফেব্রুয়ারি (১৯৮৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছিল উত্তপ্ত। ওই দিনের ঘটনার বয়ান পাওয়া যায় বাকশালের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইউসুফের কছে থেকে- ‘‘ আজিমপুরে জাসদের মনিরুল ইসলামের (মার্শাল মনি) বাসা আমাদের টেম্পোরারি কন্ট্রোল রুম। গ্যাদারিং যদি কম হয়, তাহলে ইউনিভার্সিটি এলাকায় মিছিল শেষ হবে। আর যদি কয়েক হাজার লোকের গ্যাদারিং হয়, তাহলে মিছিল নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা হবে। দেখা গেল ব্যাপক গ্যাদারিং হয়ে গেছে। আমার সঙ্গে হাসানুল হক ইনু। খবর পাঠালাম ব্যারিকেট- ট্যারিকেট উড়িয়ে দাও। শুনতে খারাপ লাগে। কিন্তু পলিটিক্সে এসব জায়েজ। মিছিল সাংঘাতিক জঙ্গি হয়ে গেল। নেতারা মিছিলের সামনে থেকে মাঝামাঝি চলে এলো। পুলিশ গুলি করল।এর মাঝে টেলিফোন আসতেছে ওখানকার পরিস্থিতি জানিয়ে। ইনু বলতেছে,‘এ্যাই লাশ কয়টা পড়ছে? তাড়াতাড়ি এগুলি ছিনাইয়া নেওয়ার চেষ্টা কর, মেডিকেলে নিয়ে যাও।লাশ যত পড়ে ততো ভাল।’ আমরা চাচ্ছি যে, গুলি-টুলি হলে দু’চারজন উন্ডেড হোক। একেবারে নিহত হয়ে পড়ে যাবে এটা তো চিন্তা করি নাই। জিজ্ঞেস করলাম কে ফোন করছে। বলল, হাসিব (আবুল হাসিব খান) ফোন করছে ওখানকার পরিস্থিতি জানানোর জন্য। হাসিব তো তখন জঙ্গি নেতা। তারা যা করতেছে, ঠিক আছে, নেতার নির্দেশেই করেছে। নিহতের ঘটনা, একটু বিচলিত ভাব থাকে না? ইনুকে দেখলাম একেবারে নরমাল।’’

মহিউদ্দিন আহমেদ/ বিএনপি: সময়-অসময় /পৃ. ১৯২/ প্রথমা প্রকাশন/ ২০১৬