পহেলা বৈশাখ: ইসলাম ও সমাজ

পহেলা বৈশাখ: ইসলাম ও সমাজ

রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জীবনে বৈশাখ আসে নব আনন্দের দ্যোতনা নিয়ে। আর বৈশাখ এলেই আমরা পিওর বাঙাল হয়ে উঠি। পান্তা ইলিশ খেতে উঠে-পড়ে লাগি। পহেলা বৈশাখে পান্তা ইলিশ নিয়ে আমাদের আদিখ্যেতার শেষ নেই। যে কোন মুল্যে পান্তা- ইলিশ খাওয়া চাই। বাজারে এখন ইলিশের দাম আকাশচুম্বী, তবুও গরীবদের সাথে উপহাস করত: চাই চড়া দামের ইলিশ!

দুঃখের কথা, যারা সারা বছর এমনিতেই পান্তা খেয়ে দিন কাটায়, তাদের ভাগ্যে এদিনও ইলিশ জোটে না। ইলিশ খেতে যে পরিমাণ অর্থ-বিত্তের প্রয়োজন সেটা তাদের কোনকালেই ছিল না!

মাছে ভাতে বাঙালি আমরা! আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি কত চমৎকার!

বৈশাখকেন্দ্রিক এই সব উৎসব-আয়োজনগুলো (রেওয়াজ) ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ তথা হারাম।এতে অংশ গ্রহণ করাকেও অনৈসলামিক কাজে অংশ গ্রহণ করার সমান বলেই বিবেচ্য হবে।

এই সব উৎসব-আয়োজনগুলো বিভিন্ন কারণে হারাম। নিম্নে কয়েকটি উলে¬খ করা হলো।

প্রথম হলো: পান্তা-ইলিশ ও বৈশাখি ড্রেস, শাড়ি-কাপড়। পহেলা বৈশাখের সকালে পান্তা খাওয়ার প্রথা এবং শাদা শাড়ী ইত্যাদি হল পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রধান উপাদান। আর এগুলো ইসলামে হারাম। এ সর্ম্পকে রাসুলুল্লাহ সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ধর্মের মানুষের (ধর্মীয় আচারের) অনুকরণ বা সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে’। (-সুনানে আবু দাউদ)

দ্বিতীয় হলো: পর্দা। এতে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় ইসলামের পর্দার বিধান। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বিচরণ ও নারীকে জড়িয়ে নানা রকম অশ¬ীলতা সৃষ্টি হয় অথচ ইসলামে পর্দা করা ফরজ, যা কুরআনে বিভিন্ন আয়াতে আল¬াহ ইরশাদ করেছেন। আল¬াহ পাক ইরশাদ করেন,‘হে নবী! আপন বিবি, কন্যা এবং মু’মিন নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের শরীর ও মুখমন্ডল চাঁদর দ্বারা আবৃত করে রাখে।” (সূরা-আহযাব, আয়াত-৫৯)

আল¬াহ পাক ইরশাদ করেছেন-“তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বল না, কেননা এর ফলে সে ব্যক্তি কুবাসনা করে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। বরং তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।” (সূরা-আহযাব, আয়াত-৩২)

ত্বিতীয় হলো: গান-বাজনা। অনুষ্ঠানগুলোতে উন্মুক্তভাবে গান-বাজনার ছড়াছড়ি। অথচ আল¬াহপাক গান-বাজনাকে হারাম করেছেন। এ সর্ম্পকে হযরত আবদুল¬াহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণিত, রাসুলুল¬াহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘পানি যেমন (ভূমিতে) তৃণলতা উৎপন্ন করে তেমনি গান মানুষের অন্তরে নিফাক সৃষ্টি করে’। (-তাফসীরে কুরতুবী ১৪/৫২)

চতুর্থ হলো: অপচয়। নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রচুর টাকা অযথা অপচয় করা হচ্ছে। অধিকাংশই ইসলামের দৃষ্টিতে অপচয় হিসেবে গণ্য। আর পবিত্র কোরানে সুস্পষ্টভাবে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে। কেবল নববর্ষকেন্দ্রিক উৎসব-আয়োজনের ক্ষেত্রে নয় একজন মুসলমানের উচিত জীবনের সব ক্ষেত্রে অপচয় থেকে বিরত থাকা। অপচয়ের মতো অপব্যয়কে নিষিদ্ধ করে আল্লাহপাক কুরআন কারীমে ইরশাদ করেছেন,- ‘আর কিছুতেই অপব্যয় করবে না। যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই এবং শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ”। (বনি ইসরাইল : আয়াত : ২৬-২৭)

অল্লহপাক ইরশাদ করেন, তোমরা আহার করবে ও পান করবে। কিন্তু অপচয় করবে না। তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা আল আরাফ : আয়াত : ৩১)।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এই সব আয়োজন পুরোপুরিভাবেই নিষিদ্ধ। ইসলাম বিভিন্ন উৎসব-অয়োজন ও আচার-অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদান করেছে এবং বাতলে দিয়েছে নানাবিধ নীতিমালা। সেজন্য তাদের (অমুসলিমদের) উৎসব-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া, আর তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ইসলাম বিরোধী কাজ।

অমুসলিমদের কৃষ্টি-কালচার, ইসলাম বিরোধী পথ ও পদ্ধতি অনুযায়ী আয়োজিত উৎসব-অনুষ্ঠানের সাথে একমত পোষণ করার মানে হলো কুফরের সাথে একমত পোষণ করা। অথচ আমাদের দায়িত্ব ছিল এই দিনে অনুশোচনা ও আত্মসমালোচনা করে আগামী বছরের কল্যাণ কামনা করে সিজদাবনতে হয়ে থাকা। তাওবাহ, ইস্তেগফার, দোয়া-দুরুদ, নফল নামাজসহ ইত্যাদি ভাল কাজে পুরো দিনকে কাটানো। গত এক বছরে ক’টি ভাল কাজ ও কতগুলো গুনাহের কাজ করেছি এবিষয়ে নিজের ভুলত্রুটির জন্য আত্মসমালোচনা করা। কিন্তু অনুশোচনা পরিবর্তে আমরা অশ¬ীলতা ও গোনাহর কাজে জড়িয়ে যাচ্ছি। কাজেই এ রকম অনুষ্ঠান বর্জনীয়।

লেখক:
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও আলেম