ফিরে দেখা ৭১, ভারতের বাংলাদেশ লুট

পিনাকী ভট্টাচার্য


মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ভারতীয় বাহিনী সদ্য স্বাধীন দেশে সর্বব্যাপী এবং নজিরবিহীন লুটপাট চালায়। এই লুটপাট বিদেশীদেরকেও বিহ্বল করে। ১৯৭২ এর ২১ শে জানুয়ারী গার্ডিয়ানে মার্টিন উলাকোট রিপোর্ট করেন মিল ফ্যাক্টরির মেশিনাদি যন্ত্রাংশ পর্যন্ত লুটপাট করে ভারতীয় সেনারা। পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও খাদ্যশস্য, পাট, সুতা, যানবাহন, এমনকি সমুদ্রগামী জাহাজ, কারখানার মেশিনপত্র, যন্ত্রাংশ পর্যন্ত লুট করে। এই লুটের সম্পদের পরিমাণ ছিলো সবমিলিয়ে সেইসময়ের হিসাবে ২.২ বিলিয়ন ডলার।

১৯৭৭ সালের জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের আইডি এস বুলেটিনের (ভলিউম ৯, ১ নং) এর ১২ পৃষ্ঠায় প্রদত্ত রেফারেন্স থেকে জানা যায় ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের পর ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের অন্তত চারটি ডিভিশনের অস্ত্রশস্ত্র, ভারী কামান, গোলাবারুদ, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভারতে নিয়ে যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিবাদ করলে টোকেন হিসেবে অল্প কিছু পুরোনো অস্ত্র ফেরত দেয়া হয়।

এই ভারতীয় বাহিনী এতই নির্লজ্জ ছিলো যে এতো কিছু নিয়ে যাবার পরেও ব্রিগেডিয়ার র‍্যাঙ্কের অফিসার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফ্রিজ, আসবাবপত্র, ক্রোকারিজ ট্রাকে ভর্তি করে ভারতে পাচার করে। একজনকে ভারতীয় বাহিনী এই লুটের অপরাধে কোর্ট মার্শালও করে তাঁর নাম ব্রিগেডিয়ার মিশ্র। অস্ত্র, খাদ্য, যানবাহন, জাহাজ, কারখানার মেশিন লুটে অবশ্য পেশাদার ভারতীয় বাহিনীর আত্মশ্লাঘায় লাগেনা। কিন্তু ক্রোকারিজ লুট করে নিয়ে যাওয়ায় দাদাদের একেবারে প্রেস্টিজ পাংচার হয়ে গেছে।


ফেসবুক থেকে