শ্রীলংকা, নেপাল, ভারতীয় পোদ্দার মুক্ত, বাংলাদেশ নয় কেন ?

ওয়াহিদুজ্জামান


“আগামী নির্বাচন কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণতন্ত্র মানে অংশগ্রহণ। আমি নিশ্চিত আগামী সাধারণ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। যদি কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় থাকতে চায় তাকে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। কেউ অংশ না নিলে সে নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় থাকবে না।”
কার কাছে, কি প্রশ্ন, কোন ভাষায় করা উচিত, সেই বোধ যদি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের থাকতো, তাহলে দেশের পরিস্থিতি অন্য রকম হতো।
ভারতীয়রা যখন বাংলাদেশের গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে, সেই সময় তাদের সুবিধাভোগী এজেন্টরা অবান্তর প্রশ্ন করে ভারতীয়দেরকে দেশের মানুষের সামনে দৃশ্যমান করে রাখার অপচেষ্টায় নিয়োজিত।
খেয়াল করে দেখুন তো, এদের দেশে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে কখনো তাদের দেশের সাংবাদিকরা এই ধরণের প্রশ্ন করেছে কিনা, প্রশ্নের উত্তরে এমন পোদ্দারি মার্কা জবাব দেয়া তো অনেক দূরের কথা।
বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হবে, সেই প্রশ্ন করার কথা নির্বাচন কমিশনকে। একটা বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে কেন এই প্রশ্ন করতে হবে?
সিনহা-হাসিনা রশি টানাটানিতে শ্রিংলা বাবুদের আশির্বাদে ক্ষমতায় যাবার খোয়াব দেখা ড্রয়িং রুম রাজনীতি বিশেষ-অজ্ঞদের জন্যও এখানে মেসেজ আছে- শ্রিংলাবাবু খুব স্পষ্ট করে বলেছেন,
১/ তাদের তাবেদারীর জন্য সৃষ্ট ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি’তে টিকে থাকতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেই হবে;
২/ সেই নির্বাচনে লেভেল প্লেইং না থাকলেও কিংবা মামলা-হামলা দিয়ে গুরুত্বপূর্ন নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা করা হলেও সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেই হবে। তা নাহলে তাদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়া হবে।
শ্রীলংকা-নেপালের মত দেশও যখন তাদের দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে ভারতের পোদ্দারী থেকে মুক্ত হয়ে গেছে, তখন বাংলাদেশে এই সুবিধাভোগি শ্রেনীর কুচকাওয়াজ দেখে খুব অবাক লাগে।


ফেসবুক থেকে