শফিক রেহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ

শফিক রেহমানশফিক রেহমানকে আটকের খবর স্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের একটি মামলায় এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সকাল ৮টার দিকে তাকে বাসা থেকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ডিএমপির জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মারুফ হোসেন সরদার বলেন, গত বছরের আগস্টে পল্টন থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

সাংবাদিক শফিক রেহমানের স্ত্রী তালেয়া রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন ব্যক্তি তাদের ইস্কাটনের বাসায় যান। পরে শফিক রেহমান বেরিয়ে এলে তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলেন।

উল্লেখ্য, শফিক রেহমান একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, বাংলাদেশে ভালবাসা দিবসের প্রচলক এবং একজন টিভি উপস্থাপক।

সাপ্তাহিক যায়যায়দিন-এ এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি খ্যাতি লাভ করেন। জীবনের অনেকটা সময় তিনি লন্ডনে কাটিয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি ডেমোক্রেসি ওয়াচ নামক একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ লাল গোলাপ নামক একটি টক শো উপস্থাপনা করতেন পরবর্তীতে যা বাংলাভিশনে প্রচার শুরু হয়। তাঁর স্ত্রী তালেয়া রেহমান। শফিক রেহমান তরুণ সমাজের মধ্যে বিশ্ব চলচ্চিত্র সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধানমন্ডির ঝিগাতলায় গড়ে তোলেন একাডেমী ফিল্ম সোসাইটি। তিনি নিজেই এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।

তিনি তাঁর অ্যাকাডেমী ফিল্ম সোসাইটি ধানমন্ডি থেকে স্থানান্তর করে তেজগাও-এর লাভ রোডে যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স নিয়েছেন। বর্তমানে এটি তাঁর বাসভবনে অবস্থিত।

শফিক রেহমানের জন্ম ১১ নভেম্বর ১৯৩৪। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক নয়াদিগন্ত-তে কলাম লেখেন এবং ‘মৌচাকে ঢিল’ নামক পত্রিকা সম্পাদনা করেন। তিনি বিএনপিপনথী থিংক ট্যাঙ্ক গ্রুপ ২০০৯ বা জি-নাইন এর সাথে যুক্ত।

আশির দশকে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য প্রায় ছয় বছর লন্ডনে নির্বাসিত ছিলেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং যায়যায়দিন পুনঃপ্রকাশ করেন।

কিন্তু সেনাসমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে লেখালেখির জন্য ২০০৮ সালে তিনি যায়যায়দিন-এর সম্পাদক পদটি হারান। এখন মৌচাকে ঢিল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা করছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে লাল গোলাপসহ বহু অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেছেন।