বাংলা সাহিত্যে কওমীদের পথ চলা : নবযাত্রা ও নতুন মিথস্ক্রিয়া

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

 আরিফুল ইসলাম


বাংলা সাহিত্য আসরে ইতিপূর্বে যে কোন আলিম একেবারেই ছিল না তা নয়। কিন্তু এক ঝাক কওমী তরুনের আভির্ভাব এই সময়েই প্রথম ঘটছে। নতুন এই মিথস্ক্রিয়ার চতুমূর্খী ফল বিদ্যমান। ইদানিং কোন একজন তথাকথিত মুফতী মুরতাদ হয়ে গেছেন। ছাত্র জামানা থেকেই যিনি হুমায়ন আজাদ এবং তসলিমার মত কুরূচিসম্পন্ন লেখকের ভক্ত। যাই হোক এই মিথস্ক্রিয়ার সময়টাতে আরো অনেক তরুনের সম্ভবনা রয়েছে পদস্খলনের তাই আমার আজকের এই লেখাটা প্রবীন এবং নবীন সকল আলিমদের জন্যই বিশেষভাবে লিখলাম।

১. হিদায়াত ও গোমরাহীর যুদ্ধ : ময়দান বাংলা সাহিত্য

আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা গোমরাহী। এই হিদায়াত আর গোমরাহ হওয়াটা মনের উপর। এখানে একজন সাধারন মানুষ এবং একজন মুফতীর কোন পার্থক্য হয় না। যদি হয় তবে প্রশ্ন আসে আল্লাহ নয় বরং ইলমই মানুষকে হিদায়াত দান করে। অথচ শয়তান ইলমধারী ছিল, ইলম বিহীন নয়। এবং কুরআন এমন এক গ্রন্থ যেখানে আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন যে কুরআন অনেক মানুষকে হিদায়াত দান করে আর অনেকের গোমরাহী বৃদ্ধি করে। আর গোমরাহ ব্যতীত কারো গোমরাহী বৃদ্ধি হয় না।

২.পূর্বাপর

বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুসলমানদের স্বর্নযুগে। এই বায়তুল হিকমার দ্বারাই সহজ সরল ইসলাম জটিল গ্রীক এবং ভারতীয় দর্শনের সম্মুখীন হয়। কিন্তু ইসলাম তার সহজতার ভিতরেই জটিল গ্রীক এবং ভারতীয় দর্শনের জটিল সব প্রশ্নের উত্তর রেখে দিয়েছিল । প্রয়োজন ছিল এমন কিছু মনিষীর যারা সেইসব মনিমুক্তা আহোরন করবে কুরআন হাদীস থেকে, এবং মানুষের কাছে পৌছাবে।
এই মিথস্ক্রিয়ার সময় বহু ইসলামী পন্ডিত ধোকার সম্মুখীন হয় এবং বাতিল সব ফিরকার জন্ম দেয়। অবশেষে ইমাম গাজ্জালী সহ আরো কিচু অসাধারন ইসলামী স্কলার এসব বাতিল মতবাদের শক্ত জবাব দেন। ফলে ঐ সব বাতিল ফিরকাগুলো মিটে যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে জয়যুক্ত হয় ইসলাম।

৩. পরাজয় এবং নতুন প্রস্তুতি

ইসলামকে কোন ধর্ম দিয়ে যখন পরাস্ত করা সম্ভব হল না, তখন বিভিন্ন মানব রচিত মতবাদ দিয়ে নিত্য নতুন হামলা করা হচ্ছে ইসলামকে। এই মতবাদের সর্বশেষ কিছু বিষয় হল বিজ্ঞান, আধুনিকতা এবং মানবতাবাদ। প্রতিটিই নেক সুরতে ধোকা। প্রতিদিন কেউ না কেউ যখন ঘায়েল হচ্ছে এই তিনটি বিষয়ে তখন পূর্বের ইতিহাসের মত এখনও কিছু লোক ঘায়েল হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। তাই প্রয়োজন সমন্বিত প্রয়াস। এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করা একজন রাহবারের জন্য।

৪. বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ, নতুন মিথসক্রিয়া কওমীদের

দীর্ঘ সময় কওমী ঘরনা বাংলা সাহিত্য থেকে দূরে ছিল। কিন্তু ইদানিং দূর্দান্ত গতিতে বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করছে কওমীরা। আর এই প্রবেশের সময় যেসব বিপদ আপদের সম্ভবনা ছিল তারই একটা ফল হল আলোচিত নতুন মুফতী সাহেব। বৃটিশরা ইংরেজী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের কালচার, ইসলাম বিরোধী মনোভাব তৈরি চেষ্টা করেছিল। আর আলিমগনের অনেকেই ইংরেজী শিক্ষা গ্রহন না করে এই ঝড় রূখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই ঝড় আটকানো সম্ভব হয়নি পুরোপুরি। তবে আলিম সমাজ নিরাপদ ছিলেন এবং তারা দ্বীন ইসলামের শিক্ষা মানুষকে একটা নিরাপদ অবস্থানে থেকে দিয়েছেন। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী মাতৃভাষা বাংলাকে তো আর ইংরেজীর মত দূরে রেখে চলা সম্ভব হয় না। আর তাই সময়ের প্রয়োজনে এক ঝাক আলিম প্রবেশ করেছেন বাংলা সাহিত্যের ময়দানে। কিন্তু দীর্ঘ দুশো বছর যে সাহিত্যের নেতৃত্ব দিয়েছে হিন্দু সহ সেক্যুলার শিক্ষার লোকেরা , সেই সাহিত্য অর্জনে ধূলাবালি কিছু সফেদ পোশাকে লাগাটা অসম্ভব নয়। বিশেষ করে মানবতাবাদ নামক মতবাদের খপ্পরে পড়ার সম্ভবনা প্রবল।

৫. কি করণীয়?

কওমী তরুনদের বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ এখন জরূরী বিষয়। এবং প্রবেশও করছেন তারা । কিন্তু সঠিক রাহবারের অভাব রয়েছে। তাই একজন কওমী মুফতির হোচট খাওয়া যেন আমাদের করনীয় সম্পর্কে শিক্ষা দেয়। আধুনিক সাহিত্যের কোথায় কোথায় হোচট খাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, কোন কোন বিষয়গুলো কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং হাদীসকে প্রশ্ন বিদ্ধ করবে তার সম্পর্কে সঠিক ধারনা এবং এর উত্তর নবীনদের জানিয়ে দিবেন প্রবীনরা। এমনকি নবীনদের মধ্যে যাদের আল্লাহ প্রকৃত ইলম দান করেছেন তারা এগিয়ে আসবেন । এটাই সময়ের দাবি। কেন বাংলা সাহিত্যের ময়দানে তরুনরা পা দিচ্ছে সেটা সম্পর্কেও তাদের ধারনা তৈরি করতে হবে। সাহিত্য স্রেফ মজা নয় বরং এটাও এক ধরনের যুদ্ধের হাতিয়ার। আর সেই যুদ্ধের নাম হল মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। আসুন এই যুদ্ধ সম্পর্কে এই ময়দানের তরুনদের সতর্ক করি। তাদের ময়দানে নামার পূর্বে ধারনা দেই কোন কোন দিক থেকে শত্রু তাকে আক্রমন করবে। যদি এই ধারনা আপনি তাকে না দেন , তবে ময়দানে গিয়ে শত্রুর তরবারী দ্বারা সে আক্রন্ত হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

আবদুস সাত্তার আইনী’র টাইমলাইন থেকে
আবদুল্লাহ আল মাসউদ ভাই সম্পর্কে আমি যা জানি :

“বাইতুস সালামে তিনি আমার দুই বছরের সিনিয়র ছিলেন। আমি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার তিনি চতুর্থ বর্ষে পড়েন। হাজারীবাগ মাদরাসা থেকে এসে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। বাইতুস সালামের সেরা ছাত্র আবু ইউসুফ ভাইকে টপকে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন। আবু ইউসুফ ভাই প্রথম বর্ষে পড়ার সময় (১৯৯৭) আবুল হাসান আলী নদভীকে (রহ.) চিঠি লিখে তার জবাব পেয়েছিলেন। তার হাতের লেখা ছিলো সুন্দর, আচারও ভালো ছিলো। আবু তাহের মেসবাহ হুজুরের সোহবতে তিনি উচ্চমার্গ লাভ করেছিলেন। শুনেছি বর্তমানে তিনি অধঃপতিত অবস্থায় সস্ত্রীক টঙ্গীতে বসবাস করেন।

আবু ইউসুফ ভাইকে টপকে মাসউদ ভাইয়ের প্রথম হওয়া ছিলো বিস্ময়কর ব্যাপার। পঞ্চম বর্ষে মাসউদ ভাই দেয়ালিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। আমি একটি লেখা জমা দিয়েছিলাম। তিনি ‘তোমার এ দীর্ঘ লেখা দেয়ালিকার উপযুক্ত নয়’ বলে আমার লেখাটি বাতিল করে দিয়েছিলেন।

অবশ্য মাসউদ ভাইয়ের হাতের লেখা খারাপ ছিলো।
সেই সময় তিনি হুমায়ুন আজাদের বই পড়তেন বলে তিরস্কৃত হয়েছিলেন।
বর্তমানে তার চিন্তায় কী বিকার ঘটেছে জানি না; প্রার্থনা করি, সকল জিজ্ঞাসার জবাবে তার চিত্ত প্রশান্ত হোক।”

আল্লাহ আমাদের সকলকে হিফাজত করুন।

ربنا لا تزغ قلوبنا بعد اذ هدیتنا وهب لنا من لدنك رحمۃ. انك انت الوهاب. امین


ফেসবুক থেকে