বাংলাদেশের রোহিঙ্গানীতি: গণমানুষের চেতনা ও প্রত্যাশিত কৌশল

বাংলাদেশের রোহিঙ্গানীতি: গণমানুষের চেতনা ও প্রত্যাশিত কৌশল

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

ভাষা,সংস্কৃতি, ধর্ম ও ইতিহাস এসব কিছুই রোহিঙ্গা জনগণকে বাংলাদেশের সাথে এক চমৎকার প্রকৃতিগত মেলবন্ধনে আবদ্ধ করেছে। মানবীয় ভ্রাতৃত্বের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে প্রতিবেশী এ জনগোষ্ঠীকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভারসাম্য সৃষ্টি করবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করবে।

মায়ানমারের নিপীড়ক বর্ণবাদী সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভারত আঞ্চলিক রাজনীতির সৌহার্দ্য ও সহিষ্ণুতার বিপরীত বিদ্বেষ ও উস্কানীর এক কদর্য নজীর স্থাপণ করল।

আর তারই ধারাবাহিকতায় মুসলিমবিদ্বেষী এ দেশীয় নাস্তিক চক্র রোহিঙ্গাদের ন্যায়সঙ্গত প্রতিরোধ সংগ্রামে জঙ্গিবাদের আষাঢ়ে গল্প তৈরী করে ইসলামোফোবিয়ার জীবাণু ছড়িয়ে সৌহার্দ্যের পরিবেশকে কলুষিত করে তুলছে।

বাংলাদেশের ইসলামী সংগঠনগুলো মজলুম রোহিঙ্গা জাতির স্বার্থে গ্রহণ করা সরকারী যে কোন উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। এক্ষেত্রে নেয়া উদ্যোগগুলোতে আঞ্চলিক গনসেন্টিমেন্টের প্রতিফলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমরা বলতে চাই, চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী চক্রের অতীতের আরোপিত মিথগুলোর ন্যায় বার্মার মুসলমানদের ব্যাপারে তাদের চালিয়ে দেয়া প্রচারণায় বিভ্রান্ত হলে তাতে সরকারের জন্য হিতে বিপরীত হবে। আমরা আন্তরিকভাবে কামনা করি সরকার এমন কোন বাস্তবতা বিবর্জিত ও বিতর্কিত এজেন্ডা ধরে না চলুক যা তার জন্য বুমেরাং হবে এবং অপরাপর সাফল্যগুলোর উপর ছায় ছিঁটিয়ে দেবে।

আমরা মনে করি, আঞ্চলিক এ সঙ্কট মোকাবেলায় ও তার তীব্রতা নিরসনে প্রধান অনুষঙ্গ হলো বাংলাদেশ। প্রজ্ঞার দাবী হলো বাংলাদেশ এমন নীতি ঘোষণা করুক, যা আরাকানের মুসলমানদের বৈধ প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রতি সাধারণ জনগনের আবেগ ও চেতনা, অধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইন, এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও ভূতাত্ত্বিক রাজনীতির কৌশল ইত্যাদী সবকিছুর সমন্বয়ে গঠিত হবে। কেননা একতরফা যেকোন সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের স্থলে শত্রুদের চক্রান্তকেই সফল করবে।

আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ নেতৃত্বসুলভ সাহস ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিলে তাতে মুসলিম বিশ্বের আকুন্ঠ সমর্থন অর্জন হবে। জনগণের আস্থা লাভেও তা সহায়ক হবে। সুতারং নিষ্পেষিত রোহিঙ্গা জাতির এ মহা দুর্যোগময় সময়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্বকীয় স্বার্থের বিপরীত ভেতর-বাহিরের কুচক্রী গোষ্টীর কথা মোতাবেক সরকার যেন কোন আত্মঘাতী এজেন্ডা থেকে সরকার বিরত থাকবে এটাই জনগণের প্রত্যাশা।