রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় আনুগত্য অগ্রহণযোগ্য: ড. এমাজউদ্দীন

133289_1রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ দল বা সরকারের আনুগত্য প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ।

তিনি সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণির স্মরণে এক শোকসভায় এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘রাজনীতির সৃষ্টিই হয়েছে জনগণের সমস্যা সমাধানে, সমস্যা সৃষ্টির জন্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘সামনে বড় দুই রাজনৈতিক দলের কাউন্সিল। আমি আশা করব কাউন্সিল নিয়ে আপনারা জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করবেন না।’

রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে এমাজউদ্দীন বলেন, ‘বিশেষ কোনো দল বা সরকারের আনুগত্য প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মনে রাখতে হবে- আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের কর্ম করছেন না। আপনারা জনগণের সেবক।’

গণতন্ত্র ছাড়া সুশাসন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘এদেশে গণতন্ত্র থাকবে না, এটা অবিশ্বাস্য। উন্নয়ন না গণতন্ত্র- এটা কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করলে উন্নয়ন হবেই। তাই জাতীয় স্বার্থে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করুন। দেশের অগ্রতি ত্বরান্বিত হবে।’

স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদীন ফারুক বলেন, ‘৫ জানুয়ারি অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনি (শেখ হাসিনা) ক্ষমতা দখল করেছেন। এতদিন আমরা বলেছিলাম, এখন প্রধান বিচারপতিও বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া আপনাকে অনেক সময় দিয়েছেন। এবার আপনি নিজেই পদত্যাগ করুন। তা না হলে জনগণ আপনাকে ছাড়বে না।’

এ সময় ফারুক পুলিশকে সকল রাজনৈতিক দলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ বা প্রভাব থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানান।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খাঁন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমতুল্লাহ প্রমুখ।