যুবক ধ্বংসের নেপথ্য

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

আতিক ফারুক


আতিক ফারুক

শত চেষ্টা, প্রচেষ্টা, আশা আর প্রত্যাশা থাকলেও পড়ালেখার মাঝামাঝি সময়ে দাম্পত্য জীবনে পদার্পণ করা সম্ভব না। তাছাড়া বয়সের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও লক্ষ্যনীয়! পিতামাতাকে ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাতে সক্ষম হলেও তারা না বোঝার ভান করে এক বাক্য বলে দেয় ‘আগে তোমার পড়ালেখা শেষ করো তারপর ইনশাআল্লাহ!’ তাদের কথায় খানিকটা লজ্জিত হলেও মনে মনে ব্যাপক পরিমাণে চিন্তিত হতে হয় আগামী দিনগুলোর জন্য। উশৃঙ্ক্ষল আর উদাসীন সমাজের বেড়াজালে আমরা এক প্রকার আবদ্ধ। শুধু আমি যে এসব বিষয়ে চিন্তিত তা নয়। গোটা যুব সমাজ আজ কিংকর্তব্যবিমূঢ়!

অনেকেই বিয়েকে নিজ পড়ালেখা আর ক্যারিয়ারের সাথে একত্রিত করে ফেলে। কিন্তু এখানে আমার কিছুটা দ্বিমত রয়েছে। পড়ালেখা নিজ চাকুরী আর ক্যারিয়ারের সাথে বিয়ের কোন মৌলিক সম্পর্ক আছে কি! আমাদের রাষ্ট্রীয় আঈননুযায়ী ২১ উর্ধ্ব যুবক আর ১৮ বছরের যুবতী পরস্পরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এই আঈন ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

কিন্তু ইসলাম কি এই আইনকে সমর্থন করে! কখনো নয়। ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের একমাত্র বৈধ পন্থা হল বিবাহ। পরিবার গঠন, সংরক্ষণ ও বংশ বিস্তারের জন্যই বিয়ে ছাড়া আর কোন বিধি সম্মত পথ নেই। এর মাধ্যমেই ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন পবিত্র ও কলূষমুক্ত হয়ে নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত হতে পারে।

ইসলাম বলে ছেলেমেয়ে যখন যৌবনে পদার্পণ করবে তখনি তাদের বিয়ে দিয়ে দাও। যুবসমাজ আজ কোন পথের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাদের জৈবিক চাহিদা কিভাবে পূরণ করছে। যেই সদ্য যৌবনে উপনীত হয়, তারই পঞ্জিভূতে শান্ত আগুন জ্বলে ওঠে। এবং শিরা-উপশিরায় তার তাপ অনুভব করে। যৌবন এমন এক জিনিস যা একজন ১৬ বছরের কিশের আর ১৮ উত্তীর্ণ যুবককেও জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনের দিকে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন উপায়ে তারা আষ্টেপৃষ্ঠে অনৈতিক আর ঘৃণ্য এক অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। আজকাল বর্ণচোরারা যাকে বলে হস্তমৈথুন! এটি এমন একটি ঘৃণিত কাজ যেটি জ্বিনার চেয়েও ভয়াবহ! এই হস্তমৈথুনের দ্বারা কি আমরা শুধু জাহান্নামের দিকেই ধাবিত হচ্ছি! নাকি আমাদের জীবন চলার পথেও বিরাট হুমকির মুখে পরছি! এই ঘৃণিত কাজটিই যথেষ্ট একজন সুঠাম দেহের অধিকারী যুবককে ধ্বংস করে দিতে। সে মানসিক-শারীরিক দিক দিয়ে ভেঙ্গে পরবে। সর্বদা বিষণ্ণতা আর বিমর্ষতা তাকে গ্রাস করে ফেলবে। এভাবেই ক্রমে ক্রমে একজন যুবক পার্থিব জীবনে হা-হুতাশে জীবন অতিবাহিত করতে থাকবে। আর পরকালে তো তার জন্য রয়েছে প্রকান্ড আযাব। সাময়িক চাহিদা পূরণের জন্য নিজেকে এভাবে ধ্বংশের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া এক প্রকারে বোকামি! একজন যুবক তো তখনই শক্তিমান, যখন সে তার সকল দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন। একজন যুবক তো তখনই দুর্দমনীয় যখন সে নিজের অবাধ্য আবেগ আর সাময়িক যৌন চাহিদা থেকে বিরত থেকে আগামী দিনগুলোর ভালো প্রত্যাশা করে আর আল্লাহকে ভয় করে।

হে যুবক, একটু ভাবুন!
ইহুদী খ্রিষ্টান আর একদল নাস্তিক মুরতাদ ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পেষণকারীরা আমাদের সরলমনা মুসলমানদের ব্রেন প্রতিনিয়ত ওয়াশ করছে নানা কৌশলে। আল্লাহ তা’য়ালা প্রতিটি মানুষকেই ভালো মন্দ বুঝার যোগ্যতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। হয়ত, কালের আবর্তনে সময়ের ব্যবধানে মানুষজন কন্টকাকীর্ণ পথে পা ফেলে সঠিকটা বুঝার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। মুসলিমরা আজ সার্বিক দিক থেকেই ইহুদী খ্রিষ্টানদের পাতানো বেড়াজালে আবদ্ধ। তার মধ্যে অন্যতম হলো অত্যাধুনকি প্রযুক্তি, এই অত্যাধুনকি প্রযুক্তির কারণেই সারা মুসলিম উম্মাহ্ ধ্বংসের দিকে পতিত। প্রযুক্তির অন্যতম যুগসূত্র হলো ইন্টারনেট আর অ্যান্ড্রয়েড ফোন। ইন্টারনেটের সুবাদে তারা সদ্য যুবতী মেয়েদের দেহের নগ্ন ছবি/ পর্ণ মুভি আপলোড করে যুবকদের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে! তাদের চিন্তা চেতনাকে মাটিতে পুতে দিচ্ছে, আর তার ভাবনায়, কল্পনার ক্যানভাসে সদা সর্বদা ভেসে ওঠে নগ্ন যুবতীদের ছবি। এসব বাজে ছবি দেখেই একজন যুবক তার যৌন চাহিদা পূরণের জন্য উন্মাদ হয়ে যায়। আর ঠিক তখনি গোপন অভ্যাস (হস্তমৈথুন) এর মতো ঘৃণ্য কাজে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পরছে অকল্পনীয়ভাবে। একটা সময় গিয়ে সে তার বন্ধুদের এসব দেখাবে সাময়িক চাহিদা পূরণের জন্য ঘৃণ্য কাজ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে , তারাও তাদের বন্ধুদের উদ্বুদ্ধ করবে। এভাবেই ক্রমে ক্রমে মুসলিম জাতি ধ্বংশের দিকে পতিত হবে। যদি আমরা মুসলমানরা এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সচেতন না হই। অপরকে সচেতন না করি, সুপ্ত থাকা মানুষদের জাগ্রত না করি। ঘোর অন্ধকারে নিপতিত মুসলমানদের আলোকময় জ্যোতি না দেখাই। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেটি মুসলমানদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জীবনের প্রতিটি পদে পদে সুস্থ, সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে চলার ছক এঁকে দিয়েছেন।

পরকালে জান্নাত পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসতে হবে! এছাড়া কোন বিকল্প নাই।
প্রকৃতপক্ষে একজন যুবককে জীবনের প্রতিটি পদে পদে কারো পরামর্শে চলা উচিৎ এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ আলেমদের সান্নিধ্য গ্রহণ করাকেই আমি যথাপুযুক্ত মনে করি।

হে প্রিয় যুবক ভাই!
নারীর চোখের তির্যক চাহনিতে মুগ্ধ হয়োনা। তার কোমল কন্ঠ শুনে বিমুগ্ধ হয়োনা। কাজল কালো চোখ দেখে অভিভূত হয়োনা। নারীর চিকন গোলাপি ঠোঁট দেখে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলোনা।
হে যুবক! এসবি ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগীর পরিমেয় স্বাদ! তবে তুমি কি পরকালের কথা স্বরণ করনা? যেখানে প্রতিটি জান্নাতি যুবকের জন্য রয়েছে হুর-গেলমান যাদের সৌন্দর্য পৃথিবীর সকল নারীদের চেয়ে উৎকৃষ্ট।
তুমি যদি এই ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগীতে সকল অনৈতিক, অপকর্ম আর সাময়িক চাহিদা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারো তবে তোমার জন্যই অপেক্ষার প্রহর গুনছে জান্নাতি হুর-গেলমান আর অপার্থিব সুখ, শান্তি।

হে প্রিয় যুবক ভাই!
তুমি কি জানো আমি তোমাকে এই উপদেশ কেন দিচ্ছি! কারণ, আমিও যে এই পথেরই পথিক। যদিও আমার মুখে এই উপদেশ শোভা পায়না। তবুও তোমাকে দিচ্ছি। কে জানে! যদি রাব্বে কারীম তোমাদেরকে এই ছোট্র উপদেশ দেওয়ার দ্বারা আমাকে এ পথ থেকে নিরাপদে রাখেন।
প্রিয় ভাই তুমিও ভাবো! পার্থিব জীবনের সাময়িক ভোগ বিলাসে নিজ সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে যেয়োনা। তার শ্বাশত বিধান আর রাসুলে আকরাম সাঃ এর সুন্নাহকে আঁকড়ে উপেক্ষা করোনা। যদি তুমি সকল অনৈতিক কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারো তবেই তুমি সফল।

হে প্রিয় ভাই!
একাকী বসে আমার বলা কথাগুলো নিয়ে ভেবো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ তা”য়ালা ক্ষামশীল এবং প্রজ্ঞাবান।
আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সকলকে উক্ত বিষয়ের উপর আমল করার তৌফিক দান করুক! আমীন।


শ্যামলাপুর, সাভার,ঢাকা
ইমেইলঃ atikfaruk593@gmail.com