ত্রাণ বিতরণ: দৃষ্টিকটু ফটোসেশন নয় মানসম্মত মিডিয়া চাই

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মাওলানা মামুনুল হক


আলহামদুলিল্লাহ, দুর্গত রোহিঙ্গা মুহাজিরদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের সকল প্রান্ত থেকেই দলে দলে মানুষ যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ভূমিকাই একচেটিয়া ৷ কথিত সুশীলরা বলতে গেলে একরকম নির্লিপ্ত ৷ তাবলীগ জামাতসহ ইসলামী সংগঠনগুলোর তৎপরতা প্রশংসনীয় ৷ তাদের এ সকল তৎপরতার সচিত্র সংবাদ বিশেষভাবে সামাজিক ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারও হচ্ছে ব্যপকহারে ৷ আর এ থেকেই আমার ক্ষুদ্র বিবেচনায় কিছু কিছু অসুন্দর বিষয় চোখে পড়ছে ৷

প্রথমেই বলে রাখি, মিডিয়ার প্রয়োজনে ক্যামেরার ছবি কিংবা ভিডিওর শরয়ী বৈধতা নিয়ে আমি বিতর্ক করছি না ৷ তবে মিডিয়ার নামে প্রচলিত ফটোসেশনগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয়, কখনো কখনো দৃষ্টিকটু, এমন কি কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো সেই সীমা লংঘিত হয়ে অমানবিক পর্যায় পর্যন্ত পৌছে যাচ্ছে বলে মনে হয় ৷

দাওয়াত ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থিরচিত্র ধারণ, ভিডিওচিত্র রেকর্ডিং এমনকি মানসম্মত ডকুমেন্টারী তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা এবং এর প্রভাব অনস্বীকার্য ৷ তবে সেটা অবশ্যই হওয়া চাই ভদ্রোচিত ও মানসম্মত উপায়ে ৷ ব্যক্তি বা ব্যনারের প্রচারণাটাই যেন মূখ্য হিসাবে দেখা না দেয় ৷ যারা কোনো সংগঠন কিংবা সংস্থার পক্ষ থেকে কাজ করছেন, যদি সেটা দাওয়াতী সংগঠন/সংস্থা হয় তাহলে সংগঠন বা সংস্থার প্রচারের ব্যবস্থা থাকা চাই ৷ কিন্তু সে ক্ষেত্রেও ব্যক্তি বা ব্যনারের প্রচার যেন দৃষ্টিকটু না হয় সেটা লক্ষনীয় ৷ আর সবচাইতে বেশি দৃষ্টি আকর্ষনের বিষয় হল, প্রচারণার সময় যেন কেউ অমানবিক না হয়ে যান ৷ মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে আগত রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভিক্ষুক নয়; বরং সন্মানিত মুহাজির মেহমান ৷ ত্রাণ বিতরণের সময় অসহায় কিন্তু সন্মানিত এ সকল মেহমানদের সন্মান রক্ষায় বিশেষ লক্ষ রাখা দরকার ৷ শুধু প্রচারনা আর কভারেজের সুবিধার জন্য শত শত কিংবা হাজার হাজার মানুষকে জমায়েত করে তাদেরকে সারিবদ্ধ করাটা ভালো দেখায় না, বরং যদি সম্ভব হয়, তাহলে তাদের কাছে গিয়ে গিয়ে বিনয়ের সাথে তাদের অধিকার পৌছে দিলে সুন্দর হয় ৷ অনেক সময় ক্যামেরা ম্যানের অপেক্ষায় ত্রাণের প্যাকেট ধরে ত্রাণ বিতরণকারী ও গ্রহিতাকে লম্বা সময় দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, এটাও দৃষ্টিকটু ৷ যিনি বা যারা বিতরণ করবেন, তারা তাদের কাজটুকু একাগ্রচিত্তেই করে যাক না! মিডিয়ার প্রয়োজন হলে ভিন্ন আয়োজন করা হোক ৷ ছবি বা ভিডিওর যথেচ্ছা ব্যবহার অবশ্যই পরিত্যাজ্য ৷ সেলফির কথা আর কিইবা বলব?

জানি না, এই কথাগুলো একটু সেকেলেই হয়ে গেল কি না! তবুও ভয়ে ভয়ে বলে ফেললাম, আমার কাছে দৃশ্যগুলো দেখে কষ্ট লাগে, বিব্রতকর মনে হয় বলে! আমার সঙ্গে কারো দৃষ্টিভঙ্গির অমিল থাকতেই পারে ৷ তবুও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সদয় বিবেচনার অনুরোধ রইল ৷


ফেসবুক থেকে