পুলিশকে দলীয় অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত করেছে সরকার: শাহ মোয়াজ্জেম

133314_1সরকার পুলিশকে দলীয় অঙ্গ সংগঠনে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাস ভবনে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা পুলিশ বিভাগকে দলীয় অঙ্গ-সংগঠনে পরিণত করেছেন। আরো অনেক প্রতিষ্ঠানকে অঙ্গ সংগঠনে পরিণত করেছেন।

তিনি বলেন, দেশের অবস্থা ভয়াবহ। সারা পৃথিবীর মানুষ দেখছেন আপনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কি করছেন। আপনি বিনা ভোটে জবর দখল করে ক্ষমতায় রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, হৃত-অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে দলের নেতাকর্মীদের খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জিয়ার সৈনিকদের দায়িত্ব নিতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যর সমালোচনা করে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, আপনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বললে মামলা দেওয়া হবে। আপনি তো মামলা বিভাগের মন্ত্রী না; পোকা খাওয়া বিভাগের মন্ত্রী।

আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি (আইনমন্ত্রী) সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বিচারপতি খায়রুল হকের রায় ঠিক আছে। সংবিধানে এ অধিকারটা দেওয়া আছে। তিনি আইনের লোক হয়ে কিভাবে বলেন। দয়া করে সংবিধানটা একটু দেখে নেবেন।’

জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান ও যুদ্ধ করেননি। তিনি আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগ করার পারমিশন দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরলে তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পরিণতিই ভোগ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

মির্জা আব্বাস ও এমকে আনোয়ারসহ অনেককে জেলে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বিএনপিতে সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা কে না জানে। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আমেরিকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারপরও তার বিরুদ্ধে মামলার পর মামলা। তিনি যদি দেশে আসেন তার কপালেও একই পরিণতি হবে, যা মির্জা আব্বাস ও এমকে আনোয়ারের কপালে হয়েছে।

ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।