খাবারের সন্ধানে সিলেট যাওয়ার পথে রোহিঙ্গা শিশু উদ্ধার

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মন্ডু গ্রামের শিশু মোহাম্মদ জিহাদুল ইসলাম (১১)। তার বর্ণনা মোতাবেক একের পর এক গ্রাম আগুন দিয়ে পোড়াচ্ছে সে দেশের সেনাবাহিনী। শুধু গ্রাম না, পোড়াচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরও। নৃশংসভাবে হত্যা করে শকুন দিয়েও খাওয়াচ্ছে। পরিবারের কোন না কোন সদস্যকে হারিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গারা শরনার্থী হয়ে উঠছে বাংলাদেশে। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশে এসেছে মোহাম্মদ জিহাদুল ইসলাম।

সে রাখাইন রাজ্যের মন্ডু গ্রামের মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের ছেলে। ৮-৯ দিন আগে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমায়। বর্ডার পারের বাংলাদেশি কোন এক লোক তাকে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে গেলে খাবার পাবে বলে জানায়। ওই লোকের কথায় গত দুই দিন আগে তাদের ২০ জনের একটি দল ট্রেন যোগে রওয়ানা দেয় সিলেটের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ফেনিতে এসে তাদের ১৯ জনই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হয়। সে কোন রকম পালিয়ে আখাউড়া পর্যন্ত এসে ড্যামু ট্রেনে উঠে। ফের একা হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ট্রেনের মধ্যে। তার কান্না দেখতে পেয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মুসলিমবাগ এলাকার সামছুল হক তার বাসায় নিয়ে আসেন।

সে আরো জানায়, তার বাবাকে গুলি করে ও মাকে গলা কেটে হত্যা করে সে দেশের সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আর প্রাণের ভয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসার সময় হঠাৎ বোম ফেটে কালো ধোঁয়ায় তার ভাই হাত থেকে ছুটে যায়। সবকিছু হাড়িয়ে জিহাদুল এখন শুন্যের কোঠায়। তার মায়ের বড় ইচ্ছে ছিল কোরআনে হাফেজ হবে সে। মায়ের ইচ্ছা পূরণ আর খাবারের সন্ধানে যাওয়া হলো না সিলেটের শাহজালালের মাজারে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ওই শরণার্থী শিশুকে থানায় নিয়ে আসতে বললে সামছুল হক আজ রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় থানায় নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদে আমাকে এসব কথা বলেন শিশু শরণার্থী।