ধর্ম যার উৎসবও তার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম |

মুহাম্মাদ আবু আখতার | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া৷


“ধর্ম যার যার উৎসব সবার” এ স্লোগানটা আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত৷ বিজাতীয় উৎসবে যোগদানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে অনেকে এ শ্লোগান দিয়ে থাকে৷ আরো সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে হিন্দুদের মুর্তিপুজার উৎসবকে সার্বজনীন রূপ দেয়ার উদ্দেশ্যে অনেকে এ শ্লোগান তোলে৷ কিন্তু ইসলামী আকীদার সাথে এ স্লোগানটি সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক৷ ইসলামে বিধর্মীদের ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা থাকলেও তাদের কোন উৎসবে যোগদান করা মুসলমানদের জন্য কঠোরভাবে নিষিদ্ধ৷ কোন মুসলমানের জন্য অন্য ধর্মাবলম্বীদের শিরক ও পাপাচারপুর্ণ ধর্মীয় উৎসবে যোগদান করার কোন অনুমতি ইসলামে নেই৷
কিছু মুসলমান সব ধর্মকেই ভালো মনে করে এবং অন্য ধর্মের উৎসবে যোগদান করা কোন দোষের বিষয় মনে করে না৷ অথচ আল্লাহ তায়ালার নিকট একমাত্র ইসলামই গ্রহণযোগ্য ধর্ম৷ এসম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে,
“নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম।”
(সুরা আলি ইমরানঃ ১৯)
ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্ম আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়৷ এ ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন ধর্ম অনুসরণ করবে তা কখনো আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে৷”
(সুরা আলি ইমরানঃ ৮৫)
ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র ধর্ম হলেও তিনি অন্যান্য সব ধর্মাবলম্বীকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছেন৷ তাই ধর্মের ব্যাপারে কারো উপর জোর জবরদস্তি করার বিধান ইসলামে নেই৷ এ সম্পর্কে পবিত্র
কোরআনে বলা হয়েছে,
“ধর্মের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই।”
(সুরা বাকারাঃ ২৫৬)
কিন্তু একথা আমাদের ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, ইসলাম অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরকে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতা প্রদান করলেও কোন মুসলমানকে তাদের উৎসবে যোগদানের অনুমতি দেয় নি৷
যেখানে আল্লাহর নাযিলকৃত আযাতের হুকুম অমান্য করা হয় বা এগুলো নিয়ে হাসি-আনন্দ বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয় সেখানে উপস্থিত থাকতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধাজ্ঞারোপ করে বলেন,
“আর আল্লাহ তায়ালা কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন তোমরা শুনবে (কোন জায়গায়) আল্লাহ তা’ আলার নাযিলকৃত আয়াতসমূহের হুকুম অমান্য করা হয় ও এসব নিয়ে হাসি-কৌতুক বা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয় তখন তোমরা তাদের সাথে(অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম অমান্যকারী ও হাসি-কৌতুককারীদের সাথে সে জায়গায়) বসবে না, যতক্ষণ না তারা অন্য আলোচনায় চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফিক ও কাফিরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।
“(সুরা নিসাঃ ১৪৹)
হিন্দু ধর্মমতে, গরু কুরবানী করা মহাপাপ৷ তাই সাধারণত কোন হিন্দুকেই গরু কুরবানীর সময় উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না৷ এটা তাদের আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয়৷ কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক নামধারী মুসলমান নিজের আত্মমর্যাদাকে বিসর্জন দিয়ে মুর্তিপুজার উৎসব দেখতে যায়৷ অথচ ইসলামে মুর্তিপুজা করা শিরকে আকবার(বড় শিরক)৷ আর শিরকে আকবর সবচেয়ে বড় পাপ৷ তাই এ পাপের উৎসবে কোন আত্মমর্যাদাবান মুসলমান উপস্থিত থাকতে পারে না৷ মুর্তিপুজা তথা শিরক এতো জঘন্য পাপ যে, আল্লাহ তায়ালা (খালেছ দিলে তাওবা করে নতুনভাবে ঈমানগ্রহণ ব্যতিত) এ পাপ কখনো ক্ষমা করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন৷
“নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে লোক তাঁর সাথে শরীক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর নিম্ন পর্যায়ের পাপ, যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করল , সে যেন (আল্লাহর প্রতি) জঘন্যতম অপবাদ আরোপ করল।”
(সুরা আন-নিসাঃ ৪৮)
শিরক তথা মুর্তিপুজা করা আল্লাহর প্রতি বিরাট জুলুম করার শামিল৷ কেননা এতে আল্লাহর হক নষ্ট করা হয়৷ তাই শিরককে আল্লাহ তায়ালা মহাজুলুম বলে সাব্যস্ত করেছেন৷ এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“যখন লোকমান (আ) উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা জুলুম।”(সুরা লোকমানঃ ১৩)
এ আয়াত অনুযায়ী যারা শিরক করে তারা জালিম৷ আর জালিমদের মজলিসে উপস্থিত থাকতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন,
“যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় লিপ্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন’ করবেন না।”
(সুরা আন’আমঃ ৬৮)
মুর্তিপুজার উৎসবে কোন মুসলমানের যোগদান করা যেমন জঘন্য পাপ তেমনি মুর্তির নামে উৎসর্গকৃত পুজার প্রসাদ খাওয়াও কঠিনতম হারাম৷ পবিত্র কোরআনে হারাম খাদ্যের বর্ণনায় আল্লাহ ব্যতিত অন্য কারো নামে উৎসর্গকৃত খাদ্যকেও হারাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷
“অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন রক্ত, শুকরের মাংস এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। অতঃপর কেউ সীমালঙ্ঘন কারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়লে তবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
(সুরা নাহলঃ ১১৫)
তাই সকল মুসলমানের উচিত, বিধর্মীদের উৎসবে বিশেষ করে মুর্তিপুজার উৎসবে যোগদান করা থেকে এবং পুজার প্রসাদ খাওয়া থেকে সম্পুর্ণরূপে বিরত থাকা৷ নিজের অধিনস্ত সন্তানদেরকেও বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনে পরিমিত শাসন করে হলেও বিজাতীয় উৎসব থেকে দুরে রাখা উচিত৷ আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলামের হুকুম অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন৷ আল্লাহুম্মা আমীন৷